মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৯:০৮ পি.এম
অধ্যক্ষ পদায়ন, দায়িত্ব গ্রহণ এবং এক দিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল—একের পর এক ঘটনায় নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে গভীর রাতে কলেজের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদলের দুই পক্ষ।
এক পক্ষ তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। অন্য পক্ষ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে প্রবেশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থী, কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। পরে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দ মিছিল করেন।
এর আগে কলেজ ছাত্রদলের একাংশ ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে ছাত্রদলের অপর অংশ এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করলে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান।
এর আগে রোববার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের পাশের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নৈশপ্রহরীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আগুন দেওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে নৈশপ্রহরীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
কলেজে চলমান বিরোধের সূত্রপাত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সেই পদায়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি পূর্বধলা সরকারি কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে পরদিন ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন স্থায়ী হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকেন আনোয়ারুল হক রতন।
এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কলেজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন প্রকাশ্যে আসে। একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। অপর পক্ষ অধ্যাপক আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পেছনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কলেজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন বলেন, তাঁকে হেয় করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষ পদায়ন বাতিল, অগ্নিকাণ্ড এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পূর্বধলা সরকারি কলেজে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আটটি বিভাগজুড়ে লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের ষষ্ঠ আয়োজন রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী মন্তব্য করেন, "অতুলনীয় অবদান ও সার্বজনীন আবেদনের কারণে কবীর-লালনের সুরবাণী খণ্ডিত দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্বসংগীতই নয় শুধু, আধ্যত্মিক বিচারে তা মহাজাগতিক ভাবসংগীত।"
তিনি আরও বলেন, "এ উৎসব দ্বারা সাংগীতিক ধারায় লালনের মাধ্যমে এ দেশে যেমন কবীরকে চেনা যাবে, তেমনই অন্যদেশে কবীরের সঙ্গে লালনকেও মানুষ সমন্তরালে অনুভব করতে পারবে।" উপ-মহাদেশের এই দুই মহৎ দিকপালের ভাবাদর্শ মানুষের সত্য-সুপথের দিকে আহ্বান করে, যা মিথ্যার পাহাড়কে ধ্বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। তাই এর বহুমাত্রিক চর্চা ও বিস্তার আজ সময়ের দাবি।
উপাচার্য লালন বিশ্বসংঘের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী, কার্যকর ও অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিবছর এমন সার্বজনীন উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, "কবীর-লালনকে নিয়ে মানুষের মনে অসীম কৌতুহল ও আগ্রহ রয়েছে তাদের জাগতিক ও পারত্রিক জীবন রহসের গভীর সাদৃশ্য ও সংগতির কারণে।" তাই এ বিষয়ে আরো ব্যাপক অনুসন্ধান, গবেষণা ও তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মুঃ মাহবুবুর রশীদ। কবীর-লালনের দর্শন নিয়ে আলোকপাত করেন মাওলানা আবদুল জলির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননান।
দ্বিতীয় পর্বে উৎসবের মূল আয়োজন ‘কবীর থেকে লালন : চিরন্তন প্রেমের এক অক্ষয় সেতুবন্ধন’ শীর্ষক সংগীতালেখ্যে কবীর ও লালনের কুড়িটি কালাম পরিবেশন করেন কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা।
ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোভাব বার্ষিকী ও দুর্গাপূজার দু'সপ্তাহ বিরতির পর এ উৎসবের পরবর্তী ৭ম আয়োজন আগামী ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এবং সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ৩০ অক্টোবর সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ সদরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পুলিশ শাহাদত হোসেন (৩৮) নামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছোনগাছা ইউনিয়নের বলিদহ এলাকার একটি ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত শাহাদত হোসেন সদর উপজেলার চিলগাছা গ্রামের শাহজাহান আলীর পুত্র। তিনি খোকশাবাড়ি গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন শাহাদত। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং মুঠোফোনও বন্ধ ছিল। শনিবার পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। রবিবার বিকেলে বলিদহ এলাকার একটি ক্ষেতের মধ্যে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন, পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাহাদতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তারা বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে ৭-০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তরুণ প্রতিভাবান ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো।
রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়, যিনি বর্তমানে ফিওরেন্তিনায় ধারায় খেলছেন, দারুণ ফর্মে রয়েছেন। তবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে চাপ তিনি অনুভব করছেন, সে সম্পর্কে মন্তব্য করে অবাক হয়েছেন, কারণ আর্জেন্টিনার অনেকেই তাকে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্তানতুওনো বলেন, “লোকেরা আমার কাছে অনেক কিছু চায়। আমি এটা বুঝি, আমার কাছে কী প্রত্যাশা করা হয়, সেটাও আমি জানি। অনেক সময় তারা আমার ওপর কঠোর হন, কিন্তু আমি এটা উপভোগ করার চেষ্টা করি।”
তিনি আরো বলেন, “আমি সমালোচনা নিয়ে অভিযোগ করছি না। আমি একজন ফুটবল খেলোয়াড় এবং আমি বিষয়টি বুঝি। কিন্তু মানুষ এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলে যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
“আমি শুধু আমার কাজটা করি এবং সবসময় তা ভালোভাবে করার চেষ্টা করি। আমি জানি অনেক প্রত্যাশা থাকে এবং আমি সেটা ভালোবাসি, কিন্তু আমি আমার দলের জন্য এবং নিজের জন্য খেলি, সেই প্রত্যাশাগুলোর জন্য নয়,” বলে যোগ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর রিয়াজ। বিভিন্ন জেলার মেলায় লটারি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, মেলায় প্রথমে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও কথিত স্বচ্ছ ড্রয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা তৈরি করে পরে টিকিট বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হয়। আর পুরস্কারের অঙ্ক বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় কথিত কৌশল—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সর্বশেষ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার একটি মেলায় রিয়াজের পরিচালিত লটারি নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনের লটারি কার্যক্রমে তিনটি সুজুকি মোটরসাইকেল, তিন ভরি স্বর্ণ এবং দুটি বাজাজ পালসার পুরস্কার হিসেবে থাকার কথা থাকলেও এসব পুরস্কারের কয়েকটি কৌশলগতভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
এরপর গতকাল টিকিট বিক্রি হলেও ঘোষিত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ টিকিট বিক্রির অর্থ নিয়ে রাতের আঁধারে মেলা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান রিয়াজ। এতে পুরস্কারের আশায় টিকিট কেনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
### শুরুতে ‘স্বচ্ছ ড্র’, পরে বদলে যায় চিত্র?
রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরনও বেশ চাঞ্চল্যকর। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, লটারি শুরুর দিকে মঞ্চে গান পরিবেশনসহ নানা আয়োজন করা হয়। পরে টিকিটের ড্রাম কাপড়ের ভেতরে ঢুকিয়ে একটি শিশুর চোখ বেঁধে ড্র করানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণ দর্শকের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
প্রথম দিকে তুলনামূলক কম মূল্যের পুরস্কার দেওয়া হলেও কয়েকদিন পর পুরস্কারের তালিকায় যুক্ত করা হয় দামি মোটরসাইকেল, স্বর্ণসহ বড় পুরস্কার। দুইটি এফজেড, দুইটি পালসার, তিনটি জিক্সারসহ বড় পুরস্কারের ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকিট কেনার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার সময় যত বাড়তে থাকে, টিকিট বিক্রির পরিমাণও তত বাড়ে। আর তখনই শুরু হয় পুরস্কার নিয়ে কথিত কারসাজি।
### ‘পুরস্কার’ কার হাতে যায়?
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বড় পুরস্কার ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ পুরস্কারের আশায় বিপুল পরিমাণ টিকিট কিনতে থাকেন। কিন্তু ঘোষিত পুরস্কারের কিছু অংশ কৌশলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে লটারি পরিচালনায় অনিয়ম করা হয়।
কীভাবে নির্দিষ্ট পুরস্কার নিজেদের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ড্রয়ের কোন পর্যায়ে এই কৌশল প্রয়োগ করা হয়—এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে পরবর্তী অনুসন্ধানে।
এই প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেই কৌশল তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
### সাধারণ মানুষের টাকা, দায় নেবে কে?
লটারি জুয়ার সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ। সামান্য টাকার টিকিট কিনে বড় পুরস্কারের আশায় তারা দিনের পর দিন টাকা খরচ করেন। পুরস্কারের তালিকা যত বড় হয়, মানুষের আগ্রহও তত বাড়ে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি পুরস্কার না মেলে কিংবা লটারি পরিচালনাকারী অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের সেই অর্থের দায় কে নেবে—নড়িয়ার ঘটনায় এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
মেলা কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “রিয়াজ সব সর্বনাশ করে দিয়েছে। টাকা-পয়সা নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে।”
### রিয়াজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মেসেজের মাধ্যমে একাধিকবার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
### লটারি জুয়ার আড়ালে বড় অর্থের খেলা?
প্রশ্ন উঠছে, দেশের বিভিন্ন জেলার মেলায় একই ধরনের লটারি পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদন, মেলা পরিচালনা এবং লটারির নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত?
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধিনিষেধের আলোকে মেলায় লটারি ও জুয়ার আয়োজনের বৈধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
নড়িয়ার ঘটনায় এখন প্রয়োজন লটারি টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ঘোষিত পুরস্কারের তালিকা, বিজয়ীদের তথ্য এবং পুরস্কার বিতরণের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখা।
কারণ পুরস্কারের আশায় সাধারণ মানুষ যে টাকা খরচ করেছেন, সেই টাকার প্রতিটি টাকার হিসাব থাকা জরুরি।
রিয়াজকে নিয়ে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। লটারি পরিচালনার কথিত কৌশল কীভাবে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের অর্থ কীভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে—পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
নড়িয়ার মানুষ এখন প্রশ্ন করছে—লটারি পরিচালনার নামে মানুষের টাকা নেওয়ার পর রিয়াজ কোথায়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ