০২:৩৮ পি.এম
নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ভ্যানগাড়ি উল্টে মো. স্বপন (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। কাঠ ও ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান। এ সময় তাঁর চার বছরের মা-হারা ছেলে নাঈম গুরুতর আহত হয়ে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর, আহত শিশু নাঈমের চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর নগদ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা পাঠিয়েছেন। বুধবার দুপুরে, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ ওই অর্থ নিহত স্বপনের বাবার হাতে তুলে দেন।
ইউএনও আশিক আহমেদ বলেন, "দুর্ঘটনায় শিশুটি গুরুতর আহত হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসন শিশুটির পরিবারের পাশে থাকবে" বলেও আশ্বাস প্রদান করেন।
নাঈমের চাচা মো. সাদ্দাম বলেন, ‘আমার ভাই আর নেই। তাঁর চার বছরের ছেলেটা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। নাঈমের কান দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর রক্ত বের হচ্ছে। বাম পায়ের নিচের অংশের হাড় ভেঙে গেছে। মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে।’
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শীতলা মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নাঈমের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তাঁর এই সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি নাঈমের উন্নত চিকিৎসায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। রাতে শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন সহায়তা পাওয়ায় ভালো চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করতে পারব।’
সাদ্দাম আরও জানান, প্রায় আট মাস আগে নাঈমকে রেখে তার মা অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে স্বপন ছেলেকে সবসময় সঙ্গে রাখতেন। কোথাও যাওয়া কিংবা কাজের সময়ও নাঈম বাবার সঙ্গেই থাকত। ‘আজ সেই বাবাটাও নেই’—বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন স্বপন সোহাগদল উপজেলার বছরাকাঠি এলাকার একটি কাঠের দোকান থেকে চেরাই কাঠ ভ্যানগাড়িতে বোঝাই করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট ছেলে নাঈম। হাজীরপুল এলাকায় স্টিলব্রিজের উঁচু অংশে ওঠার সময় হঠাৎ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালের পাড়ে রাখা গোলকাঠের ওপর উল্টে পড়ে। এতে ভ্যানসহ ভ্যানে থাকা কাঠের নিচে চাপা পড়েন স্বপন। গুরুতর আহত হয়ে নাঈম পাশের দিকে ছিটকে পড়ে। পরে তাঁদের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক স্বপনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত নাঈমকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত স্বপনের মেয়ে সুবর্ণা বলেন, ‘নাঈম আমার ছোট ভাই, আর নিহত ব্যক্তি আমার বাবা। আমাদের মা নেই। তাই বাবা সবসময় ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হতেন। মা আগেই চলে গেছে, শেষমেশ বাবাও চলে গেল। এখন আমার ভাইটাও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুবর্ণা আরও বলেন, ‘এমপি সাহেবের সহায়তা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও পড়ুন: কাঠালিয়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন কৃষকরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ সিফাতের নিরলস প্রচেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন