ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সন্তানহীন সংসারে স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা শাহানাজ বেগম


সন্তানহীন সংসারে স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা শাহানাজ বেগম

‘আমার কোনো সন্তানাদি নেই। স্বামী ছিল একমাত্র ভরসা। সেই ভরসাও আজকে শেষ হয়ে গেল।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলার ৪০২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু বিভাগের বেডের পাশে স্বামী লিটন মিয়ার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শাহানাজ বেগম। তার স্বামী আর নেই, এই সত্যটি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। বারবার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘আমার স্বামী ঘুমাচ্ছে, মরেনি।’

১২ বছর আগে লিটন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শাহানাজ বেগমের। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। স্বামীই ছিলেন তার একমাত্র ভরসা। ডেঙ্গুতে সেই স্বামীকে হারিয়ে এক মুহূর্তেই যেন নিঃস্ব হয়ে গেলেন তিনি। হাসপাতালের বেডের পাশে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।

লিটনের বাড়ি গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমির তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায়। সেখানে তিন ভাই, দুই বোন ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। আনসার একাডেমির পাশে গোমতী টেক্সটাইল লিমিটেডে প্রায় ১০ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করতেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীর ৩০০ ফিটে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় একজন নিহত, একজন আহত

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বুধবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলার ৪০২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু বিভাগে ভর্তি হন। এর আগে মঙ্গলবার গাজীপুরের সফিপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের সি-স্টাফ নার্স নাজনীন নাহার যুগান্তরকে জানান, হাসপাতালে আনার সময়ই লিটনের অবস্থা খারাপ ছিল। পরে ডায়রিয়া-আমাশয়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়। রক্তচাপও খুব কম ছিল। দুই হাতে স্যালাইন দেওয়া হয়। রাতে ও সকালে স্যালাইন দিয়ে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। এরপরও অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান।

স্বজনরা জানান, লিটন প্রায় পাঁচ দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি কর্মস্থলে নাইট ডিউটিতে ছিলেন। পরদিন সকালে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরেন। ভোর থেকে তার প্রচণ্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা শুরু হয়। গুরুতর জ্বর নিয়ে দুদিন বাসায় ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে প্রথমে কালিয়াকৈরের শিমুলতলী সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে শয্যা না থাকায় তাকে সফিপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী শাহানাজ যুগান্তরকে জানান, গত বছরও লিটনের ডেঙ্গু হয়েছিল। তখন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। এবারও তার স্বামী সুস্থ হয়ে ফিরবেন, এমন আশাই করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও মোবাইল ফোন

লিটনের বড় ভাই মো. জুয়েল মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ও দুই বোন। লিটন মিয়া মেজ ভাই। টানাটানির সংসার হলেও আমার ভাই আমাদের সব ভাই-বোনকে অনেক ভালোবাসত। তাকে হারিয়ে আমাদের পরিবার একেবারে শূন্য হয়ে গেল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুয়েল বলেন, ‘মৃত্যুর এক মিনিট আগে লিটন বলেছিল, আমাকে একটু নিচে শোয়াও, আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। এরপরই আমার ভাই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, একটু আগেও যে ভাই আমার সঙ্গে কথা বলল, সে আর নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিজড়ারা ইমামতি করলে নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


হিজড়ারা ইমামতি করলে নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা আমাদের সমাজে একটি ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ও মর্যাদা ইসলাম সংরক্ষণ করেছে। হিজড়াদের ইমামতি এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে তাদের পরিচয় ও বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো।

হিজড়াদের ইমামতি ও নামাজ শুদ্ধ হওয়ার শরিয়তি বিধান

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইমামের যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিজড়াদের ইমামতির বিষয়টি মূলত তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল।

ইসলামে হিজড়ার প্রকারভেদ ও শরিয়তি বিধান

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে হিজড়াদের মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—

১. পুরুষ হিজড়া

যেসব হিজড়ার মধ্যে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য প্রবল থাকে, শরিয়তে তাদের পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

লক্ষণ: দাড়ি-গোঁফ গজানো, নারী সহবাসে সক্ষমতা, স্বপ্নদোষ হওয়া ইত্যাদি।

বিধান: পুরুষের যাবতীয় বিধিবিধান তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন—ইমামতি শুদ্ধ হওয়া, নারীর সঙ্গে বিবাহ বৈধ হওয়া, পুরুষের সঙ্গে বিবাহ অবৈধ হওয়া, নারীর সঙ্গে পর্দা জরুরি হওয়া এবং মীরাসের (উত্তরাধিকার) সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে পুরুষ বিবেচনা করে অংশ নির্ধারণ করা।

২. নারী হিজড়া

যেসব হিজড়ার মধ্যে নারীর বৈশিষ্ট্য প্রবল থাকে, তাদের নারী গণ্য করা হয়।

লক্ষণ: স্তন বিকশিত হওয়া, ঋতুস্রাব হওয়া, সহবাসের উপযোগিতা থাকা, গর্ভ সঞ্চার হওয়ার ক্ষমতা থাকা ইত্যাদি।

বিধান: নারীদের যাবতীয় বিধিবিধান তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন— পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বৈধ হওয়া, নারীর সঙ্গে বিবাহ অবৈধ হওয়া, পুরুষের সঙ্গে পর্দা করা এবং মীরাসের ক্ষেত্রে নারী বিবেচনা করে সম্পদ বণ্টন করা।

৩. জটিল হিজড়া (খুনসায়ে মুশকিলা)

যেসব হিজড়ার মধ্যে নারী-পুরুষের কোনো স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় না অথবা উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য সমানভাবে থাকে, তাদের ‘খুনসায়ে মুশকিলা’ বা জটিল হিজড়া বলা হয়।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে মানবমর্যাদা ও সমতা

ইসলাম ধর্মে লিঙ্গ বা শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষকে তার জন্মগত মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا

‘আর আমি তো আদমসন্তানকে সম্মান দিয়েছি এবং তাদের জলে-স্থলে বাহনে চড়িয়েছি এবং তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি। আর আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৭০)

মানবীয় মর্যাদার পাশাপাশি ইবাদত ও তাকওয়ার মাপকাঠিতেই আল্লাহর দরবারে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ علِيمٌ خَبِيرٌ

‘হে মানুষ! আমি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাপন্ন যে তোমাদের মধ্যে বেশি মুত্তাকি (পরহেজগার)। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)

হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও আমাদের সমাজের অংশ। শারীরিক কোনো ব্যতিক্রম বা জটিলতার কারণে ইসলাম তাদের মৌলিক মানবাধিকার, ইবাদত কিংবা সামাজিক সম্মান থেকে বঞ্চিত করেনি। শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান মেনে তাদের সঠিক পরিচর্যা, অধিকার রক্ষা এবং ইবাদত পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি সচেতন মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব বিষয়ে শরিয়তের সঠিক জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিভোর্সের হার বাড়ার নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


ডিভোর্সের হার বাড়ার নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

সোশাল মিডিয়া বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রের কারণে স্বামী-স্ত্রী দুইজন আলাদা শহরে বাস করেন। ফলে তাদের মধ্যে কথোপকথনের সুযোগ কোথায়! অধিকাংশেরই ভরসা সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার অথবা হোয়াটসঅ্যাপ। আর সেই সোশ্যাল মিডিয়াতেই ঘটে ঝগড়া।

কিছু মানুষ যখন মন খারাপ করেন, তখন তা ফেসবুকে প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অন্যদের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতাই ডিভোর্সের হার বাড়াতে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মৃতিতে কোনো ক্ষত টাটকা থাকলে, আপনি চাইলেও ক্ষমা করে এগিয়ে যেতে পারবেন না। বর্তমান প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।

এক আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, ‘আজকাল কোনো কিছুই সত্যি সত্যি হারিয়ে যায় না। রাগের মাথায় পাঠানো একটি মেসেজ বহু বছর পরও খুঁজে পাওয়া যায়। বহু বছর আগে তোলা একটি ছবি হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে। যা আপনাকে আবার পুরনো সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যে ক্ষত ভুলে আপনি এগিয়ে গিয়েছিলেন, তা নতুন করে ফিরে আসে। তবে আগে তর্কাতর্কি হলে সেই সময়েই তা মিটে যেত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভোর্সের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রভাবও রয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় এখন সবাই নিজের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেন। কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় খাচ্ছেন, কী পরছেন-সবকিছুই এখন জানার সুযোগ রয়েছে। অন্যদের জীবনের অত্যন্ত যত্নসহকারে সাজানো বা পরিমার্জিত রূপ প্রতিনিয়ত দেখার ফলে মানুষের মনে হতাশা তৈরি হয়। যা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘ছবির আড়ালে আসলে কী ঘটছে তা না জেনেই দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করতে শুরু করেন।’

এর ফলে নিজেদের দাম্পত্য নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। যা দুইজন মানুষকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে দেয়। এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় বহু মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার ফলে অনেকক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। যা মজবুত সম্পর্ককেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিতে পারে নিমেষে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলা খেলে শরীরের জন্য উপকার: সকালের খাবারে যুক্ত করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


কলা খেলে শরীরের জন্য উপকার: সকালের খাবারে যুক্ত করুন

কলা একটি ফল, যা বছরের প্রায় সব সময় সহজলভ্য। কোন সময়ে কলা খেলে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকার হয়? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আসলে কলা খাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ‘সেরা সময়’ নেই।

সকালে কলা খাওয়া কি ভালো?

সকালে কলা খেলে শরীরের শক্তি দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। কলায় বিদ্যমান কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তবে খালি পেটে কলা খেলে সকলের শরীরে একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। তাই এমন সমস্যা হলে কলার সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনো প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।

শরীরচর্চার আগে কলা কেন খাওয়া হয়?

জিমে যাওয়ার আগে দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে কলা একটি সুবিধাজনক স্ন্যাকস হতে পারে। ব্যায়ামের ৩০-৬০ মিনিট আগে কলা খেলে এর কার্বোহাইড্রেট শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া কলায় থাকা পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কলাকে সম্পূর্ণ প্রি-ওয়ার্কআউট খাবার হিসেবে ধরার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ বা অধিক পরিশ্রমের ব্যায়াম হলে কলার সঙ্গে কিছু বাদাম বা দইয়ের মতো প্রোটিনযুক্ত খাবার যুক্ত করা যেতে পারে।

ব্যায়ামের পরেও কলা খাওয়া যেতে পারে। ওয়ার্কআউটের পরে শরীরের শক্তির ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হয়। সেই সময় কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে পেশি পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু কলার পরিবর্তে প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে এটি খেলে খাদ্যতালিকা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

রাতে কলা খাওয়া কি একেবারেই নিষেধ?

রাতে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে ভয় রয়েছে। তবে সাধারণভাবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যে রাতে কলা খাওয়া যাবে না। রাতের খাবারের পরে মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে পরিমাণ বুঝে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে ভারী খাবারের পর কলা খেলে কিছু মানুষের পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাওয়া ভালো।

তাহলে কখন খাবেন?

কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও শুধু কলার উপর নির্ভর না করে অন্যান্য ফল, সবজি, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে কলার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগালের দাপুটে ৪-২ জয় ডেনমার্কের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগালের দাপুটে ৪-২ জয় ডেনমার্কের বিরুদ্ধে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই জয় পেতে সক্ষম হয়েছে পর্তুগাল। আজ কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগের ম্যাচে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল।

রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে গোল করেছেন জোয়াও কানসেলো, গনসালো রামোস, ভিটিনিয়া ও জোয়াও ফেলিক্স। অন্যদিকে, ডেনমার্কের হয়ে দুটি গোল করেছেন মিকেল ডামসগার্ড ও রাসমুস হইলুন্দ।

এই জয়ের ফলে নেশনস লিগে পর্তুগাল টানা তিন ম্যাচ জিতল। এর আগে তারা ওয়েলস ও নরওয়েকে পরাজিত করেছিল। ২০২৬-২৭ নেশনস লিগের লিগ পর্বে পর্তুগাল ‘এ৪’ গ্রুপে অংশগ্রহণ করছে।

কোপেনহেগেনের পারকেন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।

১৩ মিনিটে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন জোয়াও কানসেলো। তবে স্বাগতিক ডেনমার্ক বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে পারেনি। ২৩ মিনিটে মিকেল ডামসগার্ডের গোলে তারা সমতায় ফেরে। এক মিনিট পর গনসালো রামোস আবার পর্তুগালকে এগিয়ে নেন।

বিরতির পর স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। রাসমুস হইলুন্দ দারুণ এক চিপ শটে গোলরক্ষক দিয়েগো কোস্তার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন।

বিরতির পর ম্যাচে ফের ডেনমার্ক। ৫৫ মিনিটের দিকে রাসমুস হইলুন্দের গোলে তারা আবারও সমতায় আসে। ৭০ মিনিটের পর ভিটিনিয়ার গোলে সফরকারীরা আবার এগিয়ে যায়।

শেষের দিকে ডেনমার্ক সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও উল্টো পর্তুগাল আবারও জালে বল পাঠায়। ৮৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%