ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালো ধোঁয়া ছেড়ে চলছিল যাত্রীবাহী বাস, অতঃপর জরিমানা


কালো ধোঁয়া ছেড়ে চলছিল যাত্রীবাহী বাস, অতঃপর জরিমানা

ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এই অভিযানের সময় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোঁয়া নির্গমন করায় কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের কসমস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেসা আক্তার।

অভিযান চলাকালে দূরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে স্মোক অপাসিটি মিটার ব্যবহার করে নির্গত ধোঁয়ার ঘনত্ব ও মান পরীক্ষা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমন করার অপরাধে মোট ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাস কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গমন না করার শর্তে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

অভিযান সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের সুরক্ষায় কালো ধোঁয়া উৎপাদনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে এই ধরনের বিশেষ তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের সময় ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) দেবাশীষ সানা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্থিক খাতে নিজস্ব সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সহযোগিতা চায় সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪০ পি.এম


আর্থিক খাতে নিজস্ব সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সহযোগিতা চায় সরকার

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার ব্যাংকিং, রাজস্বসহ আর্থিক খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই সংস্কারগুলোর বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে, এসব সংস্কার আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপের ফল নয়; দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্থ উপদেষ্টা ড. তিতুমীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে।

তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। প্রধান তিনটি সূচক ছিল—ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের হ্রাস, রাজস্ব আয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা এবং অধিকাংশ ব্যাংকে তারল্য সংকট।

তিনি বলেন, “এই তিনটি সংকট আমরা আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। অতীতে এটি আইএমএফের প্রোগ্রামের অংশ ছিল এবং তারা কিছু শর্তযুক্ত বিষয় রেখেছিল। এখন আমাদের অভ্যন্তরীণ কৌশলগুলো নিয়েই আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম লক্ষ্য। পাঁচটি ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা একসময় নিজেদের অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। এখন তাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। এতে ব্যাংকিং খাতে আস্থার পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে।

ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আবার এনবিএলের মতো অনেক বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও বা এডিআরও ছিল অনেক বেশি।

ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি কমাতে সরকার অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে সমাধান বের করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংক পরিচালনায় সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফেরাতে অর্থ ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে ৭ শতাংশ প্রণোদনামূলক সুদে একটি উদ্ভাবনী পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিতুমীর।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল, নারী উদ্যোক্তা ও অবহেলিত অঞ্চলে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর আশা করছে সরকার।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন স্থিতিশীল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন থাকা প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে সুদের হার কমাবে।

বন্ধ কলকারখানা চালু এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকেও সচল করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জিডিপি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিতুমীর বলেন, “আগের আইএমএফ প্রোগ্রামগুলো সরকার বাধ্য হয়ে গ্রহণ করেছিল। আর আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগেই ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, বন্ধ কলকারখানা চালু ও ঋণ প্রবাহের সংস্কারগুলোকে চিহ্নিত করেছি। এগুলো সবই অভ্যন্তরীণ বা স্বীয় চালিত সংস্কার প্রোগ্রাম।”

রাজস্ব বাড়াতে অর্থনীতির মডেল বদলাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা জানান, রাজস্ব খাতের দুর্বলতা কাটাতে সংস্কার চলছে। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনীতিতে কর-জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আয় তলানিতে ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ৩০ জুনের মধ্যে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রচলিত মডেলেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমরা মডেলের পরিবর্তন আনছি : উৎপাদন → বিনিয়োগ → উৎপাদন → কর্মসংস্থান।”

এছাড়া, ৪০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ফলে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমার আশা করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির কারণে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া হিসাবের কথা উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে তিনটি বড় সমস্যা ছিল—উপযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ পড়ে যাওয়া, অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং কর্মসূচিগুলোর খণ্ডবিখণ্ডতা।

এই সমস্যা কাটাতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২৩ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, ৪০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া গেলে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমে আসবে। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ১ শতাংশ।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি আগের সরকারের সময়কার স্বজনতোষণ, অলিগার্কি বা দুর্নীতিগ্রস্ত বণ্টন ব্যবস্থার কারণে হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিতুমীর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মতো বহিঃস্থ কারণ এখন মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংক পরবর্তী সময়ে নগদ অর্থের সহায়তা দেওয়ার কথা বললেও সংস্থাটির প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ডের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রতি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বাড়ছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য ৫০ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এডিবি ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর প্রেসিডেন্ট এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (ইসডিবি) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছেন।

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগকারীরা কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এবং বিশ্বের বৃহত্তম স্টার্টআপ এক্সিলারেটর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল বার্তা হবে—সংস্কারগুলো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপিয়ে দেওয়া নয়; এগুলো দেশের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ।

“আমাদের সংস্কারগুলো বাইরের সংস্থা দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া নয়, এগুলো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ,” বলেন তিতুমীর।

তিনি বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সমস্যাগুলো দেশীয়ভাবে চিহ্নিত করা এবং বিশ্বব্যাংকের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সরকারের জনগণের ম্যান্ডেট মিলিয়ে যৌথভাবে কাজ করা।

অর্থায়ন নিয়েও কোনো বিভ্রান্তি নেই জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অর্থায়নের উৎস হবে বহুমুখী। শুধু বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে কনসেশনাল ও নন-কনসেশনাল ঋণের পাশাপাশি স্থানীয় বন্ড, সুকুক বন্ড এবং ওয়েজ আর্নার স্কিমের মতো বিভিন্ন উৎস কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


দিল্লিতে ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমাপুরী এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভবন ধসের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি দ্রুত পৌঁছায়। সেখানে বর্তমানে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের আশেপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। কিছু লোক খালি হাতে পাথর ও কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, অনেকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করছেন।

ঘটনার পর দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ স্থানীয়দের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্সের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাস্তা খালি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, সীমাপুরীতে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। সীমাপুরী গোলচত্বর, ডিএলএফ ভোপুড়া ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সবাইকে এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের কাছে গাড়ি থামানো, পার্কিং করা বা ভিড় না করার এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগে দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছাত্রাবাসে দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। এর এক মাসের মধ্যে ফের বহুতল ভবন ধসের ঘটনায় দিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেসবুকে চিকিৎসকের মন্তব্য, ‘প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


ফেসবুকে চিকিৎসকের মন্তব্য, ‘প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার এই পোস্টের ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ডা. কেয়া একটি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘আপনারা একটা কাজ করবেন, এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন। অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের কাছ থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।’

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর তার পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি চৌদ্দগ্রামের খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবের ঘটনায় ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চললেও একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। পরে নবজাতকের মাথায় আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। এ অবস্থায় আশঙ্কাজনক প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে ডা. কেয়া অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছেন। রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল মন্তব্য করেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়েও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় দুই বিভাগ নিয়ে এগিয়ে চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় দুই বিভাগ নিয়ে এগিয়ে চলছে

নওগাঁ, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : একসময় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল শুধুমাত্র একটি নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি অনুমোদন পাওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু হবে কিনা, তা ছিল অনিশ্চিত। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমও ছিল না।

দুই বছর পর, পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এবং নিয়মিত ক্লাস চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব এবং আধুনিক পাঠদানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

এভাবে ধীরে ধীরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে দুটি বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। নতুন বিভাগ চালুর প্রক্রিয়াও চলছে, যার মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

উপাচার্য ড. হাছানাত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় আইনি অনুমোদন পায়।" ওই বছরের ১১ জুন প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন ড. আবুল কালাম আজাদ।

তবে এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর। ওই দিন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. হাছানাত আলী। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ গতি পায়।

নিজস্ব ভবন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দুটি ভাড়া করা ভবনে শুরু হয়। একটি ভবনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ এবং অন্যটিতে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন উপাচার্য, একজন উপ-উপাচার্য, আটজন শিক্ষক এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক রিডিং রুম, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও ভিজিটরস লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে। ডিজিটাল বোর্ড ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বকর সিদ্দিক নান্নু মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি দেখা যায় না।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অগ্রযাত্রার মধ্যে উপাচার্য ড. হাছানাত আলীর দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

উপ-উপাচার্য ড. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. হাছানাত আলী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল কাইয়ুম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বকর সিদ্দিক নান্নু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. কায়েস উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।

পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কেক কেটে উপাচার্যের দুই বছর পূর্তি উদ্যাপন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%