শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১০ পি.এম
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এই প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো ভাষণ প্রদান করেন। এরপর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
তারেক রহমানের ভাষণ আগামী বৃহস্পতিবারের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের সম্পর্কের চার দশকেরও বেশি সময়ের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, উন্নয়নের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কেন দারিদ্র্য ও ক্ষুধা অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
এই ভাষণের ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।
তিনি পরবর্তীতে আরও কয়েকবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য রেখেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও তিনি বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য রেখেছেন।
এবার, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, এবারের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মাধ্যমে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সরকারি রাস্তার ইট রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা মাও. গোলাম কুদ্দুসের নেতৃত্বে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ১ নম্বর বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় নদীকূল ঘেঁষা রাস্তা থেকে ইট তুলে ট্রলারে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার রাস্তা থেকে আনুমানিক ১ লাখ ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। কিছু ইট স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতেও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শেখ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসীর পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে মাও. গোলাম কুদ্দুসসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাও. গোলাম কুদ্দুস বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা আমার লোক। তবে এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, গোলাম কুদ্দুস আমাদের দলের সমর্থক। তবে আমি শুনেছি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, রাস্তাটি এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানি না।
আলফাডাঙ্গা থানার এসআই রতন কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তা ঠিক করার জন্য তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাস্তা ঠিক না করলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলফাডাঙ্গা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আল-আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। রাস্তা ঠিক করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তা ঠিক না করলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি: হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল আজিজ সংসদ সদস্য-৬১, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম গুরুদাসপুর-) বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুস্তম আলী হেলালী।
সভায় সহকারী শিক্ষিকা সীমা রাণীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা, জেলা বিএনপির সদস্য ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা আকমল হোসাইন, প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান,
মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের আরও দায়িত্ববান ও আন্তরিক ভুমিকা পালনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন জাতির উন্নয়নে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলেই বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন নিয়মিত পাঠদানের পড়া যখন শিক্ষক হিসেবে আপনি পড়ে যাবেন তখন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বুঝাতে আপনার সহজ হবে,শিক্ষার্থীরাও ক্লাসের প্রতি মনোযোগী হবে তবেই একজন মেধাবী ছাত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) দেশ-বিদেশ ভ্রমণের নানা আয়োজন, পর্যটনসেবায় বিশেষ ছাড় এবং আকর্ষণীয় অফারের সমাহার নিয়ে জমে উঠেছে।
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই পর্যটন মেলা আজ শনিবার শেষ দিনেও সকাল থেকেই ভ্রমণপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, আইসিসিবির তিনটি হলজুড়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও ট্যুর অপারেটরদের দেওয়া বিশেষ ডিসকাউন্ট এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজ গ্রহণ করতে বুথগুলোতে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০টি বুথে পর্যটনসেবার প্রচার ও বুকিং চলছে।
হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস এবং বিদেশি মিশনগুলোর প্রতিনিধিরা ঘুরতে আসা মানুষদের সামনে তাদের নিজ নিজ অফার তুলে ধরছেন।
ভ্রমণের অফারের পাশাপাশি র্যাফেল ড্র, বিটুবি সেশন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও মেলায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে গত সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এটিএফের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের অঞ্চলভিত্তিক পর্যটন যেমন হাওর, সুন্দরবন, নৌ-পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ও পরিবেশ পর্যটনের সম্ভাবনাকে তুলে ধরাই এবারের মেলার অন্যতম মূল লক্ষ্য। এছাড়া পর্যটন খাতে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিটুবি সেমিনার ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টাইটেল স্পন্সর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
মেলা প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এক ছাদের নিচে দেশ-বিদেশের পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারা এবং শীতের ভ্রমণের জন্য আগাম ছাড় পাওয়ার সুযোগটি তাদের বেশ উৎসাহিত করেছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত বছরের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন, লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে। তার গানে মুগ্ধ হয়ে রয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অসংখ্য শ্রোতা। প্রিয় এই শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে প্রকাশিত হলো তার কণ্ঠে গাওয়া নতুন গান ‘ফেলে আসা’। এই গানে জুবিনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের গায়িকা রত্না সাহা।
দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত থাকার পর, জুবিনের প্রয়াণ দিবসে বিশেষ গানটি প্রকাশ করেছেন রত্না। গানটির কথা লিখেছেন কলকাতার জনপ্রিয় গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সুরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আসামের সংগীত পরিচালক রিজওয়ান ইয়াসিন। সংগীতায়োজন করেছেন শুভায়ু ভট্টাচার্য।
‘ফেলে আসা’ গানের ভিডিও নির্মাণ করেছেন পাভেল মাহমুদ জয়। এতে অভিনয় করেছেন তারেক জামান তানজ ও ফাইজা ইসলাম। শিশুশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রুদ্রনীল দত্ত, তূর্যনিনাদ দত্ত ও শ্রেষ্ঠা তুলসিয়ান।
রত্না সাহা জানালেন, প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে জুবিন গার্গের সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। জুবিনের গান শুনে বেড়ে ওঠা এই গায়িকার কাছে প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে কণ্ঠ মেলানো ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। একসময় সেই স্বপ্ন পূরণও হয়। তবে গানটি প্রকাশের আগেই না ফেরার দেশে চলে যান জুবিন।
রত্না সাহা বলেন, ‘আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে এত বড় একজন শিল্পীর সঙ্গে গান গাইতে পেরেছি। আমি জুবিন গার্গ দাদার গান শুনে বড় হয়েছি। স্বপ্ন ছিল তার সঙ্গে একটি গান গাইব। সেটা করতে পেরে অনেক খুশি। তবে তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো এই সময় তার অনুভূতি জানতে পারতাম। সেটা আমার জন্য একটা বড় আক্ষেপ। তারপরও তিনি আমার জন্য যে উপহার রেখে গেছেন, এটাই আমার সংগীতজীবনের অনেক বড় পাওয়া।’
ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া রত্না সাহার সংগীতের সঙ্গে পরিচয় ছোটবেলাতেই ঘটে। তার মা পেশাদার শিল্পী না হলেও সংগীতের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা। মায়ের কণ্ঠে ভজন, কীর্তনসহ নানা ভক্তিমূলক গান শুনতে শুনতে সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় রত্নার। মাকেই তিনি নিজের প্রথম সংগীতগুরু মনে করেন।
২০২৪ সালে ‘এ কেমন মায়া’ গান দিয়ে গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রত্না সাহা। এরপর একক ও দ্বৈত—দুই ধরনের গানেই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত তার কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে ৫৬টি মৌলিক গান। আকাশ সেন, কাজী শুভ ও মাহতিম শাকিবের মতো শিল্পীদের সঙ্গেও গান করেছেন তিনি।
তবে ‘ফেলে আসা’ রত্না সাহার সংগীতজীবনের সংখ্যার তালিকায় যুক্ত হওয়া নিছক আরেকটি গান নয়। এটি তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের স্মৃতি, আর জুবিন গার্গের সঙ্গে তৈরি হওয়া এক বিশেষ সংগীত-অধ্যায়ের স্মারক। গানটি প্রকাশ পেয়েছে ‘রত্না সাহা’ ইউটিউব চ্যানেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ