০৮:৪৩ পি.এম
সরকার মোটরসাইকেল আমদানির বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে, যা দেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুখবর। এখন থেকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (সিবিএই) অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।
মবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন আমদানিনীতি আদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে। এর আগে, ২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই সীমা ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন আমদানিনীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাঝারি ও উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বাংলাদেশে আনার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
ফলে দেশের বাজারে নতুন মডেল ও ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ১৬৫ সিসির সীমার কারণে যেসব আন্তর্জাতিক মডেল আগে সরাসরি আমদানি করা সম্ভব হয়নি, নতুন নীতির ফলে সেগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
নতুন আমদানিনীতি আদেশে মোটরসাইকেল ছাড়াও সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়া সহজ ও সম্প্রসারণের জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কর্ণফুলী ওপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, তিন জেলার মানুষের স্বস্তি মিলবে
নতুন নীতিতে ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। এছাড়া, ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির সুযোগও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতি আদেশেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে এ সুবিধার ওপর নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা
নতুন আমদানিনীতি আদেশে এসব সুযোগ আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি দেশের বাইকের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে ক্রেতাদের জন্য পছন্দের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন