ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা সুদৃঢ় হবে: খন্দকার মারুফ


জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা সুদৃঢ় হবে: খন্দকার মারুফ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি সেতু টোলপ্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা, পৌর ও মেঘনা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৭টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সর্বস্তরের নারী-পুরুষের ঢল নামে। বেলা সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে কুমিল্লা-১ আসনের এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে দাউদকান্দি ও মেঘনার দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বিপুল সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত নেড়ে সমবেত জনতাকে অভিবাদন জানান।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মন্তব্য করেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দূরদর্শী ভাষণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি শুনে জনগণ বিপুল উচ্ছ্বসিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র শান্তি ও স্বস্তির বাতাস বইছে। পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নেতাদের এটি সহ্য হচ্ছে না। তারা হিংসাপরায়ণ হয়ে বিদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদের সব ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার অপচেষ্টা রাজনৈতিক ও আইনি ভাবে মোকাবিলা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

খন্দকার মারুফ বিএনপির নেতাকর্মীদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে বীর যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মাঠে থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

এ সময় দাউদকান্দি উপজেলা, পৌর ও মেঘনা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি

ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাজ্যের একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালাইজেশন, মূল্যায়নের নির্ভুলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সমঝোতা স্মারক আজ গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের দপ্তরের কনফারেন্স রুমে স্বাক্ষরিত হয়। এটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের চুক্তি।

সমঝোতা চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করে আধুনিকায়ন করা হবে। এতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা, গতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এত বড় পরিসরে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত মূল্যায়ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে এই সহযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি চুক্তি নয়; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন জানান, ‘একিউএ গ্লোবালের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ঝুঁকি কম থাকবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।’

একিউএ গ্লোবালের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের পরিচালক শন ক্রোলি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত। এত বড় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে আমাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব।’

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম। একিউএ গ্লোবালের পক্ষে বিজনেস ডেভেলপমেন্টের লিড ইন্টারন্যাশনাল সৈয়দ শাহ এবং বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহিন রেজাসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও একিউএ গ্লোবালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে র-ক্ত-ক্ষ-য়ী সংঘাত, যোগাযোগের মূল পথ রক্ষা চ্যালেঞ্জে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে র-ক্ত-ক্ষ-য়ী সংঘাত, যোগাযোগের মূল পথ রক্ষা চ্যালেঞ্জে

আফ্রিকার দেশ সুদানে সরকারি বাহিনী (এসএএফ) এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'কর্দোফান'।

কর্দোফান পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সেনা-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে। ফলে, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া দুই পক্ষের জন্য এটি একটি জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আল জাজিরা এবং সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'অ্যাকলেড' (ACLED)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সুদানে রেকর্ড হওয়া মোট সংঘাতের প্রায় ২০ শতাংশই ঘটেছে কর্দোফান অঞ্চলে। এই অঞ্চলে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম— তিনটি রাজ্য রয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৮৭৬টি হামলা এবং ১২,৩১৪ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

দারফুরের শেষ প্রধান শহর এল-ফাশারের পতনের পর কর্দোফানে সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র 'এল-ওবেইদ'-এ এখন আরএসএফের নজর রয়েছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য রাজধানী খার্তুমের দিকে এগোনোর পথ উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, সুদানের সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলার মাধ্যমে আরএসএফকে পিছু হঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, বর্তমানে এল-ওবেইদে প্রায় ৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮৩ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত নাগরিক রয়েছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে মানবিক সংকট এবং পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহতার মাঝেও প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ সামরিক বাহিনীর পুনর্বিন্যস্ত এলাকায় ফিরে এলেও, কর্দোফানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়িয়ায় ৪২ লাখ টাকার সৌরবাতি প্রকল্প নষ্ট হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


মঠবাড়িয়ায় ৪২ লাখ টাকার সৌরবাতি প্রকল্প নষ্ট হচ্ছে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করার উদ্দেশ্যে দুই অর্থবছরে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। একসময় এসব বাতির আলোয় আলোকিত হতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিন্তু কয়েক বছর পর অধিকাংশ বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। খুঁটি ও সৌরপ্যানেল থাকলেও রাতে বাতি জ্বলছে না। ফলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত আলোকায়ন প্রকল্পের সুফল এখন অনেক এলাকাতেই মিলছে না। এর ফলে আলোর নিচেই অন্ধকার অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১৯টি সৌরপ্যানেল স্থাপন করা হয়। এসব সৌরপ্যানেল স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫২৬ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাতিগুলো স্থাপনের পর শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকার রাতের পরিবেশ বদলে যায়। সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলে স্বস্তি আসে। কিন্তু অনেক বাতি কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করে। কোথাও ব্যাটারি, কোথাও প্যানেল কিংবা বাতির অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ২৮–৩০ হাজার টাকায় পাওয়া সৌরবাতি প্রকল্পে ৫৬ হাজার টাকা দরে দেখানো হয়েছে। নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সড়কের পাশে এখনো সৌরবাতির খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটির ওপরে সৌরপ্যানেল, আর নিচে বাতি ও ব্যাটারি থাকলেও রাতে অধিকাংশ বাতিই জ্বলে না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা এসব অবকাঠামো এখন অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল, অনেক এলাকাতেই তা পূরণ হচ্ছে না।

আব্দুল ওহাব আলিম মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ততই এসব বাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন বেশিরভাগ সৌরবাতিই আর সচল নেই। ফলে রাত হলে অনেক জায়গা অন্ধকারে ডুবে যায়। তাঁর প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা সৌরবাতিটিও কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। নিম্নমানের হওয়ায় বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ প্রকল্প অনেক আগের। নতুন করে এখনো আলোর প্রকল্প পাইনি। তবে পুরনো বাতি সচল করা যায় কি না, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চায়। এর আগে স্থাপন করা সৌরপ্যানেলের অধিকাংশই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে কালের সাক্ষী মোগল স্থাপত্য ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ দ্রুত ভঙ্গুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


শেরপুরে কালের সাক্ষী মোগল স্থাপত্য ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ দ্রুত ভঙ্গুর

মোগল আমলের ‘ঘাগড়া লস্কর খান বাড়ি জামে মসজিদ’ কালের সাক্ষী। সচেতন মহলের মতে, জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ব বিভাগের পরিচর্য্যার অভাবে এই প্রাচীন মসজিদটি দ্রুত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। মসজিদটি বাইরের দিকে বিশাল মনে হলেও, ভেতরে এর আকার বড় নয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের পূর্ব পাশে একটি মাত্র দরজা এবং উত্তর ও দক্ষিণে দুটি জানালা রয়েছে। ইমাম ব্যতীত এখানে ৩০ জন মুসল্লি তিন কাতারে নামাজ আদায় করেন।

বারান্দায় ৫০ জন মুসল্লি নামাজ পড়েন। এর পরিধি দেখে মনে হয়, আড়াই থেকে তিনশ’ বছর পেছনে ফিরে এসেছি। উপস্থিত নামাজে ব্যতীত বোঝা সম্ভব নয়। স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন হিসেবে ঐতিহাসিক ‘খানবাড়ি মসজিদটি’ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত। প্রাচীনতম মসজিদের নাম ও কালক্রমে ‘ঘাগড়া লস্কর খানবাড়ি মসজিদ’ নামে পরিচিত। শেরপুর জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এই মসজিদটি অবস্থিত। গায়ে যে নিদর্শন রয়েছে, তা থেকে অনুমান করা যায়, মোগল সম্রাট আমলে বাঙলার বিদ্রোহের নেতা হিরোঙ্গী খাঁর বিদ্রোহের সময় এটি নির্মিত হয়। দরজায় কষ্টিপাথরে খোদাই করে আরবিতে প্রতিষ্ঠাকাল হিজরি ১২২৮ এবং ইংরেজি ১৮০৮ সাল লেখা রয়েছে।

গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও সুদৃশ্য। ভেতরে দু’টি সুদৃঢ় খিলান রয়েছে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। ভেতরের আয়তন ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩০ ফুট প্রস্থ। মধ্যস্থলে বড় গম্বুজের চারপাশে ছোট-বড় দশটি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে চার কোণায় চারটি মিনার এবং একটি দরজা রয়েছে। ভেতরে মেহরাব এবং দেয়ালে অঙ্কিত কারুকাজের ফুলদানি ও ফুল রয়েছে। ৫৮ শতক জমির ওপর মসজিদের মূল ভবনটি অবস্থিত। বারান্দা ১৭ শতকে নির্মিত হয়েছে। ৪১ শতকে কবরস্থান রয়েছে। ইমাম হাফেজ মোঃ রহুল আমীন জুম্মাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান। দুই যুগ আগে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও সভাপতির মৃত্যুর পর নতুন করে কমিটি গঠন হয়নি।

স্থানীয় শতবর্ষী ড়াঃ আব্দুল বারী, আলহাজ সরোয়ার্দী দুদু মন্ডলসহ এলাকাবাসী ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর যোদ্ধারা আত্মগোপনে ছিলেন। আজিমোল্লাহ খাঁন নামে যোদ্ধা এখানে বসবাস করেন এবং তিনিই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পালিয়ে বসবাসের কারণে তাঁর নাম হয় পলায়ন খাঁন। মসজিদের সামনে স্থাপনের তারিখ ১২২৮ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত। পুনঃসংস্কারের সময় নেম প্লেটে আজিমোল্লাহ খাঁনের দুই পুত্র আফজাল খাঁন ও গোলাপ খাঁনের নাম লেখা রয়েছে।

নির্মাণ শৈলী মনোরম এবং এটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন। উপরে পূর্ণ ছাদ এক গম্বুজে তৈরী। চার কোণে চারটি গম্বুজসহ মোট ১২টি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলো সুনিপুণভাবে নির্মিত। দেয়ালের গাথুনী ৪ ফুট পাশে, চুন ও সুরকি দিয়ে গাথা। ভেতরে সুন্দর কারুকার্যে নকশা রয়েছে। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ কিছু কাজ করেছে। বাইরের চারপাশে দেয়াল রয়েছে এবং সম্মুখে কিছু জায়গা পাকা করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনে মসজিদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের হেফাজত ও সংরক্ষণে একজন খাদেম সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমানে তিনি নেই। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ বহুবার পরিদর্শন করেছে এবং দেখতে বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শনার্থী আসে। এলাকাবাসী একজন সরকারি খাদেম, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং মসজিদটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল আমীন বলেন, প্রাচীনতম মসজিদটির দেখভাল বা সংস্কারের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ব বিভাগের। পরিচর্যা ও মেরামতের দায়িত্বও তাদের। শেরপুর বা জামালপুরে তাদের অফিস আছে কিনা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন। ভঙ্গুর অবস্থা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর তাগিদ দেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%