প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান মিলে যে ‘মক্কা জোট’ প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছার ভিত্তিতে জোটটির কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। খুব শীঘ্রই এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় চালু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হবে।
হাকান ফিদান পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গঠিত নয়। বরং এটি লক্ষ্য করে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলো যেন নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারে এবং নিজেদের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং দেশটির ওপর হামলা প্রতিরোধে আঙ্কারা সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ইসরাইল বা ভারতের মতো দেশগুলো এই উদ্যোগকে যেভাবে ‘কাগজে-কলমে বন্দি’ বলে সমালোচনা করছে, তা তিনি হাস্যকর মনে করেন। ফিদানের মতে, তাদের এই বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে মক্কা জোট কতটা প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।
গাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অস্থিরতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ফিদান অভিযোগ করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য গাজা ও সিরিয়ায় একের পর এক সংকট সৃষ্টি করে চলেছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আঙ্কারা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি, সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির পুনর্গঠনে তুরস্ক কাজ করছে এবং ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে বিশ্ব রাজনীতির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন ফিদান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সম্পর্ক উন্নয়ন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে শস্য সরবরাহ বজায় রাখা এবং গ্রিসের সঙ্গে এজিয়ান সাগরের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে তুরস্কের কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে ভবিষ্যতের একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই নতুন যুগে নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে তুরস্ককে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার ও নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তুলতে হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন