প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফ্রিকার দেশ সুদানে সরকারি বাহিনী (এসএএফ) এবং আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'কর্দোফান'।
কর্দোফান পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সেনা-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে। ফলে, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া দুই পক্ষের জন্য এটি একটি জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল জাজিরা এবং সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'অ্যাকলেড' (ACLED)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সুদানে রেকর্ড হওয়া মোট সংঘাতের প্রায় ২০ শতাংশই ঘটেছে কর্দোফান অঞ্চলে। এই অঞ্চলে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম— তিনটি রাজ্য রয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৮৭৬টি হামলা এবং ১২,৩১৪ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
দারফুরের শেষ প্রধান শহর এল-ফাশারের পতনের পর কর্দোফানে সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র 'এল-ওবেইদ'-এ এখন আরএসএফের নজর রয়েছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য রাজধানী খার্তুমের দিকে এগোনোর পথ উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, সুদানের সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলার মাধ্যমে আরএসএফকে পিছু হঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, বর্তমানে এল-ওবেইদে প্রায় ৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮৩ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত নাগরিক রয়েছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে মানবিক সংকট এবং পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের ভয়াবহতার মাঝেও প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ সামরিক বাহিনীর পুনর্বিন্যস্ত এলাকায় ফিরে এলেও, কর্দোফানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন