বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৯ পি.এম
বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটার শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক ‘আলেয়া’ মঞ্চায়ন করেছে। ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমিতে চলমান নয়দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের চতুর্থ দিন বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটি প্রদর্শিত হয়।
দ্রোহ, প্রেম, চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। নাটকের মূল বিষয় হলো ত্রিভুজ প্রেম, প্রেমের স্বরূপ এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও তার ট্র্যাজিক পরিণতি।
নাটকের কাহিনী রাজা মীনকেতু, চন্দ্রকেতু এবং অন্য রাজ্যের রানী জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এছাড়া কৃষ্ণা, উগ্রাদিত্যসহ আরও কিছু চরিত্র নিয়ে নজরুলের অমর সৃষ্টি ‘আলেয়া’ রচনা করা হয়েছে। নাটকে জয়ন্তী একটি আকর্ষণীয় ও জাদুকরী নারী চরিত্র। তার প্রেমের ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা চারপাশের পুরুষ চরিত্রগুলোকে মোহিত ও বিভ্রান্ত করে। মরুভূমির মরীচিকা বা ‘আলেয়া’ যেমন দূর থেকে আলো দেখায় কিন্তু কাছে গেলে তার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা স্থায়িত্ব মেলে না, তেমনি জয়ন্তীর প্রেম ও আচরণ চারপাশের মানুষদের জন্য আলেয়ার ছলের মতো ধোঁয়াশাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে। প্রেমের এই রূপ ও স্বরূপ খুঁজতে গিয়ে এবং জয়ন্তীর অনিশ্চিত আবেগের নাগাল পেতে গিয়ে চরিত্রগুলোর জীবনে চরম হতাশা ও ট্র্যাজেডি নেমে আসে। নজরুল এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজ ও প্রথার ঊর্ধ্বে গিয়ে বা আবেগের বশে মানুষ ভালোবাসার পিছে ছুটে বিভ্রান্ত হয়।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের নিয়মিত অভিনয় শিল্পীরা। ১৯৩১ সালে প্রকাশের পর ওই বছরই প্রথম মঞ্চস্থ হয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রূপকধর্মী গীতি-নাট্য বা নাটক ‘আলেয়া’।
প্রথমে এর নাম দেওয়া হয়েছিল 'মরুতৃষ্ণা', যা পরে পরিবর্তন করে ‘আলেয়া’ রাখা হয়।
সন্ধ্যা সাতটায় নাটক মঞ্চায়নের আগে উৎসবের অংশ হিসেবে বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের বাইরের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উৎসবের পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে একই মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হবে আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজিত এবং মামুনুর রশীদ রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘কম্পানি’। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার শেষ হবে নয়দিনের এই নাট্যোৎসব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসাথে উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
বুধবার বিকেলে বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
আমিনুল হক উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজও চলছে।
তিনি বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, বগুড়ায় দ্রুত একটি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
খেলার মাঠে দর্শকদের বসার জায়গার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠের চারপাশে দ্রুত গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সেই গ্যালারিতে বসে দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
আমিনুল হক নিজের পুরোনো স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি নিজে এই মাঠে খেলেছিলেন। সেই মাঠে আবার ফাইনাল ম্যাচের খেলায় উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি সত্যিই আনন্দিত।
দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সন্তানদের ডিভাইসের হাত থেকে দূরে রাখতে চাই।" পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দর্শক সারিতে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আমরা সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ, মাদকমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।"
জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বগুড়া সিটি করপোরেশন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেনবাগ পৌরসভা যুব জামায়াত সড়কের গর্তে ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করেছে।
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরশহরের দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও গর্তে ভরা সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তুলেছে সেনবাগ পৌরসভা যুব জামায়াত। মঙ্গলবার বিকেলে সেনবাগ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে উপজেলা গেট হয়ে সরকারি হাসপাতাল ও জিস চৌধুরী বিল্ডিং সংলগ্ন মায়া হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গর্তে ইটের আধলা ফেলে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই উদ্যোগটি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করেন সেনবাগ পৌরসভা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন আলো।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটির বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর ফলে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কটির পুনর্র্নিমাণকাজ শুরু হলেও গত কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় সাময়িকভাবে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সেনবাগ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াছিন করিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌর জামায়াতের আমির ইয়াসিন মিয়াজী, জামায়াতে ইসলামী যুব শাখার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান পাটোয়ারী, ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আবু শাকের, পৌর যুব শাখার সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, যুব শাখার সেক্রেটারি ইলিয়াসসহ জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা ইয়াছিন করিম মন্তব্য করেন, সড়কের প্রায় ৫০ গজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সাময়িকভাবে গর্তগুলো ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের গর্তে ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সবুজ বাংলাদেশ গড়া, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জেলার বিজয়নগরে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে চারা তুলে দেওয়া হয়।
কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন তরী বাংলাদেশ বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সাদেকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তরী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহেল রানা ভুঁইয়া ও সুশান্ত পাল, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম এবং উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন।
এ সময় সংগঠনের সদস্য কাজী লোকমান হোসেন, রুবেল মিয়া, শাহজাহান সরকার, কামরুল ইসলাম, জুনায়েদ হাসান, অপু চন্দ্র ও রুমেনা বেগমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোহেল রানা ভুঁইয়া বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক দায়িত্ব নয়, এটি সম্মিলিত নৈতিক দায়বদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ববোধও তাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে চাই।
তিনি বলেন, পরিবেশ, নদী-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরী বাংলাদেশের জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণও জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালসমূহে শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত মিড ডে মিল নিরাপদ খাদ্য র্কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে।
আজ বুধবার উপজেলার নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত দুধ এবং পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা নেয়ামুল হাসান নীপ জানান, ল্যাবরেটরিতে দুধের ডিটারজেন্ট, স্টার্চ, ফরমালিন এবং পানি পরীক্ষা করে কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পাউরুটিতে ক্ষতিকর পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ উভয় পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমান ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. সাগর আলী এবং নাটোর জেলা কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী মো. বাপ্পারাজ পরীক্ষা কার্যক্রম সহায়তা প্রদান করেন।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে মিড ডে মিলের মান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
উল্লেখ্য, গুরুদাসপুর উপজেলার ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ হাজার ৫৩০ জন শিক্ষার্থীকে মিড ডে মিল প্রদান করছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ