ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
জরিপের তথ্য

৪ দামস্তরের আড়ালে ১২ ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেট ব্র্যান্ড বাজারে


৪ দামস্তরের আড়ালে ১২ ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেট ব্র্যান্ড বাজারে

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত চারটি দামস্তরের আড়ালে কোম্পানিগুলো ১২টি ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেটের ব্র্যান্ড বাজারে নিয়ে এসেছে। এর ফলে ভোক্তাদের জন্য ব্র্যান্ড পরিবর্তনের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের সামর্থ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে সহায়তা করছে। নিম্নস্তরে ৮টি ভিন্ন দামের সিগারেট পাওয়া গেছে, যেখানে সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের মূল্য ৯০ টাকা, যা মধ্যমস্তরের (৯২ টাকা) দামের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পরিচালিত একটি র‌্যাপিড সার্ভের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) পরিচালিত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা গত মাসে সম্পন্ন হয়।

তামাকবিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, সিগারেটের স্তরসংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৪টি থেকে কমিয়ে ১টিতে নিয়ে আসা উচিত। এর ফলে দাম বাড়লে ভোক্তারা কমদামি বা সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোন ব্র্যান্ড বেছে নেয়ার সুযোগ হারাবে।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে জমি বিরোধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, বিচার দাবি

বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, একক মূল্যস্তরে দাম ও করবৃদ্ধির কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যায়, বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সিগারেট ছাড়তে উৎসাহিত হয় এবং নতুন করে সিগারেট ধরতে নিরুৎসাহিত হয়। তবে বর্তমানে ১২টি পৃথক দামে সিগারেট কেনার সুযোগ থাকায়, কর ও দাম বৃদ্ধি সিগারেটের ব্যবহার হ্রাসে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। ক্রটিপূর্ণ সিগারেট করকাঠামো এজন্য দায়ী।

জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকার প্রতিটি মূল্যস্তরের সাথে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি ব্যবহার করে কার্যত মূল্য সীমা বা প্রাইস রেঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করেছে সিগারেট কোম্পানিগুলোকে। যেমন- নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে এটি ৬৫ ও তদূর্ধ্ব এবং মধ্যমস্তরের ক্ষেত্রে ৯২ ও তদূর্ধ্ব। অর্থাৎ কোম্পানি শুধুমাত্র নিম্নস্তরেই ৬৫ টাকা থেকে শুরু করে ৯১ টাকা পর্যন্ত যেকোন মূল্যে (প্রাইস পয়েন্ট) সিগারেট বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছে। এভাবে প্রিমিয়াম স্তর পর্যন্ত অসংখ্য প্রাইস-পয়েন্টে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

জরিপের সুপারিশে বলা হয়েছে, মূল্যস্তরগুলোর সাথে ‘তদূর্ধ্ব’ লেখা বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একটি এককমূল্য নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে স্তরসংখ্যা একটিতে নামিয়ে আনা হলে, কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সঠিকভাবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরাতে সৌদি আরবের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরাতে সৌদি আরবের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মৃতদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য সৌদি আরবের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই অনুরোধটি জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর আবিয়াহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এই অনুরোধ করেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হামলায় আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও সেবার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকের সময় শামা সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৌদি সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রাণহানির জন্য শোক জানান।

তিনি উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সংলাপ ও কূটনীতিই হওয়া উচিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পথ।"

সৌদি রাষ্ট্রদূত এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান

মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া, ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন বিভাগে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আগামী ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। পাশাপাশি, ১৭ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘লালন স্মরণানুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লালন সাঁইয়ের গান, দর্শন এবং মানবতাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করা হচ্ছে। জাত-ধর্মের বিভাজন অতিক্রম করে মানুষের পরিচয় এবং মানবসত্তার অনুসন্ধানে লালনের দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহা. হারুন-অর-রশীদ।

সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশনায় অংশ নেবেন দেশের প্রথিতযশা লালনশিল্পী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী এবং বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর শিল্পীরা।

এছাড়া, একই দিন বিভাগীয় এবং অন্যান্য জেলায় লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, স্মরণানুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা পাবেন নাগরিকত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা পাবেন নাগরিকত্ব

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধন উপলক্ষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি এই তথ্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

বনগাঁ ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অতীতে নির্বাচনি প্রচারে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেছেন।

দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তিনি বলেন, সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। তার আশ্বাস, নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আবারও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে তিনি কতজন আবেদনকারী সনদ পেয়েছেন, কতজনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নতুন করে কতজনকে সনদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।

নাগরিকত্বের বিষয় ছাড়াও দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনকারীদের একাংশকে তিনি ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলি ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি নকশালদের থেকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বনগাঁ এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার ৭২ হাজার নারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যারা এখনও এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি, তাদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্ত শহর বনগাঁয় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, এই এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা, এই তিনটি বিষয়ই এদিনের অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

তবে নাগরিকত্বের সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, তা আবেদন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না, এমনটি জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তা—কোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত দেবেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অংশে থাকা কিছু নীতি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%