ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে


চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে গুলিবিদ্ধ হন মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে গুলির পর আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। তবে, বর্তমানে তিনি জীবিত আছেন কিনা বা মারা গেছেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলাম ওরফে নেংটের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলামসহ সাতজন সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে যান। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়েন। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, সঙ্গে থাকা অন্যরা পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার

ঘটনার সময় মনিরুলের সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তিরা হলেন— কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।

হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে সিলেটের সড়কে প্রাণ গেল ২৭ জনের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি ফাইনালে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, সুমন আহমেদ ম্যাচসেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ এম


ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি ফাইনালে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, সুমন আহমেদ ম্যাচসেরা

ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেটের সিজন থ্রির ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ লয়ার্স ক্রিকেট ক্লাবকে (বিএলসিসি) ২৬ রানে পরাজিত করে শিরোপার মঞ্চে পৌঁছেছে দলটি। এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সুমন আহমেদের ব্যাটিং দক্ষতা এবং শেহজাদ আকবর সোবহান ও লাজিমের বল হাতে কার্যকর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

শুক্রবার টস জিতে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতেই তারা ওপেনার মাঈনকে হারিয়ে ৮ রানে ধাক্কা খায়। এরপর খালিদ মাসুদ ও সুমন আহমেদের ব্যাটিংয়ে দলটি ঘুরে দাঁড়ায়। খালিদ ৩৫ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ রান করেন। অন্যদিকে, সুমন আহমেদ ৪৯ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করে ম্যাচসেরা হন।

শেষ দিকে অন্তু ১৯ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৪ রানের সংগ্রহ গড়ে। বিএলসিসির পক্ষে আল আমিন শুভ ৩টি এবং সৈকত খান ২টি উইকেট নেন।

১৮৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে বিএলসিসি শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ইমরান ২০ এবং একরামুল হক ৩২ রান করে দলের জন্য লড়াই চালিয়ে যান, কিন্তু তারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। শেষ দিকে আল আমিন শুভ ২১ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, তবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান করতে সক্ষম হন।

বসুন্ধরার হয়ে লাজিম ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, এবং শেহজাদ আকবর সোবহান, তাপস ঘোষ, জনি, শোভন ও মাঈন একজন করে উইকেট শিকার করেন। সুমন আহমেদ অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। এই জয়ের মাধ্যমে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেটের সিজন থ্রির ফাইনালে প্রবেশ করে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের অধিনায়ক শেহজাদ আকবর সোবহান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ এম


কম ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন

সাধারণভাবে সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে, এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। কিছু মানুষ মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও সারাদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি তেমন দেখা যায় না। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর ইমিউনোলজির অধ্যাপক অ্যামি পিউ বার্নার্ড এমন একজন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তুলনামূলকভাবে কম ঘুমিয়েও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রেখেছেন। সাধারণত রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যান এবং ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে জেগে ওঠেন। কখনো ঘুমাতে দেরি হলে তার ঘুমের সময় পাঁচ ঘণ্টায় নেমে আসে।

তারপরও সকালে ঘুম থেকে উঠে কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে যাওয়া, এক ঘণ্টা ব্যায়াম করা এবং সকাল ৮টার আগেই দেড় ঘণ্টার কাজ শেষ করার মতো কর্মব্যস্ত রুটিন বজায় রাখেন তিনি। মজার বিষয় হলো, তার বাবা ও ভাইয়ের মধ্যেও একই ধরনের কম ঘুমানোর প্রবণতা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকদের কাছে রক্তের নমুনা পাঠান বার্নার্ড। পরীক্ষার পর জানা যায়, তার শরীরে এমন একটি বিরল জিনগত পরিবর্তন রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমানোর সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কম ঘুমের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য

বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে ‘ফ্যামিলিয়াল ন্যাচারাল শর্ট স্লিপ’ বা এফএনএসএস নামে অভিহিত করেছেন। যাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকে, তারা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে গেলেও অন্যদের তুলনায় অনেক আগে জেগে ওঠেন। তাদের দৈনিক ঘুমের পরিমাণ সাধারণত চার থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

এ পর্যন্ত গবেষকেরা এফএনএসএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন। গবেষক দলের নেতৃত্ব দেওয়া আণবিক জীববিজ্ঞানী ইং-হুই ফু জানান, এসব মানুষের বিশেষত্ব হলো, কম সময় ঘুমিয়েও তারা স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে পারেন। যদিও এর পেছনের পুরো প্রক্রিয়া এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু জিনগত পরিবর্তন ঘুমের সময় কমানোর পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও শরীরকে সুরক্ষা দিতে পারে।

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব

এফএনএসএস নিয়ে গবেষণায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সম্পর্কেও আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালে ইং-হুই ফুর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে এফএনএসএসের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন ঘটানো হয়। এতে দেখা যায়, কম ঘুমানোর পরও এসব ইঁদুরের স্মৃতিশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। অন্য একটি পরীক্ষায় একই ধরনের কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য আলঝেইমারস রোগের মতো অবস্থার ঝুঁকি কমাতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় যমজ দুই ভাইয়ের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাদের একজনের মধ্যে কম ঘুমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন থাকলেও অন্যজনের মধ্যে তা ছিল না।

গবেষণায় দেখা যায়, জিনগত পরিবর্তন থাকা ভাইটি নিয়মিত অন্য ভাইয়ের তুলনায় প্রায় এক ঘণ্টা কম ঘুমাতেন। পরবর্তী সময়ে দুজনকে একটানা ৩৮ ঘণ্টা জাগিয়ে রাখার পরীক্ষায় কম ঘুমানো ভাইটির মনোযোগ ও কাজের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বেশি অক্ষুণ্ন ছিল। অন্য ভাইয়ের তুলনায় তার কর্মক্ষমতার ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ কম দেখা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, কম সময় ঘুমালেও তার গভীর ঘুমসহ নন-র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট বা নন-আরইএম ঘুমের পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, কম সময়ের মধ্যেও তিনি ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যায় পর্যাপ্তভাবে সম্পন্ন করতে পারছিলেন।

ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রাকৃতিকভাবে কম ঘুমানোর পেছনে কাজ করা জিনগুলো কীভাবে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে, তা জানা গেলে ভবিষ্যতে ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসায় নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পথ খুলতে পারে। এমনকি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কম ঘুমিয়েও কর্মক্ষম রাখার গবেষণাতেও এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ইং-হুই ফু। তার মতে, জিনগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ঘুমের ঘাটতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে, তা আগে ভালোভাবে বুঝতে হবে। যথাযথ জ্ঞান ছাড়া এই প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ওষুধ তৈরি করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে আলঝেইমারস, পারকিনসনস কিংবা ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঘুমের সময় নির্ধারণে জিনের প্রভাব

শুধু বিরল জিনগত পরিবর্তন নয়, মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের সময় নির্ধারণেও অসংখ্য সাধারণ জিনের ভূমিকা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ব্যক্তিভেদে ঘুমের সময়ের পার্থক্যের ৩০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত জিনগত কারণে হতে পারে। এ পর্যন্ত ঘুমের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েক শ জিনগত অঞ্চল শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রায় ২৪৪টি জিনগত অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলো ঘুমের সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি; প্রিপ্রিন্ট হিসেবে রয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও কিংস কলেজ লন্ডনের জিনতত্ত্ববিদ ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জিনগত পরিবর্তনের প্রতিটির প্রভাব খুবই সামান্য। একটি পরিবর্তনের কারণে ঘুমের সময়ের পার্থক্য প্রায় এক মিনিট হতে পারে। তবে সবগুলো জিনগত বৈচিত্র্যের সম্মিলিত প্রভাবে একজন মানুষের ঘুমের সময় অন্যজনের তুলনায় প্রায় ২০ মিনিট কম বা বেশি হতে পারে।

কম ঘুমানোর জিনগত প্রবণতা সব সময় উপকারী নয়

কম ঘুমানোর জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকলেই যে তা সব ক্ষেত্রে ভালো ফল বয়ে আনবে, এমন নয়। এ বিষয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক চিয়ারা পেত্রোসেলিনির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ৩৪৩ জন মায়ের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাদের প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা ছিল গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কম ঘুমানোর প্রবণতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রসবোত্তর সাইকোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে কম প্রবণতাসম্পন্ন নারীদের তুলনায় অর্ধেক।

অনিদ্রার ক্ষেত্রেও গবেষকেরা একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করেন। তাদের ধারণা, জীবনের আগের পর্যায় থেকেই ঘুমের ব্যাঘাতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় সন্তান জন্মের পর ঘুমের সমস্যা এসব নারীর মেজাজ ও মানসিক অবস্থার ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অন্য গবেষণায় কম ঘুমের প্রবণতার সঙ্গে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যান ও তার দলের গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণভাবে কম ঘুমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য অনিদ্রা, ক্লান্তি এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এডিএইচডি, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস।

গবেষকদের বক্তব্য, মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয়তা জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কেউ পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সতেজ থাকেন বলে সবার জন্য কম ঘুমানো উপকারী—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রকৃতিগতভাবে কম ঘুমানোর সক্ষমতা যাদের রয়েছে, তারা মূলত একটি বিরল ব্যতিক্রম। তাই নিজের ঘুমের সময় কমিয়ে ফেলার আগে মনে রাখা জরুরি, অভ্যাসের কারণে ঘুম কম হওয়া আর জিনগতভাবে কম ঘুমিয়েও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা এক বিষয় নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিনসহ ৩০ নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ এম


চাঁদপুরে পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিনসহ ৩০ নেতাকর্মী আটক

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদসহ ৩০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান কাউসার, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুন্না, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন রনি, বাগাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন এবং যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও সদর উপজেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদকে চাঁদপুর শহরের পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামদী এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্য নেতাকর্মীদের আটক করে।

এর আগে শুক্রবার চাঁদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের একটি ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস/এনসিপি) পৃথক পৃথক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল হাসান মুন্নাকে তার নিজ বাসভবন, পৌর ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন রনিকে শহরের ট্রাক রোড এলাকা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল হাসান কাউসারকে গুণরাজদী এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর আগে বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগাদী ইউনিয়নের বাঘড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেনকে আটক করার চেষ্টা করে। সে সময় স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালান বলে পুলিশ জানায়।

চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাতভর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শনিবার আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মন্তব্য করেছেন যে, মওদুদীবাদ সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করার মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর দ্বিন আমাদের দ্বিন নয়, জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম, আমাদের ইসলাম নয়।’

এ মন্তব্যগুলো তিনি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বিনি মহাসম্মেলনে করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী ও মওদুদীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথই সাহাবায়ে কেরামের পথ, যা কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে। এ পথই সিরাতুল মুস্তাকিম। যারা এ পথে থাকবে, তারাই নাজাত পাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উম্মতের মধ্যে ৭২টি ভ্রান্ত ফিরকার আবির্ভাব ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের বিস্তার ঘটেছে।

সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করার বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত আমির বলেন, ‘আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধানসহ ইসলামের মৌলিক আমলগুলো সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমেই পেয়েছি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতি সাহাবিরাই প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাহলে সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করলে দ্বিনের ধারাবাহিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।’

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর চিন্তাধারার সমালোচনা করেন এবং বলেন, মওদুদী সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানতে চাননি। মওদুদীর বিভিন্ন বক্তব্য ইসলামের প্রচলিত আকিদা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আদর্শকে নিজেদের অনুসৃত ইসলামী আদর্শ থেকে পৃথক বলে মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেন।

মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী এ বার্ষিক দ্বিনি মহাসম্মেলন বৃহস্পতিবার বাদ ফজর শুরু হয়। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%