ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আফতাবনগরে ডাকাত দলের সদস্য গুলিবিদ্ধ, দাবি ডিবির


আফতাবনগরে ডাকাত দলের সদস্য গুলিবিদ্ধ, দাবি ডিবির

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলিতে মো. এস এম আরিফুল ইসলাম পাভেল (৩০) নামের একজন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাভেল ডাকাতদলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত।

তাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার সময় আফতাবনগরের এম-ব্লকের ৫ নম্বর সেক্টরের ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

অভিযানে অংশগ্রহণকারী গুলশান ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার জানান, ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন খবর আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান পরিচালনা করি। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্য পাভেল নিজের পিস্তল বের করে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করে।

আমাদের আত্মরক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য আমরা পাল্টা একটি শর্টগানের গুলি ছুড়লে পাভেলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে আমরা তাকে আটক করি এবং তার কাছ থেকে একটি পিস্তল এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করি।

তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল্লামা সাঈদী নেই, রয়ে গেছে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কর্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ এম


আল্লামা সাঈদী নেই, রয়ে গেছে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কর্ম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা সাঈদী আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি ও কাজ রয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষের ভালোবাসাও রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যান, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন অনাদিকাল ধরে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ তিনি তেমন একজন মানুষ।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তাঁর চেয়ে উত্তম কথা আর কার, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা ফুসসিলাত: ৩৩)

‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি এই জনপদের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, শহরের মঞ্চ থেকে গ্রামের ধুলোমাখা ময়দানে, একটিমাত্র আহ্বান বুকে নিয়ে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান নিয়ে, কুরআনের দিকে ডেকে ফিরেছেন। সেটি দেশের গন্ডি অতিক্রম করে বিশ্বেও তাঁর বিচরণ ছিল সমান তালে। শীতের রাতে খোলা মাঠে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকা লাখো মানুষ তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তাফসির শুনেছেন। বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনকে শুদ্ধ করার মোড় ঘুরে গেছে সেই আলোচনার মধ্য দিয়ে।’

‘রাসুলুল্লাহ  বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি)

‘আল্লামা সাঈদীর জীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে এই কাজে, কুরআন শেখা, কুরআন শেখানো এবং কুরআনের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কুরআনের শিক্ষা ও প্রসারের জন্য তিনি নানা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওয়াজের ময়দান হয়ে উঠেছিল অসংখ্য মানুষের ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালা।

মানুষের ভালোবাসা তাঁকে তাফসীরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কথা বলেছেন ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে, আলিয়া ও ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে, সাধারণ মানুষের নানা দাবির কথা বলেছেন। সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার যে শিরকি রীতি ছিল, তা আল্লামা সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়েছিল। যদিও তাঁর রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু তাঁর বিপুল অনুসারী এবং জনসমর্থন এ দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

‘যুগে-যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ওপর যেমন জুলুমের খড়গ নেমে আসে, তেমনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপরও নেমে এসেছিল নির্মম জুলুম-নির্যাতন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে যাকে হাজির করা হয়েছিল, সেই সুখরঞ্জন বালি বরং আল্লামার পক্ষেই সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। আর সেই সাক্ষ্যের কারণেই ফ্যাসিস্টরা তাঁকে গুম করে ফেলেছিল।’

‘আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের দিন দেশজুড়ে নেমে এসেছিল মানুষের ঢল। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা আর তাঁর ওপর জুলুমের প্রতিবাদে অগণিত মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেই প্রতিবাদে শহীদ হন দেড় শতাধিক মানুষ। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আল্লামা সাঈদীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মুছে ফেলা যায়নি। একদিন বাংলাদেশে আল্লামা সাঈদীর রায়-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’

‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষের শরীরকে আটকে রাখতে পারে কিন্তু মানুষের ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারে কোন কারাগার?’

‘বছরের পর বছর তিনি কারাবন্দি থেকেছেন। কিন্তু এ দেশের অসংখ্য ঘরে সন্ধ্যাবেলা বেজেছে তাঁর কণ্ঠের ধারণ করে তৈরি তাফসিরের রেকর্ডিং; মানুষ শুনেছে, কেঁদেছে, তাঁর জন্য হাত তুলে দোয়া করেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তাঁর পরিচয় থেকে গেছে কুরআনের একজন আলোচক ও দাঈ হিসেবে।’

‘আজ আল্লামা সাঈদী আমাদের মাঝে নেই। সময়ের পালাবদলে তাঁকে বন্দি রাখা সেই ফ্যাসিস্ট শাসনেরও অবসান ঘটেছে। রয়ে গেছে শুধু তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, তাঁর তাফসির, তাঁর কাজ, আর অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

মানুষ চলে যায়, দাওয়াত থেকে যায়। কণ্ঠ থেমে যায়, রেখে যাওয়া আহ্বান থামে না।’

‘কারাগারের দরজা একজন মানুষকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তাঁর জায়গাকে বন্দি করতে পারে না।

কবি আল মাহমুদ লিখেছেন—

‘পৌঁছুতে চাই প্রভু তোমার সান্নিধ্যে

তোমার সিংহাসনের নীচে একটি ফুরফুরে প্রজাপতি হয়ে,

যার পাখায় আঁকা অনাদিকালের অনন্ত রহস্য।’

‘যে কণ্ঠ অর্ধশতাব্দী ধরে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছে, সে আজ নীরব হয়ে গেছে। কিন্তু কে জানে, হয়তো এই নীরবতাই প্রিয় প্রভুর কাছে পৌঁছে যাওয়া। হয়তো যে মানুষটি সারাজীবন মানুষকে ডেকেছেন প্রভুর দিকে, তিনি আজ সেই সিংহাসনের নিচে একটি ফুরফুরে প্রজাপতির মতো, যার পাখায় আঁকা আছে সেই অনন্ত রহস্য, যার কথা তিনি সারাজীবন বলে গেছেন কিন্তু কোনোদিন পুরোটা বলে শেষ করতে পারেননি।’

‘আল্লাহ তাআলা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ এর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচু মাকাম দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনার জমি বিরোধে সংঘর্ষ, বৃদ্ধা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ এম


নেত্রকোনার জমি বিরোধে সংঘর্ষ, বৃদ্ধা নিহত

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে দুই পক্ষের সংঘর্ষে, আসিয়া খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের সাগুলি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত বৃদ্ধা আসিয়া খাতুন ওই গ্রামের আমজদ আলী ফকিরের স্ত্রী।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সাগুলি গ্রামের বুরুজ আলী এবং রফিক গংদের সঙ্গে তাইজ্জ মিয়া গংদের ২১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে, তাইজ্জ মিয়া পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে, অপর পক্ষ এই দখল দিতে বাধা দেয়। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আসিয়া খাতুন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর কাজ চলছে।

এলাকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ এম


উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেফতার

ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬ : রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা ভেতরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের তালিকা হলো- মো. ইউসুফ (২৬), মো. খোরশেদ (২৫), মো. আরমান (২৬), মোছা. মারজান ওরফে নিপা (২২), শিরিন আক্তার (২৫), তানিয়া আক্তার (২১), মো. রাব্বি (১৯), মো. ফরহাদ (২৬), মো. সোহান রহমান (২৪), মো. হাসান (৩২), মো. মনির হোসেন (২৮), মো. খোরশেদ আলম (৪২), মো. আপন হোসেন (২০), মো. শাকিল (২৯), মো. শাকিল সরকার (২১), মো. তানভীর হাসান রিফাত (২১), মোছা. সাদিয়া (২০), সিয়াম খান (২২) ও মো. জিয়াউর রহমান (২৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের শোক; কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকারের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০২ এম


বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের শোক; কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকারের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত ১৩ আগস্ট ‎বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের (বড়বাড়ি) নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। শহীদ সরকার ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
‎
‎সে মাটিকাটা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে আইপিএসের বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন শহীদ। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

‎কিছুক্ষণ পর বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই বাড়িতে নেমে আসে আতঙ্ক। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদ সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎যে তরুণ সন্ধ্যায় নিজের হাতে ঘরের বৈদ্যুতিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছিলেন, কয়েক মিনিট পর সেই তরুণের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে স্বজনদের। একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, স্বজনদের আশা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের এক তরুণ কর্মীর পথচলা।
‎
‎শহীদ সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক ছুঁয়ে গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতি মন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়া, ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন মুর্শেদ নিজামী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলেহ উদ্দিন রতন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটনসহ ছাত্রদলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় বাসিন্দারা পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।

মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন-এমন দোয়া করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ সরকার ছিলেন রাজপথের সক্রিয় ও উদ্যমী তরুণ সংগঠক। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্রদল হারিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাকে।
‎
‎কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও আপনজন।
‎
‎একটি আইপিএসের ত্রুটি সারাতে গিয়ে আর ফিরলেন না শহীদ। সন্ধ্যার যে মুহূর্তে তিনি জীবনের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই মুহূর্তই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%