১১:৩৪ এম
কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্রসৈকতের চার তারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল ‘রামাদা বাই উইন্ডহাম’ বাইরের দৃষ্টিতে শুধুই একটি সুন্দর হোটেল মনে হতে পারে। তবে এই হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে আছে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের অবৈধ আয়ের একটি বিশাল সাম্রাজ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বহন করে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এই হোটেলের সিংহভাগ শেয়ারের মালিকানা কাগজে-কলমে ‘রংধনু গ্রুপের’ থাকলেও এর পেছনে রয়েছে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর কন্যাদের বেনামি কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই কালো টাকা সাদা করার মূল কারিগর হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কাজ করেছেন, যিনি এলাকায় ‘আন্ডা রফিক’ নামে পরিচিত। বেনজীর আহমেদের ক্ষমতার প্রটোকল এবং রূপগঞ্জের ‘ভূমিদস্যুতা’ সেখানে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের আড়ালে রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমান (কুত্তা মিজান) সুবিধা পেয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনজীর আহমেদের প্রচ্ছন্ন ইশারায় রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া এবং নাওড়া এলাকায় একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেছে রফিক বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে যে, নিরীহ গ্রামবাসীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং অস্ত্রের মুখে বিঘার পর বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করার সময় স্থানীয় পুলিশটি নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। আইজিপির স্বার্থ জড়িত থাকায় থানার পুলিশ তখন এই সিন্ডিকেটের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে কাজ করেছে, এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া, তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের বিনিয়োগের ব্যাপারটি কেবল হোটেলে সীমাবদ্ধ ছিল না। যমুনা ফিউচার পার্কের বিশাল এক লাখ বর্গফুট স্পেস, কুড়িলের কর্পোরেট ভবন থেকে পরিচালিত ‘গ্রীন টেলিভিশন’ এবং জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার পেছনেও বেনজীর আহমেদের বিপুল পরিমাণে পরোক্ষ বিনিয়োগ ও প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই চক্রের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে শুরু করা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতিমধ্যেই রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলাও দায়ের করেছে। এর অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে যমুনা ফিউচার পার্কের স্পেস, বনানীর বহুতল ভবন এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ক্রোক করা হয়েছে। অপরদিকে, দুর্নীতির পাহাড় গড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মূল খলনায়ক বেনজীর আহমেদও শেষ রক্ষা পাননি। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-এর সহায়তায় দুবাইতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপুল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচার করে সাময়িকভাবে পার পাওয়া গেলেও, এই সিন্ডিকেটের পতন প্রমাণ করে যে অপরাধীদের শেষ রক্ষা হয় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন