০২:৫০ পি.এম
২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি, এ জন্য জনপ্রতি ৯৮ হাজার টাকা নেট বিমান ভাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের এই প্রস্তাবটি জানিয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএস-বাংলা জানিয়েছে যে, হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সকল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে তারা ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রস্তাবিত ৯৮ হাজার টাকার নেট ভাড়ার মধ্যে ট্যাক্স, অন্যান্য চার্জ এবং এজেন্সি কমিশন অন্তর্ভক্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
এদিকে, বিমান সংস্থাটির দাবি, তাদের প্রস্তাব কার্যকর হলে হজযাত্রীরা তুলনামূলকভাবে কম খরচে পবিত্র হজ পালন করার সুযোগ পাবে। উল্লেখযোগ্য যে, গত হজ মৌসুমে প্যাকেজের একটি বড় অংশ ছিল বিমান ভাড়া, যেখানে জনপ্রতি বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। সেই তুলনায় ইউএস-বাংলার প্রস্তাবিত ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি আরবের সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী বছরের হজের জন্য জনপ্রতি ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০৬ টাকা বিমান ভাড়ার প্রস্তাব করেছে। তবে, এখনও চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, হজের বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে তারা সব সময় আলোচনা করে আসছেন। ইউএস-বাংলার প্রস্তাব সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট সভায় আলোচনা করা হবে।
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ চূড়ান্তীকরণের লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পরে বিকাল ৪টায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবেন।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ইউএস-বাংলার প্রস্তাবের ব্যাপারে সভায় আলোচনা করা হবে। তিনি জানান যে, বিমান ভাড়া নিয়ে যদি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তবে তা হজযাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হবে।
তিনি আরও বলেন যে, ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, অনুমোদন পেলে তারা সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য হজ পালনকে আরও সহজ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন