সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ পি.এম
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলার ফলে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার আফগান কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এই হামলার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রায় তিন মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে। ওই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই দেশের বিরোধের মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ডে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। সোমবারের বিমান হামলার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলা হয়, যেখানে অন্তত ১৬ জন নিহত হন।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গত জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, তাদের বাহিনী ওই ড্রোনগুলো শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করে। এর আগে মার্চে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগান তালেবান জানায়।
তাদের দাবি, হামলায় একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে ৪২২টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই। তবে দেশটির কাছে অন্তত ৬টি বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু ড্রোন রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৪৭টি মামলা দায়ের হয়েছে।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রদান করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৩ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ২৮ জন, রমনা বিভাগ থেকে ১৮ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ১৩৭৬ পিস ইয়াবা, ৩৪০ গ্রাম গাঁজা, দুটি মোবাইল ফোন, দুটি মোটরসাইকেল এবং মাদক বিক্রয়ের নগদ ৩৮০০ টাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধারকৃত এসব আলামত ও মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে হাউলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার সময় উপজেলার পুরাতন হাউলী গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আউয়ালের পুত্র।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাসেলকে আটক করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেজবাহ উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দুই নেতা নিউইয়র্কে বৈঠক করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। ফোনে কথোপকথনের পর এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এই বৈঠকটি ‘অনেক কিছু বদলে দিতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণের সময় এই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সাড়ে চার বছরের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দিকে অধিক মনোযোগ দিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়েই পরস্পরের ওপর দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধি করেছে।
জেলেনস্কি ফেসবুকে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি এইমাত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিউইয়র্কে বৈঠকে সম্মত হয়েছি। বৈঠকটি অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। কূটনৈতিক তৎপরতায় গতি এসেছে।’
তবে, জেলেনস্কির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা গভর্নরেটে দুটি গাড়ির সংঘর্ষের ফলে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সাত সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত সাতজন একই গাড়িতে ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছে স্বামী-স্ত্রী, তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। অন্য একটি গাড়িতে থাকা দুই তরুণও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় ট্রাফিক বিভাগ জানায়, একটি গাড়ি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সিভিল ডিফেন্স এবং সৌদি রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা গাড়ির ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন।
আল-আহসা এবং পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকার মধ্যে সংযোগকারী আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর জন্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের ট্রাফিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা ২৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রাফিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দ্রুত জরুরি সেবার ব্যবস্থা দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে সহায়ক হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে আল-আহসার এই দুর্ঘটনা দেশটির সড়কে এখনও বিদ্যমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। নিহতদের পরিচয় এবং গাড়িটি কেন হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ