০৭:১৩ পি.এম
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল সনদ অর্জনের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে ইন্দোনেশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও দেশটি জানিয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে, ঢাকা নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিস্তিওওয়াতি এই আগ্রহের কথাটি জানান। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরা সংবাদ দেন যে, আগামী মাসে দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক হালাল পণ্য মেলার আয়োজন করা হবে। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ওই মেলাটিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত হালাল পণ্য ও সেবা নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর
তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাজার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, হালাল শিল্পের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময়, বাংলাদেশের এসএমই ফাউন্ডেশন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিএসটিআই)-এর সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান এবং মো. ফিরোজ উদ্দিন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার এবং ফারজানা খান, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মো. আব্দুস সালাম সরদার।
এছাড়া, বৈঠকে অংশ নেন ইন্দোনেশিয়ার ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নের শরিয়াহ ব্যবসা ও উদ্যোগবিষয়ক জাতীয় কমিটির মহাপরিচালক পুতু রাহউইদিয়াসা এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত।
শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতে সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে ৩ কোটির বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছে।
হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন