মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধ,
০৪:১৬ পি.এম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এড. আবুল কালাম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের গভর্ণিং বডির সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর বাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং স্পিকার মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জনসাধারণ।
শুভেচ্ছান্তে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এর সর্বস্তরের জনগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের কাজটিকে নিভৃতে করে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। প্রচার-প্রচারণা, আত্মপ্রচার কিংবা নিজের অর্জন নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া—এসব যেন তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে, মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দার পরিচিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাবু, যিনি সবার কাছে মিজান বাবু নামেই অধিক পরিচিত।
১৯৭৫ সালের ১ আগস্ট ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে জন্ম তার। বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু জীবনের শুরুতেই নেমে আসে বড় এক দুঃখ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ১৯৮০ সালে বাবাকে হারান তিনি। বাবার স্নেহ হারিয়ে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে থাকেননি। শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন নিজের চেষ্টায়। ১৯৯১ সালে নগরকান্দার এম.এন. একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে একই কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলেও নানা বাস্তবতার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই মানুষের কথা বলার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে টেনে আনে সাংবাদিকতায়। ২০১০ সালে ফরিদপুরের স্থানীয় দৈনিক কুমার পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেন। একই বছর জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান।
এরপর একে একে কাজ করেন দৈনিক সংবাদ, সকালের খবর, আলোকিত বাংলাদেশ এবং মানবকণ্ঠ পত্রিকায়। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনই ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।
গ্রামীণ সাংবাদিকতার বাস্তবতা সহজ নয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয়। তবু মিজান বাবু বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বহুবার ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন।
এই পথচলায় তাকে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলা, মামলা, হুমকি—সবকিছুরই শিকার হয়েছেন। অনেক সময় সামাজিক ও পেশাগতভাবে একঘরে করার চেষ্টাও হয়েছে। তবু তিনি থেমে যাননি। কারণ তার বিশ্বাস, সাংবাদিকতা যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার না হয়, তবে সেই সাংবাদিকতার মূল্য অনেকটাই কমে যায়।
তার সহকর্মীদের অনেকেই বলেন, মিজান বাবুর সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্পষ্টবাদিতা। তিনি যেটিকে সত্য মনে করেন, সেটিই বলতে চেষ্টা করেন। এই স্বভাবের কারণে যেমন অনেকের শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তেমনি অনেকের বিরাগভাজনও হয়েছেন। কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
আর্থিক দিক থেকেও তার জীবন খুব স্বচ্ছল নয়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেও বিলাসী জীবন তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু অর্থকষ্ট কখনোই তাকে নীতির সঙ্গে আপস করতে শেখাতে পারেনি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি কখনো কাউকে ভয় দেখিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে কিংবা কারও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেননি। সংবাদকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম বানানোর চেয়ে মানুষের আস্থাকে বেশি মূল্য দিয়েছেন।
অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেও তিনি বরাবরই সোচ্চার। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কিংবা সংবাদকে বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, একটি সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের নিজেদেরও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।
পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও তার রয়েছে কিছু ভিন্ন আগ্রহ। তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কবিতা আবৃত্তি করতে পছন্দ করেন এবং সুযোগ পেলেই নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে। চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক বা বিলাসী জীবন তাকে আকর্ষণ করে না। একটি সাধারণ টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেই তাকে অধিকাংশ সময় দেখা যায়। স্ত্রী রাকিবা আক্তারী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে কর্মরত। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, নিজের সম্পর্কে লেখা বা প্রচার তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। পরিচিতদের ভাষ্য, নিজের কাজের চেয়ে কাজের ফলাফলকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এমনকি তাকে নিয়ে এই ধরনের লেখা প্রস্তুতের সময়ও তিনি বারবার লেখকের ফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে নিজের বিষয়ে কিছু লেখা না হয়। নিজের ছবি তুলতেও অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক অনুরোধের পর একটি ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।
এই অনীহা হয়তো তার ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ নিজেকে নয়, সমাজকে সামনে নিয়ে আসা। সংবাদে যেন মানুষ থাকে, সাংবাদিক নয়—এমন একটি দর্শন তিনি ধারণ করেন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা আলোচনার বাইরে থেকেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মিজান বাবুও সেই সারির একজন। জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত না হলেও স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়-অনিয়ম, সম্ভাবনা ও সংকটের গল্প বছরের পর বছর ধরে তুলে ধরেছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পেশায় সাফল্যকে অনেকেই পদ-পদবি, খ্যাতি কিংবা আর্থিক অবস্থান দিয়ে মাপেন। কিন্তু আরেক ধরনের সাফল্যও আছে—যেখানে একজন মানুষ নিজের নীতি, সততা ও বিবেককে অক্ষুণ্ন রেখে পথ চলেন। সেই পথ হয়তো সহজ নয়, অনেক সময় নিঃসঙ্গও। তবু সেই পথই সমাজে কিছু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।
মিজান বাবুর জীবনগল্প হয়তো কোনো রূপকথা নয়। এতে নেই বড় কোনো ক্ষমতার গল্প কিংবা বিত্তের ঝলকানি। আছে সংগ্রাম, সততা, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি এক ধরনের অবিচল আস্থা। সেই কারণেই তিনি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নন, কিন্তু নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া একজন গ্রামীণ সাংবাদিক হিসেবে অনেকের কাছে সম্মানের নাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাঁচ বছর আগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাবনা সুগার মিল পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে মিল চালুর ঘোষণার পর এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বন্ধ অবস্থায় পড়ে গিয়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মিলের উপর ৫৫৩ কোটি টাকার ঋণ চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। ফলে মিল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্টরা সরব হয়ে উঠেছে।
১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল, যা ১২৫ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল। পরীক্ষামূলক উৎপাদন ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরের বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়। সচল কার্যক্রম বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের সুদ সময়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অলাভজনক কার্যক্রমের জন্য ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
হিসাবরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের বছরেও মিলটি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছিল। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ ঋণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় মিলকে ভারী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
বর্তমানে মিলের যন্ত্রপাতি রক্ষার জন্য ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছেন, যাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতনব্যয় হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশাসন, হিসাব, কারখানা, ইক্ষু বিভাগ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ২৩ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এই মিলেই স্বাভাবিক সময়ে ১,২০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজ করতেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের ব্যস্ত কারখানা এখন পরিত্যক্ত এবং জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আখবাহী ট্রাক ও ট্রলি এখন আগাছায় ঢাকা পড়ে রয়েছে এবং বেশির ভাগ যানবাহন মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে।
গোডাউন ও টিনশেডের ছাউনি ঝুলে পড়েছে এবং দেওয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। বয়লার হাউজ, ক্রাশার, ডোঙ্গা, রুলার, বিয়ারিংসহ প্রধান উৎপাদন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এক কর্মচারী জানান, "এখন যে মাঠে ঝোপঝাড় দেখা যাচ্ছে, এক সময় এসব জায়গা আখবাহী গাড়ি এবং মানুষের পদচারণায় জমজমাট ছিল। চাষিরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারতেন। কিন্তু মিল বন্ধের পর সেই দৃশ্য আর নেই।"
মিলের অধীনে ঈশ্বরদীসহ পাবনা অঞ্চলে ৮টি আখ জোন ছিল, যেখানে ৫-৫.৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন। মিল বন্ধের পর অধিকাংশ কৃষক আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। মিলের চালুর ঘোষণার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
পাবনা সুগার মিল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা জানান, "চাষীদের পক্ষ থেকে আমরা শিল্প উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। ঘোষণার এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা আখ চাষীদের পক্ষ থেকে দ্রুত মিল চালুর দাবি জানাচ্ছি।"
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, উৎপাদন বন্ধের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "তিন ধাপে দেশের চিনিকলগুলো চালুর কথা শোনা গেলেও পাবনা সুগার মিল কবে চালু হবে—এ বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।"
তিনি আরো জানান, "মিল চালুর ঘোষণা দিলেও প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। আখের সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা এখনও চাষীদের আখ চাষ বন্ধ না করতে উৎসাহিত করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেল আনুমানিক ১৯.৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর পৌরসভার নুনিগোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনৈক মো: আনিসুজ্জামান চিন্টু (৫৫) এর বাড়িতে কতিপয় ব্যক্তি গত ০৫/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে আম ব্যবসায়ীর পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। সেখানে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক নিরঞ্জন, এ কে এম আতিকুর রহমান) এর সহযোগিতায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা করেন। সন্ধ্যা ১৯.৫০ ঘটিকায় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ৬ জন ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন ডাকাত কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে রাত ২২:০০ ঘটিকায় রহনপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন নিমতলা নামক স্থানে রাস্তার উপর থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নাম্বারপ্লেট বিহীন পিকআপ ভ্যান উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিরা বিভিন্ন ডাকাত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং গ্রুপ প্রধান। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১. মো: ইমরান হোসেন (২২), পিতা- মো: বুলবুল হোসেন, সাং- বেতবাড়িয়া, ইউপি- যাদবপুর, থানা- মহেশপুর, জেলা- ঝিনাইদহ।
২. মো: সাইফুল মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সেকেন্দার মন্ডল, সাং- জুনিয়াদহ, ইউপি- দৌলতপুর, থানা- ভেড়ামারা, জেলা- কুষ্টিয়া।
৩. মো: মুন্না হাসান (১৯), পিতা- মো: আব্দুল জলিল, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৪. মো: আসিফ হোসেন (২১), পিতা- শওকত আলী, সাং- থানাপাড়া, ইউনিয়ন- সারাই, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৫. মো: শান্ত (২৭), পিতা- মো: আব্দুর রকিব, সাং- মাইজদিয়া নতুনপাড়া, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
৬. মো: রতন আলী (৩৫), পিতা- মো: আবু তালেব, সাং- বড়ইচারা, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ২৪ ইঞ্চি বোল্ট কাটার (১টি), ২৯ ইঞ্চি লোহার রড (১টি), ১২ ইঞ্চি লোহার হাতুড়ি (১টি), ৩০ ইঞ্চি লোহার পাইপের তৈরি দুফলা (১টি), ১৯ ইঞ্চি কাঠের বাটসহ লোহার হাসুয়া (২টি) এবং ১টি নাম্বার প্লেট বিহীন নীল ও হলুদ রঙের পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মামলা নং-২৪, তারিখ-০৭/০৭/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: অফিসার ইনচার্জ, গোমস্তাপুর থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আজ মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।
সভায় জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ৫ আগস্ট সকাল নয়টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
সুবিধাজনক সময়ে নগরীসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, জিরোপয়েন্ট, কুয়েট সংলগ্ন এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। দুপুরের সময় হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া বেলা ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত ছাত্র-জনতা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ