মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
০২:৪৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ভাদ্রা ইউনিয়নে শামীম আনছারী (২৪) নামে এক যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাদ্রা গ্রাম থেকে অনিকের বাড়ি থেকে শামীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার শিকার শামীম আনছারী একই গ্রামের বেল্লাল মল্লিককের ছেলে এবং আটককৃত অনিক আব্দুল জব্বারের ছেলে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ২১ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শামীম। পরে তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ২৩ আগস্ট রবিবার থানায় নিখোঁজ জিডি করেন শামীমের পরিবার। পরে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ অনিককে আটক করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে অনিকের বাড়ি থেকেই মাটিচাপা অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে ভাদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আযম খান বলেন, শামীম মেধাবী শিক্ষার্থী। সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছিল। অনিকসহ যারা তাকে হত্যা করেছে তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী এবং উশৃংখল প্রকৃতির লোক এরা বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এর একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নাগরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জেরে শামীমকে হত্যা করা হয়। আটককৃত অনিক শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে, আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচদিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এই কর্মসূচিগুলি প্রকাশ করেন।
রিজভীর ঘোষণার ভিত্তিতে, ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সকাল ৯টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। তিনি জানান, এই কর্মসূচিতে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়া, ৫ সেপ্টেম্বর দলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সুবিধাজনক সময়ে দলের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পালন করা।
মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন দলের নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল। অন্যদিকে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখেও বিএনপিকে পরাস্ত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
দলের প্রতিষ্ঠাতার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র- এই তিনটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন।
একটি তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে তিনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দিয়েছিলেন। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা এই সাফল্য মেনে নিতে পারেনি বলেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া, এরশাদের আমল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন বলেও স্মরণ করেন রিজভী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রান্নার আগে চাল কতবার ধোয়া উচিত এমন সাধারণ প্রশ্ন নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে পানি অপচয় রোধে চাল ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক একটি উদ্যোগ নেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোকে প্রচলিত ৫ থেকে ৭ বারের পরিবর্তে মাত্র দুইবার চাল ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চালের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও। ভারতের পিএসআরআই হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ডায়াটেশিয়ান শালিনী ব্লিসের মতে, বেশিরভাগ পরিবারের জন্য দুই থেকে তিনবার চাল ধোয়াই যথেষ্ট।
তিনি জানান, প্যাকেটজাত চাল পরিষ্কার পানির নিচে দুইবার ধুলেই সাধারণত ধুলোবালি, আলগা স্টার্চ ও সামান্য ময়লা দূর করা যায়। চাল পাঁচ থেকে সাতবার ধুলে যে তা আরও নিরাপদ হয়ে ওঠে, এমন প্রমাণ নেই।
চাল বারবার ধুলে আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান দূর হয় এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চাল ধোয়ার মাধ্যমে আর্সেনিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায় না। দুই থেকে তিনবার ভালোভাবে ধোয়ার তুলনায় পাঁচ থেকে সাতবার ধুলে বাড়তি স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়ার প্রমাণও নেই।
আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ থাকলে বারবার চাল ধোয়ার পরিবর্তে চালের উৎস এবং রান্নার পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি কার্যকর।
চাল অতিরিক্ত ধোয়ার আরেকটি নেতিবাচক দিক হলো পুষ্টি উপাদান কমে যাওয়ার আশঙ্কা। পানিতে দ্রবণীয় আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, থায়ামিন ও নিয়াসিনের মতো কিছু পুষ্টি উপাদান ধোয়ার সময় পানির সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পালিশ করা বা কিছু ধরনের সিদ্ধ চালের ক্ষেত্রে এ ধরনের পুষ্টি অপচয় বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, চাল দুই থেকে তিনবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রান্না করাই ভালো। পানি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
আর আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অতিরিক্ত ধোয়ার পরিবর্তে নিরাপদ উৎসের চাল বেছে নেওয়া এবং উপযুক্ত রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।রান্নার আগে চাল দুই থেকে তিনবার ধোয়া সাধারণত যথেষ্ট। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পানি অপচয় ও অতিরিক্ত পুষ্টি ক্ষয়ের ঝুঁকিও কমানো যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং বাইরের অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকার অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত নেই। এ সময় কার্যালয়ের কার্যক্রম সামলাচ্ছিলেন সামনের একটি কম্পিউটার দোকানের এক কর্মী। তাকে অফিসের ভেতরে নামজারিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথিপত্র নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়।
ওই কর্মী জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকলে মাঝেমধ্যে তাকে অফিসে বসিয়ে রেখে যাওয়া হয়। তিনি ও আরও কয়েকজন নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রাশেদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, সরকারি মামলার শুনানি ও দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে তিনি এবং অফিসের আরও দুই কর্মী বাইরে ছিলেন। অফিস পাহারার জন্য ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ওই দায়িত্ব পালন না করে বাইরের একজনকে অফিসে বসিয়ে রেখে চলে যান।
তহসিলদার আরও বলেন, বহিরাগত ব্যক্তির হাতে সরকারি নথিপত্র রাখা কোনোভাবেই বিধিসম্মত নয়। বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার মধ্যে পড়ে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলাম স্থানীয় কয়েকজন কথিত দালালকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেন। দালালদের উপস্থিতি এবং ঝাড়ুদারের এমন আচরণকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তহসিলদার রাশেদুল ইসলাম।
এদিকে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসকে ঘিরে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা ভূমি প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস, যেখানে লাখো আশেকে রাসুল অংশগ্রহণ করেছেন। এবারের জুলুসের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুলুসের শুরুতে আল্লামা সাবির শাহ সাংবাদিকদের জন্য একটি ব্রিফিং প্রদান করেন এবং সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুসটি মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর একই পথে দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসে।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় জলুসকে ঘিরে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুলের সমাগম ঘটে। এবারের জুলুসের কারণে নগরীর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, বাস, পিকআপযোগে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে যোগদান করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এই আয়োজন হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ