প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা, জানান যে, বাংলাদেশের একটি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থাকার কারণে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় ধরে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার শুধু সেটি মেরামত করছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে সচল দুটি এফএসআরইউর পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগে সম্ভব হলে তৃতীয়টি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পাঁচটি এফএসআরইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যমেয়াদে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। এই ধাপ সফলভাবে শেষ হলে, পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের কাজ শুরু হবে।
শুধু এফএসআরইউয়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা যায় এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ককে আরও সুদৃঢ় করা যায়, সে বিষয়েও সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের একাংশ অংশগ্রহণ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে একটি টেকসই সমন্বয় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সত্যিকার অর্থেই স্বনির্ভর হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ জ্বালানির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য শক্তি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করার পাশাপাশি সোলার এনার্জিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত মজবুত করা হবে।
তিনি বলেন, বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাঁদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা নিজেদের মেধা, ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার নীতিগত পূর্ণ সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেই নীতির কার্যকর প্রয়োগ করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে ১৬ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন ছিল। এর ফলে বহু সংকট পুঞ্জীভূত হয়ে পাহাড়সম রূপ নিয়েছে।
‘হয়তো রাতারাতি, এক মাসে কিংবা এক বছরে সেই সব সংকটের সমাধান করা দুরূহ। তবে এই সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা, গভীর আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যার বাস্তব চিত্র আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।’
আলোচনার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ব্যবসায়ী নেতারা তাদের চলমান সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, প্রতিটি সংকটই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতা ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব আরও মজবুত করতে এবং যৌথ সংলাপের এই ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত এমন মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে স্বনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সার্বভৌমত্বে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্বরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন