প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ভোলার ইলিশা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে। নতুন এই নৌপথে এক ট্রিপে সময় লাগছে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। এর ফলে রাজধানীতে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমবে এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও কমার আশা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহনগুলো ভোলা–লক্ষ্মীপুর নৌপথ ব্যবহার করে ঢাকায় পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগত। নাব্যতা সংকট এবং সড়কে যানজটের কারণে কখনো কখনো এই সময় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেত। নতুন সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে পরিবহন সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইলিশা–কাঁচপুর রুটে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করছে। প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি ছাড়ে। ইলিশা থেকে কাঁচপুরের উদ্দেশে ফেরি দুপুর ১টার মধ্যে ছাড়ে এবং কাঁচপুর থেকে ভোলার উদ্দেশে ফেরি ভোর ৩টায় ছাড়ে।
বর্তমানে ২৩ টনের নিচের ট্রাকের ভাড়া ১১ হাজার এবং এর বেশি ওজনের ট্রাকের ভাড়া ১২ হাজার টাকা। প্রতিটি ফেরিতে ৭ থেকে ৮টি ছোট গাড়ি এবং ১২ থেকে ১৪টি ট্রাক পরিবহন করা সম্ভব।
পরিবহনশ্রমিকরা বলছেন, সরাসরি ফেরি চালু হওয়ায় পণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। এতে কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং পরিবহন ব্যয়ও কমবে। কাঁচপুরে ফেরিঘাট হওয়ায় ঢাকার যানজট এড়িয়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য নেওয়াও সহজ হবে।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলা ইলিশা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. কাওছার আহাম্মেদ খান জানান, নতুন এই সার্ভিসের মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে। বিশেষ করে তরমুজ ও ধানের মৌসুমে পরিবহন জট কমবে।
গত ২৭ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন জেলা ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে এই ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২৩ সালে বেসরকারিভাবে ভোলা–ঢাকা রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হলেও সীমিতসংখ্যক যানবাহন পরিবহনের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতো। ২০০৮ সালে ভোলা–লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর ও ঢাকা রুটে প্রতিদিন দুই শতাধিক পরিবহন চলাচল করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন