রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) উয়েফাকে অনুরোধ করেছিল যে, তারা যেন ইসরায়েলকে নেশন্স লিগে একই গ্রুপে না রাখে। কিন্তু ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফেব্রুয়ারির নেশনস লিগ ড্র-তে উভয় দলকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, তারা ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর মুখোমুখি হবে।
এফএআই-এর প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল শুক্রবার জানান, তারা উয়েফাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ড এবং ইসরায়েলকে একই গ্রুপে না ফেলা হয়।
শনিবার উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, “কোনো দলকে একে অপরের বিপক্ষে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে, বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকলে।”
“প্রতিটি পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয় এবং সব তথ্য ও উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করা হয়।”
কোরেল জানান, উয়েফা তাদের জানিয়েছে যে এমন ব্যবস্থা সম্ভব নয়, কারণ আয়ারল্যান্ড এবং ইসরায়েল কখনো সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি।
ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলে, আদৌ কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছিল কি না।
তবে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসেসিয়েশনের যোগাযোগ প্রধান শ্লোমি বারজেল বলেন, “প্রশ্নটা উয়েফা-এর কাছে করা উচিত—এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ছিল কি না, নাকি এটি কেবল আরেকটি গুরুত্বহীন মন্তব্য?”
তিনি যোগ করেন, “আমরা অনেক আগেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মন্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করেছি। এখন আমরা মাঠে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পেশাদার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছি।”
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল গণহত্যা চালানোর কারণে আয়ারল্যান্ডে এই ম্যাচগুলো নিয়ে বিতর্ক চলছে।
গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসেসিয়েশনের সদস্যরা বিপুলভাবে ভোট দিয়ে বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন উয়েফা-কে ইসরায়েলকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
এ বছরের মে মাসে শীর্ষ আইরিশ ফুটবলার ও সেলিব্রিটিরা ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানান।
আয়ারল্যান্ডের নির্ধারিত হোম ম্যাচ (৪ অক্টোবর) ডাবলিনে নয়, সার্বিয়ার বাকা টোপোলায় দর্শকশূন্যভাবে মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের হোম ম্যাচ (২৭ সেপ্টেম্বর) হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে হবে, যেখানে আইরিশ সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ থাকবে না।
এটি নির্দেশ করে যে, আয়ারল্যান্ড–ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিতর্ক উয়েফা-কে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ওপর শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একইসাথে অধীনস্ত দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত সব মাদরাসায় অবিলম্বে ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে জারি করা এই নির্দেশনায় ইসলাহী ও তারবিয়াতি কার্যক্রম জোরদার এবং মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদরাসায় ছাত্র নির্যাতন ও কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত সংবাদ ও অভিযোগ প্রচারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণ, কোনোভাবেই প্রতিশোধ নয়, এবং রাগের অবস্থায় কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। শাসনের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রথমে নম্র সতর্কতা, প্রয়োজনে মৃদু ভর্ৎসনা ও এরপর রাগ-ধমকের সুযোগ রাখা হলেও একান্ত অপরিহার্য পরিস্থিতিতে সর্বশেষ ধাপ হিসেবে অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত করে অভিভাবকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ছাত্র ও ছাত্রীকে শাস্তিস্বরূপ প্রহার করা যাবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল-মাথা বা স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করা এবং হাড় ভাঙা, রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টিকারী যেকোনো ধরনের শাস্তিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমান করা, গালমন্দ করা, তিরস্কার করা, কটু ভাষা বা ঘৃণাসূচক উপনামে সম্বোধন এবং অন্য যেকোনো মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণকেও পরিহারযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরীয়ত ও প্রচলিত বিধি উভয় দৃষ্টিতে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া এই নির্দেশনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অপরাধ বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে কোনোরূপ প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের নীতি।
একইসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া উল্লেখ করেছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ভিত্তিতে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের দায় মাদরাসা, বোর্ড বা সামগ্রিক আলেম-উলামা ও ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ৬৯তম সভা এবং এর আগে ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সাবকমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। নির্দেশনা তৈরিতে হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ও শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীসহ উলামায়ে দেওবন্দের তা‘লীম-তারবিয়ত সংক্রান্ত রচনাবলি এবং প্রসিদ্ধ দীনি প্রতিষ্ঠানসমূহের ফতোয়ার অনুসরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্র ও ছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি মাদরাসায় এই কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে তা সক্রিয় রাখতে হবে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে যেকোনো অসদাচরণ, নির্যাতন বা হয়রানির অভিযোগ কমিটির কাছে পেশ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পেশ করতে হবে এবং গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে তদন্তকালীন সময়ে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে। কোনো মাদরাসায় এই কমিটি না থাকা, নিষ্ক্রিয় থাকা বা অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা না নেওয়া প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট মাদরাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শাসনের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দেশনায় প্রতিটি মাদরাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহী মজলিস আয়োজন, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি মজলিসের ব্যবস্থা এবং অভিভাবক-সমাবেশের আয়োজন বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক জোরদার হয় এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধে আল-হাইআতুল উলয়া প্রতিটি বোর্ডকে নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসার কার্যক্রম তদারকির জন্য পৃথক মাদরাসা মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য পৃথক হটলাইন চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
কোনো অভিযোগ পাওয়ামাত্র বোর্ড, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও সুরক্ষা কমিটিকে সমন্বিতভাবে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর চরিত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়েও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মিথ্যা অপবাদ, ভিত্তিহীন সংবাদ বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষিকা, মুহতামিম বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বোর্ডসমূহের আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ (হোয়াটসঅ্যাপ)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় দেশের সকল বোর্ড ও অধিভুক্ত মাদরাসাকে অবহিত করে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান মিলে যে ‘মক্কা জোট’ প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছার ভিত্তিতে জোটটির কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। খুব শীঘ্রই এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হবে।
হাকান ফিদান পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গঠিত নয়। বরং এটি লক্ষ্য করে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলো যেন নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারে এবং নিজেদের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং দেশটির ওপর হামলা প্রতিরোধে আঙ্কারা সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ইসরাইল বা ভারতের মতো দেশগুলো এই উদ্যোগকে যেভাবে ‘কাগজে-কলমে বন্দি’ বলে সমালোচনা করছে, তা তিনি হাস্যকর মনে করেন। ফিদানের মতে, তাদের এই বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে মক্কা জোট কতটা প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।
গাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অস্থিরতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ফিদান অভিযোগ করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য গাজা ও সিরিয়ায় একের পর এক সংকট সৃষ্টি করে চলেছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আঙ্কারা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি, সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির পুনর্গঠনে তুরস্ক কাজ করছে এবং ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে বিশ্ব রাজনীতির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন ফিদান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সম্পর্ক উন্নয়ন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে শস্য সরবরাহ বজায় রাখা এবং গ্রিসের সঙ্গে এজিয়ান সাগরের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে তুরস্কের কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে ভবিষ্যতের একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই নতুন যুগে নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে তুরস্ককে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার ও নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তুলতে হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগের চলমান কর্মসূচি ও অপতৎপরতায় জনগণ এবং সরকার মোটেও শঙ্কিত নয়।
তিনি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন, যেখানে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ককটেল বিস্ফোরণ এবং পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তথাকথিত লকডাউন কর্মসূচির কারণে এ অপতৎপরতা সংঘটিত হয়েছে। ককটেলবাজির ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। তিনি জানান, জনগণ এবং সরকার এসব অপতৎপরতায় মোটেও শঙ্কিত নয় এবং দেশবাসী ইতোমধ্যে এদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চগুলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
মন্ত্রী রাজনীতিতে জনমতের মাধ্যমে সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতই গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত শুক্রবারে তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সেই ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুসারে তারা ইত্তেহাদুল উম্মাহ নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।
মন্ত্রী উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং রোজ রোববার টাঙ্গাইলে ২০ ঘন্টার ব্যবধানে আবারও ছোরমান রেজা নামের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন এলাকার পরিত্যাক্ত ফিলিং স্টেশনে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সোরমান রেজা ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য।
ছোরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ.এম.মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আসি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মুল রহস্য জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ