মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৫ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। গত জুলাই থেকে তিনি দলের প্রার্থীদের সহায়তায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ৪০৩ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমান। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে। নির্বাচনী প্রচারে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে দলটি মাস্কের এই অনুদানের মাধ্যমে।
মাস্কের রাজনৈতিক অনুদানের এই পরিমাণ আগে প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমার আগে তার প্রতিনিধিরা এই তথ্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন। প্রকাশ্যে জানা অনুদানের হিসাব অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দাতা।
এ গ্রীষ্মে রিপাবলিকানদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তিনি সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়েছেন। এই সুপার প্যাক সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করে। একক কোনো দাতার কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাবে এটি সংগঠনটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সংগঠনটির ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সব দাতার কাছ থেকে মিলিয়েও এর চেয়ে কম অর্থ সংগ্রহ করেছে।
ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে মাস্কের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা প্যাকও বড় কর্মসূচি নিয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সুপার প্যাককে তিনি এ গ্রীষ্মে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন। সংগঠনটি প্রায় পুরো অর্থ ব্যয় করেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কাজে। সংগঠনটির লক্ষ্য হলো, যেসব রিপাবলিকান ভোটার সাধারণত কম ভোট দেন, তাদের কেন্দ্রে আনা। সিনেটের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি।
২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিকে মাস্ক ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ব্যয় করেছিলেন প্রায় ২৯ কোটি ডলার। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের আবার ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। তবে উভয় নির্বাচনেই এমন কিছু অনুদান দিয়েছেন, যেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মাস্কের এই বিপুল অর্থ ব্যয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের শক্তিশালী সুপার প্যাকসহ অর্থবিত্তশালী বিভিন্ন সংগঠন বিজ্ঞাপন প্রচারে বিপুল অর্থ ঢালছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মাস্কের কাছাকাছি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন—এমন কোনো ধনকুবের নেই। রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু সুবিধাজনক অবস্থান থাকলেও অর্থের সংকট দলটির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে মাস্ক বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেবেন। কিন্তু এবার ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সহায়তায় তিনি আবারও বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। এতে ডানপন্থি রাজনীতিতে তার সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার সুপার প্যাক সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সিনেট লিডারশিপ ফান্ড ও আমেরিকা প্যাকের বাইরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাস্ক আরো কয়েকটি রক্ষণশীল সংগঠনকে অর্থ দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের প্রধান সুপার প্যাক কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডকে ২ কোটি ডলার দিয়েছেন। টেক্সাসে সিনেটের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১ কোটি ডলার। রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশন পেয়েছে ১ কোটি ডলার এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশন পেয়েছে ২০ লাখ ডলার।
আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও বলেছেন, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ জিতে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমাজতান্ত্রিক, ওক ও সীমান্তহীন’ দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তার দাবি, এই বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সংগঠনকে নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনেও মাস্কের অর্থের বড় অংশ যাচ্ছে। ভোটারদের বাড়ির দরজায় ঝোলানো প্রচারপত্রে বলা হচ্ছে, ‘উগ্র ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নির্বাচনে জিতছে। টেক্সাসও কি পরবর্তী লক্ষ্য?’ আমেরিকা প্যাকের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার বেতনভুক্ত কর্মী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গেছেন। এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৬৫ লাখ বাড়ির দরজায় পৌঁছেছেন বলে সংগঠনটির দাবি।
একজন প্রচারকর্মী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, টেক্সাসে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ার জন্য তাকে দেড় থেকে ৩ ডলার দেওয়া হতো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকা প্যাকের ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয়ের অধিকাংশই এই কর্মসূচিতে খরচ হয়েছে। বিজ্ঞাপন, ডাকযোগে প্রচারপত্র, ফোনকল ও খুদে বার্তায় ব্যয় তুলনামূলক কম। প্রচারের বড় অংশে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত।
টেক্সাসের সিনেট প্রার্থী প্যাক্সটনের পক্ষে মাস্কের ১ কোটি ডলারের অনুদান আসে এমন সময়ে, যখন রিপাবলিকান এই প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রচারে অনেক কম অর্থ ব্যয় করছিলেন। মাস্কের ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অনুদানের পর সিনেট লিডারশিপ ফান্ডও প্যাক্সটনের পক্ষে বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামে। আগস্টের শেষ দিকে সংগঠনটি তার পক্ষে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণ ডাকোটার সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুনের মিত্ররা।
মাস্কের প্রচারের আরেকটি বড় লক্ষ্য ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু। ২০২৪ সালের মতো এবারও তার সংগঠন দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয়ের চেয়ে রক্ষণশীল ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা সাধারণত কম ভোট দেন, তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব ভোটারকে কেন্দ্রে আনা রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দেখা আমেরিকা প্যাকের প্রচার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের গভর্নর প্রার্থী জিনা হিনোজোসাকে তার ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত অবস্থানের জন্য লক্ষ্য করতে হবে। সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে ‘উগ্র ট্রান্সজেন্ডার এজেন্ডা’ থাকার অভিযোগ তুলেও প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে আমেরিকা প্যাকের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিতে টালারিকোর অতীতের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর নন-বাইনারি।’ আইওয়াতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী জশ টুরেকসহ অন্য প্রার্থীদেরও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে লক্ষ্য করছে সংগঠনটি। ফেসবুকে তাদের বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে সাজসজ্জা করা এক পুরুষকে দেখিয়ে বলা হয়েছে, ‘সে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আপনি কি করেছেন? উন্মাদরা যাতে উগ্রপন্থীদের নির্বাচিত করতে না পারে, সে জন্য ঘরে বসে থাকবেন না।’
ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুর পাশাপাশি সমাজতন্ত্রবিরোধী প্রচারও তাদের কৌশলের কেন্দ্রীয় বিষয়। মেইল-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মিন্টের সঙ্গে ভাগ করা ৪৮টি প্রচারপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাস্কের সুপার প্যাক নিয়মিত ডেমোক্র্যাটদের সমাজতন্ত্রী বলে আক্রমণ করছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।
অনলাইন প্রচারে ভোটারদের নাম ধরে বার্তাও পাঠানো হচ্ছে। হাস্যোজ্জ্বল কয়েকজন ডেমোক্র্যাটকে দেখানো একটি ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘তারা হাসছে কেন? কারণ, ক্রিস্টোফার এখনো ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেনি।’ প্রচারের অংশ হিসেবে ভোটারদের আমেরিকা প্যাকের ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে রক্ষণশীল ভোটারদের নিবন্ধনের তথ্য দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘আমেরিকা পাস’ নামের একটি ডিজিটাল কার্ড প্রচার করছে সংগঠনটি। এটি অ্যাপল বা গুগলের ডিজিটাল ওয়ালেটে রাখা যায়। এতে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের তারিখ ও সময়সীমা থাকে।
এবার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও মাস্ক নিজে প্রচারে আগের মতো সরব নন। ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবার ভালো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে ‘আমাদের সময়ের আধুনিক থমাস এডিসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে মাস্ক এবার অনেকটা আড়ালে থেকে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার সঙ্গে কথা বলেছেন—এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মাস্ক মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। তাদের মতে, তিনি এখন নিজের ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রমেও তিনি ও তার ব্যবসায়িক সহযোগীরা তুলনামূলক কম ভূমিকা রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দিয়েছেন তার শীর্ষ উপদেষ্টা ক্রিস ইয়ংকে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে এক্সে মাস্ক সরাসরি মাত্র সাতটি পোস্ট দিয়েছেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে তার ধারাবাহিক প্রচারের তুলনায় এটি অনেক কম। সাতটি পোস্টের মধ্যে পাঁচটিই ছিল টালারিকোকে নিয়ে। আরেকটি পোস্টে মেইনের ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমালোচনা করা হয়েছিল বলে মনে হয়েছে।
এবার মাস্কের নির্বাচনী প্রচারের সফরও নেই। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পেনসিলভানিয়ায় এবং ২০২৫ সালের বসন্তে উইসকনসিনের একটি বিচার বিভাগীয় নির্বাচনে তিনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদের কাউকে কাউকে ১০ লাখ ডলারের বড় চেক দেওয়ার প্রতিযোগিতাও চালিয়েছিলেন তিনি। উদ্যোগটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।
এবার কোনো প্রার্থীর প্রতি মাস্কের আগের মতো ব্যক্তিগত অনুরাগও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর কাছাকাছি উদাহরণ হলো, কেনটাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক রিপাবলিকান প্রার্থীকে তার ১ কোটি ডলারের অনুদান। তবে ওই বিনিয়োগ ভালো ফল দেয়নি।
মাস্কের ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের হিসাবটি কেবল প্রকাশ্যে জানা অনুদানের পরিমাণ। এ বিষয়ে অবহিত এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের সহায়তায় এমন কিছু সংগঠনের মাধ্যমেও মাস্ক কয়েক দফায় ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি অর্থ দিয়েছেন, যেসব সংগঠনকে দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয় না। ফলে নির্বাচনে তার মোট ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন না যে চীন বা রাশিয়া ইরানকে ‘বিন্দুমাত্রও’ সহায়তা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তেহরানকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিলে মস্কো এবং বেইজিংয়ের জন্য অনেক কিছু হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে চীন ও রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, ‘যদি তারা সাহায্য করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত সামান্য। তবে আমি তা মোটেও বিশ্বাস করি না। কারণ তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে। তারা যদি সত্যিই সহায়তা করত, তবে আমরা তা দ্রুত জানতাম।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করছেন। গত মাসে শি চিনপিংয়ের মার্কিন সফরের সময় চীন ইরানকে কোনো সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন কর্মকর্তারা।
যদিও মস্কো এবং বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান চীনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করছে এবং মার্কিন ঘাঁটির স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করছে—যদিও এসব প্রতিবেদনকে ট্রাম্প আগেও অস্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মাহিদ আল হাসান মুদুলকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় ভালুকা পৌর এলাকার অডিট মার্কেটের পাঁচ রাস্তার মোড়ে ‘ভাই বন্ধু মহল ভালুকা’র উদ্যোগে এ সম্মাননা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মাহিদ আল হাসান মুদুল ভালুকা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব। বর্তমানে তিনি ভালুকা পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাঁকে এ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ,উপজেলা শ্রমিক নেতা আবু হানিফ,৭নংমল্লিকবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক নেতা মনির জামান মনির,৭নংমল্লিকবাড়ী শ্রমিক নেতা একলাছ মুন্সী, ভালুকা পৌর যুবদল নেতা সজীব মল্লিক,শ্রমিক নেতা ইসমাইলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন বিরহী পারভেজ ফকির। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মর্নিং ওয়াকের জন্য বের হয়ে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুর মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার জিংলাতলী গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে ওই দম্পতি বাড়ি থেকে মর্নিং ওয়াকের উদ্দেশ্যে বের হন। হাঁটার সময় তারা মহাসড়কের হরিপুর মসজিদের কাছে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত যানবাহন তাদেরকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় দুজনেই সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যান্য পথচারীরা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত দাউদকান্দির গৌরীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস জানান, অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য এবং চালককে আটক করতে মহাসড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আট বছর বয়সী একটি শিশুর হত্যার ৬৫ বছর পর রহস্যের সমাধান হয়েছে। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা ও সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি একসময় শিকাগো পুলিশের একজন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
নিহত শিশুটির নাম গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ। ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর, শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর শহরজুড়ে কয়েক মাস ধরে পুলিশ তল্লাশি চালায়। হাজারো মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শত শত সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সে সময় হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং সাবধানে সংরক্ষিত একটি আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র।
ম্যাকইনার্নি ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে গ্লোরিয়া হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তখন তিনি পশ্চিম শিকাগোতে একজন টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকইনার্নি ২৮ বছর চাকরি করার পর ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে তিনি নেভাদা অঙ্গরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ওই চাকরি থেকেও অবসর নেন।
২০০৬ সালে ৭০ বছর বয়সে লাস ভেগাসে তার মৃত্যু হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত হলেও জীবদ্দশায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকইনার্নির কখনোই পুলিশ বিভাগের পরিচয়চিহ্ন ধারণ করার যোগ্যতা ছিল না। জীবিত থাকাকালে তাকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল গ্লোরিয়া। তার গন্তব্য ছিল কয়েক ব্লক দূরে সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় সকালের প্রার্থনায় যোগ দেওয়া। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গ্লোরিয়া কিছুদিন আগে প্রথম ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। সেদিন তার পরনে ছিল গোলাপি ও বাদামি রঙের ছককাটা পোশাক এবং নীল রঙের একটি পোশাক।
কিন্তু গির্জায় পৌঁছানো হয়নি তার। বাড়ি ও গির্জার মাঝপথ থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্লোরিয়াকে মাথায় দুবার গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকার পাশের নালায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। এক গাড়িচালক শিশুটির রঙিন পোশাক দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি খুঁজে পান।
ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গ্লোরিয়ার কোট, জুতা এবং প্রার্থনার বই রাখা সাদা ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন তদন্তকারীরা। ওই ব্যাগের ফিতায় পাওয়া যায় একটি আঙুলের ছাপ। তবে দীর্ঘদিন এসব আলামত থেকেও হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় গ্লোরিয়ার শেষকৃত্যে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আলামত নতুন করে পরীক্ষা করার পর ২০১০ সালে তদন্তকারীরা গ্লোরিয়ার পোশাকে পাওয়া বীর্যের নমুনা থেকে সম্ভাব্য হত্যাকারীর ডিএনএ পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তবে তখনও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
২০২৪ সালে শিকাগো পুলিশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পারিবারিক বংশপরিচয় অনুসন্ধানের ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া বিভিন্ন জিনগত নমুনার তুলনা করে। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাকইনার্নির পরিচয় শনাক্ত হয়।
এরপর তদন্তকারীরা ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে চাকরির আবেদনের সময় ম্যাকইনার্নির দেওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে গ্লোরিয়ার ব্যাগের ফিতায় পাওয়া ছাপের মিল খুঁজে পান। ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ—দুই ধরনের আলামত মিলিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ম্যাকইনার্নির ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্মিলিত ডিএনএ তথ্যভান্ডারেও রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো অমীমাংসিত অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
এফবিআই জানিয়েছে, গ্লোরিয়া হত্যার আলামত এবং শিশুদের লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনকারীদের আচরণ ও ভুক্তভোগীদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য অমীমাংসিত অপরাধের সূত্রও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
গ্লোরিয়ার ভাই অ্যাডাম কোয়ালেউইচ তখন শিশু ছিলেন। বোনের হত্যার ঘটনায় ম্যাকইনার্নি জীবদ্দশায় শাস্তি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, কখনো নিজের অপরাধের শাস্তি পাননি।
তবে গ্লোরিয়াকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নির বাবা-মায়ের বাড়ি কোয়ালেউইচ পরিবারের বাড়ি থেকে এক মাইলেরও কম দূরে ছিল। কিন্তু গ্লোরিয়ার সঙ্গে ম্যাকইনার্নির আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গ্লোরিয়া হত্যার তদন্তে ম্যাকইনার্নি কখনো যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবসরের পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করার সময় ২০০৩ সালে অসামান্য কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, পাঁচ সন্তানের বাবা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনির দাদা।
৬৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ