০২:৩০ পি.এম
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকশিল্প ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, বর্তমানে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কোথাও নেতিবাচক কিছু শোনা যায়নি। রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে আমি নিশ্চিত করতে পারি, কারখানায় প্রবেশ করে শ্রমিকরা যথারীতি তাদের কাজকর্ম অব্যাহত রেখেছেন।
আরও পড়ুন: আমির হামজার অডিও কথোপকথন নিয়ে অনড় রাশেদ খাঁন
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপর মজুরি বোর্ড প্রথম বৈঠক করে তাদের ব্রিফ করেছে। শ্রমিকদের নিয়ে আমরা সাভার-আশুলিয়া এলাকায় বসেছিলাম। তারা বলছেন, এ আন্দোলন আসলে তাদের নয়। কারণ তাদের যে দাবিগুলো ছিল, সেগুলোর প্রতি সরকার অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরকার চিন্তা করে। শ্রমিকরা যদি কাজ করেন এবং তাদের যদি আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা না থাকে, তাহলে এটি আসলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি গোষ্ঠীর অশুভ পাঁয়তারা।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিক একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যারা পরিবেশ অশান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় প্রায় ১৫টি মামলা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ এলাকায় আমাদের শতাধিক গ্রেপ্তার রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কেউই শ্রমিক নন, সবাই সংকট সৃষ্টিকারী। এ ছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও আমরা শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছি। সেখানেও একই অবস্থা। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শ্রমিক নেই। এরা সবাই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বিশেষ গোষ্ঠীর সদস্য, যারা এ শিল্পকে ধ্বংস করতে চায় এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়।
কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, আমাদের গোয়েন্দা পুলিশ ও পোশাকধারী পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কারা এসব করছে, তা আমাদের জানা আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান, আপনাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা এসব করছে। তাই এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে। কারখানা, বাসস্থান ও রাস্তায় পুলিশ সব সময় আপনাদের পাশে আছে। কারখানা এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। কর্মস্থলে প্রবেশ করে নিজ নিজ ইউনিটে কাজ শুরু করেন তারা।
আরও পড়ুন: কর্তৃত্ববাদী শাসন নতুন বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যাবে না: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন