১২:২২ এম
৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টির ফলে রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যায়। এতে নগরবাসী জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টির পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি ঢেউ খেলে। অফিস ছুটির পর ঘরমুখো মানুষ ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়ে। সড়কগুলোতে দেখা যায় তীব্র যানজট।
২৮ ঘণ্টায় কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারী এবং এর চেয়ে বেশি হলে অতিভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়। গতকাল রাজধানী ঢাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, নীলফামারী, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজারের টেকনাফ ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে যথেষ্ট বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায় ৮৭ মিলিমিটার।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, সোমবারেও রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকালের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
আষাঢ়ের শুরু থেকেই রাজধানীর আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও উল্লেখ করার মতো বৃষ্টি হয়নি। এই অস্বস্তির মধ্যে গতকাল বিকাল ৫টার দিকে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি নামে। মুষলধারে ঝরেপড়া বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। রাত ১০টায় রিপোর্ট লেখার সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল।
ভ্যাপসা গরমের পর এমন বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে আনন্দের ছোঁয়া প্রকাশ পেয়েছে। তীব্র গরমে বৃষ্টির শীতল হাওয়া একটি দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজধানীবাসীকে বৃষ্টি ঝরানোর আনন্দ উদযাপনের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশিত হচ্ছে।
কিন্তু বৃষ্টির এই স্বস্তি বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি; এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বেশিরভাগ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। জলাবদ্ধতায় যানজট বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমায় এবং রিকশা ও সিএনজিচালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিভিন্ন সড়কে প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে যেটুকু ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল, এ বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
বৃষ্টির কারণে কাজীপাড়া এলাকায় প্রধান সড়ক কোমর পানিতে থই থই। নিউ মার্কেট এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। গ্রিন রোডজুড়ে পানি থই থই পরিস্থিতি দেখা যায়। পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোড পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, মধ্যবাড্ডা, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি ২৭, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য পাঁচ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করে। প্রতি টিমে ১০ জন কর্মী দিয়ে ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করে। হটলাইনে (১৬১০৬), আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ে খবরপেলে সঙ্গে সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ডিএসসিসির ৯১টি দল কাজ করছে। প্রতিটি দলের ৫ জন কর্মী রয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গাডি আইজেনকট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন