ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেল সিরিয়ার ১৬ সরকারি প্রতিষ্ঠান


জাপানের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেল সিরিয়ার ১৬ সরকারি প্রতিষ্ঠান

জাপান সিরিয়ার ১৬টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তেল, ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্থাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং এসব সংস্থার ওপর থাকা সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জানায়, সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তালিকায় সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তালিকায় সিরীয় পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, সিরিয়া ট্রেডিং অয়েল কোম্পানি, সিরিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান সিরিয়াটেলসহ বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি

এর আগে ২০২৫ সালে জাপান সিরিয়ার কয়েকটি ব্যাংকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক, পপুলার ক্রেডিট ব্যাংক, সেভিং ব্যাংক এবং অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক।

তবে উল্লেখযোগ্য যে, জাপানের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। তাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৯ ব্যক্তি ও ১৮টি সিরীয় প্রতিষ্ঠান এখনও জাপানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

সিরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশ ও জোটের মধ্যে অগ্রসর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সিরিয়ার ওপর থাকা বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, যদিও বাশার আল-আসাদ এবং কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাসাচুসেটসে ঝড়ে ১৪২ বছরের পুরোনো 'ওয়ারেন সয়্যার' জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ভেসে উঠল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


ম্যাসাচুসেটসে ঝড়ে ১৪২ বছরের পুরোনো

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নানটাকেট দ্বীপে ভয়াবহ ঝড়ের পর সমুদ্রসৈকতে ভেসে উঠেছে প্রায় ১৪২ বছর আগে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের কাঠের অংশ। ইতিহাসবিদদের ধারণা, কাঠের এই অংশটি ‘ওয়ারেন সয়্যার’ নামের একটি তিন মাস্তুলের পালতোলা জাহাজের ধ্বংসাবশেষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।

১৮৬৯ সালে নির্মিত জাহাজটি ১৮৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নানটাকেট দ্বীপের কাছে ডুবে যায়। ওই সময় জাহাজটি নিউ অরলিন্স থেকে বোস্টনের দিকে যাচ্ছিল। এতে এক হাজার ১১৫টির বেশি তুলার গাঁট এবং ২৮ টন লোহার ভাঙা অংশ ছিল।

ম্যাসাচুসেটসের পানির নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিষয়ক সংস্থার পরিচালক ও প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক ডেভিড রবিনসন জানিয়েছেন, উনিশ শতকে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজটি ব্যবহৃত হতো। সে সময় এটি বর্তমান সময়ের বড় পণ্যবাহী যানবাহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

সাম্প্রতিক ঝড়ের পর নানটাকেটের সমুদ্রসৈকতে পচে যাওয়া কাঠের তক্তা ও কাঠামোর বেশ কিছু অংশ দেখা যায়। এসব কাঠের অংশে এখনও অসংখ্য পেরেক রয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে ধ্বংসাবশেষগুলো বারবার নড়াচড়া করছিল।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, একই এলাকায় ২০২২ ও ২০২৩ সালেও ওই জাহাজের আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে এবারের পাওয়া কাঠের অংশটিও ‘ওয়ারেন সয়্যার’-এর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৮৮৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে জাহাজটির দুর্ঘটনার ভয়াবহ বিবরণও প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটির পেছনের একটি বড় অংশ ভেঙে যায় এবং সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের সামনে জাহাজের ভেতরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

নানটাকেটকে ঐতিহাসিকভাবে ‘আটলান্টিকের জাহাজকবরস্থান’ বলা হয়। উনিশ শতকে প্রতিদিন শত শত জাহাজ এই ছোট দ্বীপটির পাশ দিয়ে চলাচল করত। ঝড় ও সমুদ্রের অগভীর বালুচরের কারণে দ্বীপটির আশপাশের পানিতে প্রায় ৭০০টি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে নানটাকেট জাহাজডুবি ও জীবনরক্ষা জাদুঘর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিদান ওলিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


জিদান ওলিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

মাইকেল ওলিসের গোলের পর জিনেদিন জিদানের উদযাপন ছিল অত্যন্ত উন্মাদনা পূর্ণ। এমন ধরনের উদযাপন তার খেলোয়াড়ি জীবনে খুব কমই দেখা গেছে। তিনি যেভাবে দৌড়ে গিয়ে টাচ লাইনের বাইরে রাখা বলটিকে কিক করলেন, তা ছিল নজরকাড়া।

জিদান ওলিসের গোলের মাধ্যমে যে আত্মতৃপ্তি লাভ করেছেন, তা ফ্রান্সের কোচের উদযাপন না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। উদযাপনের পর তিনি ম্যাচ শেষে শিষ্যকে প্রশংসিত করেছেন।

জিদানের মতে, ওলিসে একজন বিরল প্রতিভাবান ফুটবলার। তিনি জানিয়েছেন, ওলিসের ড্রিবলিংয়ের সময়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে গোলটি হতে যাচ্ছে। সাবেক ফরাসি মিডফিল্ডার বলেছেন, “যখন আমি একজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যেতে দেখলাম, তখনই মনে মনে বললাম, ‘সে গোল করতে যাচ্ছে।’ আমি হৃদয় দিয়ে উদযাপন করছিলাম। সে সত্যিই অসাধারণ প্রতিভা। আমি এমন খেলোয়াড়দের খুব পছন্দ করি।”

জিদান জানান, ওলিসে খেলা দর্শকদের বিমোহিত করে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মারকাতো’কে তিনি আরও বলেন, ‘সে যখন মাঠে থাকে, দর্শকদের বিনোদন দিতে চায়। কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। তার খেলার ওপর দারুণ দখল এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান রয়েছে। সে প্রতিপক্ষের মুভমেন্ট আগে থেকেই অনুমান করতে পারে এবং জানে কখন আক্রমণে উঠতে হবে এবং কখন পেছনে ফিরে আসতে হবে।’

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ওলিসে ফ্রান্সের জয়সূচক গোলটি করেন। তিনি নিজেদের বক্সের একটু সামনে বল পেয়ে ট্রেডমার্ক দৌড় শুরু করেন। প্রথমে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে দৌড়ে ছিটকে ফেলেন। পরে বক্সের মাঝ বরাবর ঢুকে সামনে থাকা তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর ফাঁক গলে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওলিসে। গোলটি হওয়ার পর জিদান পাগলাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুশান্তের মৃত্যুর আগে পা ভেঙে দেয়ার দাবি শ্বেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


সুশান্তের মৃত্যুর আগে পা ভেঙে দেয়ার দাবি শ্বেতার

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ছয় বছর পর, তাঁর ময়নাতদন্ত নিয়ে নতুন একটি দাবি সামনে এনেছেন বোন শ্বেতা সিং কীর্তি। সম্প্রতি একটি ভিডিওবার্তায় শ্বেতা উল্লেখ করেছেন যে, সুশান্তের ময়নাতদন্তকারী এক চিকিৎসকের সঙ্গে কয়েক দিন আগে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, অভিনেতার মৃত্যুর সময় বন্দুক ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল।

শ্বেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন যে, সুশান্তের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, অভিনেতার চোখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।

২০২০ সালের ১৪ জুন, মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসা থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং তদন্ত হয়। সুশান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছে যে, তিনি আত্মহত্যা করেননি।

মৃত্যুর পর সুশান্তের তৎকালীন বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত শেষে সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্টে বলা হয় যে, তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুশান্তের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড ছিল—এমন দাবির পক্ষে তদন্তে প্রমাণ মেলেনি।

তবে শ্বেতা এখনো ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জানতে পেরেছি, যিনি আমার ভাইয়ের ময়নাতদন্ত করেছিলেন, তিনি বলেছেন ঘটনার সময় বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছিল। চোখেও আঘাত ছিল।’

সুশান্তের মৃত্যুর সময় শ্বেতা দেশের বাইরে ছিলেন। করোনা মহামারির কারণে ভাইয়ের শেষযাত্রাতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শ্বেতা বলেন, সুশান্তের মৃত্যুর পর অনেকেই তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অভিনেতার জন্য কেঁদেছিলেন। তার ভাষায়, সবারই মনে হয়েছিল, সুশান্তের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ঠিক হয়নি।

ভাইকে হারানোর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে শ্বেতা আরও বলেন, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা তিনি নিজে অনুভব করেছেন। জীবনে নানা ধরনের অন্যায় ও কষ্ট এলেও সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সুস্থ হয়ে ওঠার কথা বলেন সুশান্তের বোন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাস, ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাস, ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত

গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সরকার গঠনের পর বিএনপি দেশে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আইন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে পাস হয়েছে শতাধিক আইন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬:

গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রতিকার প্রদানের উদ্দেশ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

২০২৬ সালে পাস হওয়া ১০৭ নম্বর এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, অথবা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়, অথবা গুমের ঘটনার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্যূন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

এছাড়া এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত এই আইনের অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করবে এবং ভুক্তভোগীকে উক্ত অর্থ প্রদান করবে। দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে উক্ত অর্থ আদায়যোগ্য হবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির ওপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে। যদি দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে তা প্রদানে বাধ্য হবে।

আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তাহার স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য, স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের আবেদন অনুসারে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য গুম সনদ ইস্যু করার অনুমতি প্রদান করতে পারবে।

এছাড়া যে ক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন পাঁচ বছর ধরে গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, সেক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গুম হওয়া ব্যক্তির যে কোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিদ্যমান সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা প্রদান করতে এবং গুম সনদ প্রদান করতে পারবে।

এদিকে পাস হওয়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি নিজে অথবা সরকারের সমর্থন, অনুমোদন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বা অবস্থান গোপন করে, তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আমরা কিছু মৌলিক জায়গায় হাত দিয়েছি। তার একটি হলো গুমের শিকার পরিবার যেন তার সম্পত্তির ভাগ পায়। এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দরখাস্ত দিয়ে ক্ষেত্রমত তারা সে প্রতিকার পাবেন।"

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "গুমের দুইটা সেকশন আছে। একটা আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) যাবে। যেটা সিস্টেমেটিক এন্ড ওয়াইড স্প্রেড গুম। আর যেটা অর্ডিনারি কোর্সে গুম হবে ২৪ ঘন্টার বেশি কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে, সেটা যাবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে।"

গুম চিরতরে বন্ধ হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে গুম চিরতরে বন্ধ হবে। যেমন আপনারা দেখেছেন আমাদের এই সময়ে কোন গুম হয়নি।"

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬:

২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা এবং সমন জারিসহ দেওয়ানি আদালতের কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "মানবাধিকার কমিশন কোনো ফৌজদারি তদন্ত সংস্থা নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করাই বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ কাজ। ইতোমধ্যে আমি ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের কাছ থেকে একটা অভিনন্দন বার্তা পেয়েছি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন করার জন্য। আমরা চেষ্টা করছি...।"

ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬:

সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

আলোচিত এই আইনটির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের কেন? ইহজাগতিক কারোর ক্ষমতা নাই ইসলামিক ল' এর ওপর হাত দেওয়ার। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।"

আইনমন্ত্রী বলেন, "সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। আমরা বলেছি যে এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায় হেবা করতেই পারবে। সেখানে কোন বাধা নাই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান সেটা করতে পারবে। সেখানেও কোন বাধা নাই।"

তিনি আরও বলেন, "একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছেন। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।"

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬:

মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমরা কঠোর আইন করেছি। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। আমরা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ব্যবস্থা করছি। পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ঝিনাইদহ জেলাকে রেখেছি এবং সেখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি।"

এছাড়া আইনের ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এই আইন পাসের ফলে একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী বিশেষ শর্ত পূরণ করে সেই ব্যাংকের মালিকানা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে না।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকারের প্রথম সাত মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শতাধিক আইনের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, বাণিজ্যিক আদালত আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, জুয়া প্রতিরোধ আইন। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%