সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, "সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে।"
তিনি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, "সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, "জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে।" সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়ে জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, "বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম।" তবে তখনও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। বর্তমানে আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে। জনগণ বলে, টুকু যায় আর আসে।"
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।" নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন গদি রক্ষা করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামীকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ও জাপান। এই ম্যাচের আয়োজন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে করা হয়েছে।
তবে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এ ম্যাচটি নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পূর্ব জাপানে টাইফুন ‘দুজুয়ান’ ধেয়ে আসছে, যা বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ভেস্তে যেতে পারে।
বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায় তোচিগি প্রিফেকচারের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে।
টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রভাবে জাপান জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি চলছে। এর ফলে ২৭৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ভারতীয় দল আজ অনুশীলনও করতে পারেনি।
ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বলেন, “প্রথমবারের মতো জাপানের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হবে। একটি দারুণ ম্যাচের অপেক্ষায় পুরো দল।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জাপান ভারতের ২০তম প্রতিপক্ষ হবে। আইয়ার আরও বলেন, “জাপান খুব সুন্দর দেশ। এখানে আসার পর খুব ভাল অভ্যর্থনা পেয়েছি। দেশটা ঘুরে দেখার লক্ষ্য ছিল আমাদের। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে আমরা আটকে গিয়েছি। অনুশীলন করতে পারিনি। আবহাওয়ার কথা আমাদের জানা ছিল না। তবে আশা করছি খেলা হবে।”
ঐতিহাসিক এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে জাপান জুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ম্যাচের সব টিকিট এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে জাপান এখন পর্যন্ত ৬২টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ৪১টিতে তারা জয়ী হয়েছে, ১৯টিতে পরাজিত হয়েছে এবং ১টি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়েছে।
জাপান দল : কেন্ডেল কাদোওয়াকি-ফ্লেমিং (অধিনায়ক), চার্লি হারা-হিনজে, বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস, অ্যালেস্টার কাদোওয়াকি-ফ্লেমিং, কোহেই কুবোতা, জেক কুসুদা-নাইর্ন, ওয়াতার মিয়াউচি (উইকেটরক্ষক), রেও সাকুরানো-থমাস, অ্যালেক্স শিরাই-প্যাটমোর (উইকেটরক্ষক), শোমা সুগায়া-স্টোর, ডেকলান সুজুকি-ম্যাককম্ব, সুয়োশি তাকাদা, ইব্রাহিম তাকাহাশি, মাকোতো তানিয়ামা ও লাচলান ইয়ামামোতো-লেক।
ভারত দল : শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সুরিয়াবংশি, সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান, তিলক ভার্মা, শিভম দুবে, নিতিশ কুমার রেড্ডি, জসপ্রিত বুমরাহ, রবি বিষ্ণোই, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, ভিপরাজ নিগাম, আর্শদিপ সিং, ইয়াশ ঠাকুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে সোমবার (২১শে সেপ্টেম্বর-২৬) দিনব্যাপী বগুড়ার গাবতলী বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের তরুণীহাটে ইছামতী নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন রাউন্ড শেষে প্রথম স্থান অধিকার করে "রাখে আল্লাহ মারে কে" এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে "বিজয় উল্লাস" নৌকার মালিক। ১০নং বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গদলের আয়োজনে সমাপনী অনুষ্ঠানে গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোছাঃ সহমিনা আক্তার রুমা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নবীর হোসেন আকন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বাবুল মন্ডল, মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মন্ডল, বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস মাহমুদ উজ্জ্বল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রিবন, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম তৌরাত হোসেন পাইলট, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সজীব প্রাং, বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নোমান বাবু, মহিলাদল নেত্রী নাজমা বেগম, মাজেদা ইয়াসমিন টুনি, লিপি আক্তার আশা, সাবিনা বেগম, শাবানা বেগম, পারুল বেগম।
এরপর চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ উভয়েই বিজয়ী নৌকা মালিকের হাতে পুরস্কার হিসেবে (প্রত্যেককে একটি করে গরু) মোট ২টি গরু প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে তরুণীহাট চত্বরে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। দুই দিনব্যাপী মেলায় বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ, তরুণ, তরুণী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ঘিরে নদীর দুইপাড়ে লাখো মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজমান ছিল। ঢোলের তালে তালে মাঝিদের হৈ-হৈ-রব এবং বৈঠার ছন্দে পুরো ইছামতী নদী মুখরিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকাগুলোর ছন্দময় গতি ও মাঝিদের নৌকা চালানোর দক্ষতা উপভোগ করেন লাখো দর্শনার্থীগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা দিয়েছেন যে, শুধু রমজান মাসের জন্য নয়, বরং সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাজারে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ায় বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রমজান মাসে ভোগ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। তবে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র রমজানকেন্দ্রিক নয়, বরং সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য সহনীয় রাখা সরকারের লক্ষ্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতির খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সামগ্রিকভাবে বড় মনে না হলেও, এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, বাজারে মানুষের আস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খালের বিভিন্ন স্থানে মোট আটটি কালভার্ট ছিল। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায় সবগুলো। কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে খালে মিশে যায়। দুই বছর অতিবাহিত হলেও সড়কগুলো নির্মাণ করা হয়নি।
কালভার্টগুলোর অবস্থান লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ বয়ারচর এলাকার গাবতলী খালে অবস্থিত।
এদিকে, স্থানীয়রা বিকল্প সড়ক তৈরি করায় বর্তমানে কালভার্টগুলো সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয়ারচর এলাকার তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের মাঝে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে কালভার্টগুলো। কালভার্টের দুই পাশে সড়কের কোনো অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের তোড়ে কালভার্টের দুই পাশের সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খালের মাঝখানে কালভার্টগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা করায় কালভার্টগুলো এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা চরগুলোতে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২০০৭ সালে বয়ারচরের গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি কালভার্টের ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা।
দীর্ঘ ১৭ বছর কালভার্টগুলো জনগণের উপকারে এলেও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার নদীর পানির স্রোতসহ নানা কারণে সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়। এরপর থেকে কালভার্টগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সূত্র জানায়, সিডিএসপি প্রকল্পের কাজ চরে বসবাসকারী দরিদ্রদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নত করা, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন থেকে চর রক্ষায় বাঁধ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ করা।
এ ছাড়া চরের জমিতে কৃষিকাজ বাড়াতে সহায়তা এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমির মালিকানা বা পর্চা বিতরণ করাসহ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করা ছিল প্রকল্পের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস সরকার যৌথভাবে সিডিএসপি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পরিচালনা করত।
স্থানীয়রা জানান, তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন কালভার্টের পশ্চিম পাশে মোহাম্মদপুর, পূর্ব পাশে ডাকাইয়া গ্রাম অবস্থিত। দুই গ্রাম ও আশপাশের পাঁচটি গ্রাম মিলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। এসব বাসিন্দা স্থানীয় তেগাছিয়া বাজার, টাঙ্কি বাজার, ব্রিজঘাট ও রামগতি বাজারে যাতায়াতের জন্য আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল প্রকল্পের আওতায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ জানান, কালভার্টগুলো একসময় মানুষ ব্যবহার করলেও এখন পরিত্যক্ত। কারণ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক অনেক আগেই ভেঙে গেছে। খালের মাঝখান থেকে এগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আরেক বাসিন্দা মো. বাবলু বলেন, কালভার্টগুলো এখন আমাদের জন্য ক্ষতিকর। পানির স্রোত এসে কালভার্টের সঙ্গে ধাক্কায় আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, কালভার্টগুলো মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এগুলো এখন আমাদের জন্য বিষফোঁড়া। দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, খবর নিয়ে কালভার্টগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ