ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে আজও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান


ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে আজও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

আজও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির গ্রাহক ফোরাম এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকের দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় পৃথকভাবে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান করছে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করছেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশও করছেন। অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। পরে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রার মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম দাবি করছে, অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাই অবৈধ। তারা বলছেন, অর্থপাচারকারী এস আলম কোনো সার্কুলার ছাড়াই, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এবং বহু জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রভাবমুক্ত, সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে দ্রুত পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি টানা তিন দিন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘দফা এক দাবি এক, পুনর্বহাল পুনর্বহাল’। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে আসা। তারা জানান, প্রথমে মতিঝিল শাপলা চত্বর ও পরে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, "ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।" তিনি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান।

এছাড়া, নুরুন্নবী মানিক এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত এবং অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধা সমন্বয়ের দাবি জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, "ব্যাংক কম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।" তিনি জানান, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেকেই বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত আছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না: মামুনুল হক

মুতাসিম বিল্লাহ দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে। আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং তারা এস আলম গ্রুপের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।"

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে টিপু প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। টিপু জানান, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। পরে মতিঝিল এলাকা থেকে মিছিলের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ: হানিফসহ ৪ আসামির রায় ২৯ অক্টোবর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে ৪০ বছর পর সওজের জমি থেকে পাঁচ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ সেতু নির্মাণে বাধা দূর, যানজট নিরসনের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


কাউখালীতে ৪০ বছর পর সওজের জমি থেকে পাঁচ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ সেতু নির্মাণে বাধা দূর, যানজট নিরসনের প্রত্যাশা

পিরোজপুরের কাউখালীতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে সড়কের ওপর থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আলা আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগের বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান দেখতে সকাল থেকেই সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় জমায়।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর সড়ক বিভাগাধীন গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী জেলা মহাসড়কের কচুয়াকাটি এলাকায় একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সওজের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
এ কারণে সওজের পক্ষ থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনা ও জনস্বার্থে বুধবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, জনস্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিনের পুরনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে হঠাৎ করেই উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কিশোর কুমারের গান গাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলিউডের জনপ্রিয় গান গেয়ে নৈশভোজে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিনোদন প্রদান করেন।

ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের সাংস্কৃতিক পর্বে আনোয়ার ইব্রাহিম কিশোর কুমারের অমর জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হাকিকত’ পরিবেশন করেন। গানটি শুনে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমায় কিশোর কুমারের কণ্ঠে গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সময়ের সাথে সাথে গানটির জনপ্রিয়তা কমেনি। ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে কিশোর কুমারের সংগীতের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আনোয়ার ইব্রাহিম গানটি পরম মমতা ও আবেগের সাথে গেয়েছেন, যা নেটিজেনদের মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

বলিউডের প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তিনি এর আগে বিভিন্ন আয়োজনে ভারতীয় সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। এবার ব্রিকসের নৈশভোজে কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে অতিথিদের চমকে দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

কিশোর কুমারের কণ্ঠে কালজয়ী গান এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রপ্রধানের সেই গান পরিবেশনা; এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ব্রিকসের নৈশভোজের মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমেও নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের সমীকরণ বদলাবে কয়েক মাসের মধ্যে: জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


যুদ্ধের সমীকরণ বদলাবে কয়েক মাসের মধ্যে: জেডি ভ্যান্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব ও সংঘাত আগামী দুই মাসের মধ্যে এক নতুন ‘ভিন্ন ধাপে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

ভ্যান্স সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা ভবিষ্যৎবাণী করতে পারি না, তবে আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিকই বলেছেন—আগামী দুই মাসের মধ্যে এই সংঘাত একেবারে ভিন্ন এক রূপ নিতে যাচ্ছে।"

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাঁর মতে, প্রথম ধাপের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যা অর্জিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরান সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে পারে। তিনি এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি যে, নির্বাচনের আগেই হয়তো কোনো সমঝোতা বা সুরহা সম্ভব হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে ৯ দিনে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে ৯ দিনে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত, হাসপাতালে ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ মো. শামীম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, জানিয়ে তিনি বলেন, মারা যাওয়া আশা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আশা খাতুনকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েকদিন আগে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু শকড সিন্ড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডা. শামীম নিশ্চিত করেন।

এভাবে গত নয় দিনে রামেক হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর বেড়ে হয় ৬৮ জন। ৯ সেপ্টেম্বর ৬৯ জন এবং ১১ সেপ্টেম্বর ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ জনে, ১৩ সেপ্টেম্বর ৮০ জন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয় ৮৪ জন। সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ৯৬ জন এবং বুধবার দুপুর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৬ জন।

রামেক হাসপাতালের ডেঙ্গু তথ্য কেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ জন। বর্তমানে ১০৬ রোগী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালের পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নয় দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর কারণ ছিল ডেঙ্গু শকড সিন্ড্রোম।

মৃতদের মধ্যে পাবনার বেড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরুল কায়েস হৃদয় (২৬) গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভর্তি হয়ে একই দিন রাতে মারা যান। নাটোরের বনপাড়ার শিক্ষার্থী জিত সরকার (২২) ৮ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়ে পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে মারা যান।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের ব্যবসায়ী হৃদয় (২৪) ১৩ সেপ্টেম্বর ভর্তি হওয়ার পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৃহবধূ আশা খাতুন।

রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গুর চলমান প্রকোপ সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ মো. শামীম জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে তিনজন ছাড়পত্র পেলেও বর্তমানে হাসপাতালে মোট ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে রামেক হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। মৃতদের বেশির ভাগই এই দুই জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের অধিকাংশই এই দুই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%