সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ পি.এম
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ভোলার ইলিশা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে। নতুন এই নৌপথে এক ট্রিপে সময় লাগছে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। এর ফলে রাজধানীতে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমবে এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও কমার আশা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহনগুলো ভোলা–লক্ষ্মীপুর নৌপথ ব্যবহার করে ঢাকায় পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগত। নাব্যতা সংকট এবং সড়কে যানজটের কারণে কখনো কখনো এই সময় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেত। নতুন সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে পরিবহন সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইলিশা–কাঁচপুর রুটে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করছে। প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি ছাড়ে। ইলিশা থেকে কাঁচপুরের উদ্দেশে ফেরি দুপুর ১টার মধ্যে ছাড়ে এবং কাঁচপুর থেকে ভোলার উদ্দেশে ফেরি ভোর ৩টায় ছাড়ে।
বর্তমানে ২৩ টনের নিচের ট্রাকের ভাড়া ১১ হাজার এবং এর বেশি ওজনের ট্রাকের ভাড়া ১২ হাজার টাকা। প্রতিটি ফেরিতে ৭ থেকে ৮টি ছোট গাড়ি এবং ১২ থেকে ১৪টি ট্রাক পরিবহন করা সম্ভব।
পরিবহনশ্রমিকরা বলছেন, সরাসরি ফেরি চালু হওয়ায় পণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। এতে কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং পরিবহন ব্যয়ও কমবে। কাঁচপুরে ফেরিঘাট হওয়ায় ঢাকার যানজট এড়িয়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য নেওয়াও সহজ হবে।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলা ইলিশা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. কাওছার আহাম্মেদ খান জানান, নতুন এই সার্ভিসের মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে। বিশেষ করে তরমুজ ও ধানের মৌসুমে পরিবহন জট কমবে।
গত ২৭ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন জেলা ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে এই ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২৩ সালে বেসরকারিভাবে ভোলা–ঢাকা রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হলেও সীমিতসংখ্যক যানবাহন পরিবহনের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতো। ২০০৮ সালে ভোলা–লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর ও ঢাকা রুটে প্রতিদিন দুই শতাধিক পরিবহন চলাচল করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) কর্তৃক ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
আজ সোমবার, ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
এ বিষয়ে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে মিরপুর বিভাগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর মডেল থানা। উত্তরা-পশ্চিম থানা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাহজাহানপুর থানা।
অন্যদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল বাসার মোল্যা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে প্রথম স্থান দখল করেছেন মিরপুর থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মহিবুল্লাহ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বনানী থানার এসআই জুম্মান খান। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই মো. কামাল উদ্দিন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো. আখতারুজ্জামান মণ্ডল পলাশ এবং তৃতীয় স্থানে আছেন পল্টন থানার এএসআই মো. নাজিম উদ্দিন।
গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে গোয়েন্দা-লালবাগ চিহ্নিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এনায়েত কবীর সোয়েব।
এছাড়া, ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে ট্রাফিক-মিরপুর নির্বাচিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট টুটুল মালো।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সব থানার অফিসার ইনচার্জগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পরমাণু বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ ইসলামিকে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে তাকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, মোহাম্মাদ ইসলামি ও তার প্রতিনিধি দল শনিবার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ভিয়েনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে তাদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরে মোহাম্মাদ ইসলামি তেহরানে ফিরে আসেন।
বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় আইএইএর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক এই সংস্থার সম্মেলন শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। সেখানে মোহাম্মাদ ইসলামি ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। গত বছরও তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ইরানের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। ইরান আইএইএর সদস্যরাষ্ট্র। মোহাম্মাদ ইসলামিকে সম্মেলনে যোগ দিতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ইরান অস্ট্রিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মন্তব্য করেন, ইরানের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্ট্রিয়া সরকারের অস্বীকৃতি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বাঘাই আরও বলেন, "আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট যে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ঘটেছে।" তবে এ ঘটনায় অস্ট্রিয়া সরকারও দায় এড়াতে পারে না। ভিয়েনার এক কূটনৈতিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই মোহাম্মাদ ইসলামিকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা, জানান যে, বাংলাদেশের একটি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থাকার কারণে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় ধরে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার শুধু সেটি মেরামত করছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে সচল দুটি এফএসআরইউর পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগে সম্ভব হলে তৃতীয়টি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পাঁচটি এফএসআরইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যমেয়াদে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। এই ধাপ সফলভাবে শেষ হলে, পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের কাজ শুরু হবে।
শুধু এফএসআরইউয়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা যায় এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ককে আরও সুদৃঢ় করা যায়, সে বিষয়েও সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের একাংশ অংশগ্রহণ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে একটি টেকসই সমন্বয় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সত্যিকার অর্থেই স্বনির্ভর হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ জ্বালানির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য শক্তি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করার পাশাপাশি সোলার এনার্জিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত মজবুত করা হবে।
তিনি বলেন, বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাঁদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা নিজেদের মেধা, ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার নীতিগত পূর্ণ সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেই নীতির কার্যকর প্রয়োগ করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে ১৬ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন ছিল। এর ফলে বহু সংকট পুঞ্জীভূত হয়ে পাহাড়সম রূপ নিয়েছে।
‘হয়তো রাতারাতি, এক মাসে কিংবা এক বছরে সেই সব সংকটের সমাধান করা দুরূহ। তবে এই সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা, গভীর আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যার বাস্তব চিত্র আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।’
আলোচনার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ব্যবসায়ী নেতারা তাদের চলমান সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, প্রতিটি সংকটই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতা ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব আরও মজবুত করতে এবং যৌথ সংলাপের এই ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত এমন মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে স্বনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সার্বভৌমত্বে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্বরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। পাশাপাশি, সউদী আরবের হুথিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা তথ্য (ইন্টেলিজেন্স) ও টার্গেটিং সহায়তা প্রদান করছে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সময় নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে হুথিদের সাথে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশীদারিত্ব এবং বিমান হামলা জোরদারের অনুরোধ সউদী আরবের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। এ বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়। তবে, ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
যদিও সরাসরি হামলা চালাচ্ছে না, তবুও ওয়াশিংটন রিয়াদকে সম্পূর্ণরূপে খালি হাতে ফিরিয়ে পাঠাচ্ছে না। সউদী বাহিনী যাতে হুথি লক্ষ্যবস্তুগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আক্রমণ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ও 'টার্গেটিং সাপোর্ট' দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর অর্থ হলো, আলোচনার টেবিল খোলা রেখে অন্যদিকে মিত্র সউদী আরব ও অন্যান্য মিত্রদের মাধ্যমে হুথিদের কোণঠাসা করার দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ইয়েমেন সংকট নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ