০৭:৪৮ পি.এম
সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সীমান্তে পুশইন, চোরাচালান ও নানা সংকটের মধ্যে এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিলোনিয়া আইসিপি এলাকায় অনুষ্ঠিত এ নিয়মিত বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান বন্ধসহ সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জাসাস এর নেতৃবৃন্দের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জাসাস নেতাকর্মী
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মজুমদারহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলোনিয়া আইসিপিতে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমানের সাথে পাঁচজন কর্মকর্তা এবং ১৫ জন অন্যান্য পদবির সদস্য অংশ নেন। অন্যদিকে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির সাথে নয়জন সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, সাক্ষাতে দুই পক্ষই একমত হয়েছে যে সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান, বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধে উভয় পক্ষ সহযোগিতা করার ব্যাপারে আলোচনা করেছে।
বৈঠকে আলোচনা করা হয় যে সীমান্তের যেকোনো সমস্যা প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা হবে। যদি কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সমাধান সম্ভব না হয়, তবে অধিনায়ক পর্যায়ে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তের জমি নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সাথে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধানের প্রয়াস চালানো হবে। এই প্রয়োজনে উভয় পক্ষ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান এ ব্যাপারে জানান, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের নানা বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যাপারে কথাবার্তা হয়েছে। পুশইন বন্ধের বিষয়েও তাদের জানানো হয়েছে এবং এতে উভয় পক্ষের থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাত নারী-শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় ওই সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ পরে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
পরবর্তী দিনেই একই উপজেলার কেতরাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ফের বিএসএফের সহায়তায় এক নারী ও তিন শিশুসহ মোট চারজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। সেদিনও বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে আবাসন সংকট, ২৩–২৪ অক্টোবর হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন