প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধন উপলক্ষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি এই তথ্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।
বনগাঁ ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অতীতে নির্বাচনি প্রচারে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেছেন।
দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তিনি বলেন, সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। তার আশ্বাস, নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আবারও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে তিনি কতজন আবেদনকারী সনদ পেয়েছেন, কতজনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নতুন করে কতজনকে সনদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।
নাগরিকত্বের বিষয় ছাড়াও দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনকারীদের একাংশকে তিনি ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলি ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি নকশালদের থেকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বনগাঁ এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার ৭২ হাজার নারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যারা এখনও এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি, তাদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্ত শহর বনগাঁয় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, এই এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা, এই তিনটি বিষয়ই এদিনের অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।
তবে নাগরিকত্বের সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, তা আবেদন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন