ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি, বাংলাদেশ কততম?


নারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি, বাংলাদেশ কততম?

বিশ্বের কোলাহলময় সড়ক থেকে শুরু করে রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন নারীর জন্য পৃথিবীর রূপ কেমন? তিনি কি সেখানে অবাধে নিঃশ্বাস নিতে পারেন, নাকি প্রতিনিয়ত তাকে মুখোমুখি হতে হয় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত বাধার? জাতিসংঘের সহায়তায় প্রকাশিত জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) সূচকের ২০২৫-২৬ সংস্করণের নতুন প্রতিবেদন আবার সেই পুরোনো সত্যকেই সামনে এনেছে। মানচিত্রের ভৌগোলিক বিভাজনে নারীদের জীবনের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা।

যেখানে উত্তর ইউরোপের হিমশীতল হাওয়ায় ভর করে নর্ডিক দেশগুলো তৈরি করেছে নারীদের অবাধ স্বাধীনতার স্বর্গরাজ্য, সেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে নারীদের বাঁচতে হচ্ছে কেবলই টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে।

এই বৈশ্বিক মূল্যায়ন ১৮১টি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার ১৩টি স্পর্শকাতর মাপকাঠিতে তৈরি করা হয়েছে। নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো বরাবরের মতোই শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করে রেখেছে। ০.৯৩৯ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার শীর্ষে ডেনমার্ক অবস্থান করছে। ঠিক তার পরপরই অবস্থান করছে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। শীর্ষ দশে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন: ইরান: হামলা হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধে জর্জরিত দেশগুলো তালিকার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ডেনমার্কের প্রাপ্ত স্কোরের তিন ভাগের এক ভাগ স্কোর নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সিরিয়া, সুদান ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে নারীদের প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য। সূচকটির তথ্য অনুযায়ী, তালিকার একদম নিচে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতময় এলাকার মাত্র ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫তম (স্কোর ০.৫২৬)। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে কেবল পাকিস্তান (১৬৯) ও মিয়ানমার (১৭২)। অন্যদিকে ভারত (১৩১) ও নেপাল (১২০) কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এশিয়ায় নারীদের নিরাপদ বসবাসের দিক থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুর (১৭তম), জাপান (২২) ও তাইওয়ান (২৭)।

উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থানের সমতা, আইনি সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অভাবনীয় অংশীদারত্বই মূলত নর্ডিক দেশগুলোকে শীর্ষ স্থানগুলোতে টিকিয়ে রেখেছে। ডব্লিউপিএস সূচক কেবল নারী-পুরুষের ব্যবধানকে মাপে না; বরং এটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—যে দেশ নারীদের জন্য যত বেশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সামগ্রিকভাবে সেই দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ততটাই মজবুত।

আরও পড়ুন: নাহিদের অভিযোগ: আগে আ.লীগ, এখন বিএনপি দিচ্ছে প্রশ্রয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ এম


‘বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার’

মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এছাড়া, মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের সূত্রে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, আনোয়ার ইব্রাহিম এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানের জন্য এবং মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখার ক্ষেত্রে একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে ওদের ফেরত পাঠাও, ফেরত পাঠাও। কিন্তু পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার তো ওদের নিতে চায়নি। এই কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। এখন তারা প্রথমে ৫ হাজার জনকে নিতে সম্মত হয়েছে।’

এছাড়া, আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। তবে তিনি এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

সম্প্রতি পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) অফিসের সামনে জড়ো হওয়ার কয়েক দিন পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিলেন। পরবর্তীতে রোহিঙ্গাদের ওই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।

আনোয়ার ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন যে, এই আঞ্চলিক শরণার্থী সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে মালয়েশিয়া।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নির্যাতন ও নাগরিকত্বহীনতার শিকার হয়ে আসছে। চরম দুর্দশা থেকে বাঁচতে তারা প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পালানোর চেষ্টা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ এম


কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে এই তথ্য জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়া দেশজুড়ে ‘বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে কিয়েভের পাশাপাশি দিনিপ্রো ও ক্রিভি রিহ শহরও রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একবারের হামলার পর আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে ছোড়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেছেন, আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সকলকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ মেঝেতে কম্বল পেতে, আবার কেউ ছোট তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানোর চেষ্টা করছেন।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে তিনি ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর কাছ থেকে এমন একটি প্রতিবেদন পেয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে রাশিয়া দেশের সব অঞ্চলে ‘বড় ধরনের হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আজ রাতেই এই হামলা চালানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা খুবই বেশি।’ হামলার আগের দিনই তিনি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানান।

পাল্টাপাল্টি হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেন-রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই দেশেই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। মঙ্গলবার রাশিয়ার বেলগোরদে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এক রাতেই মস্কোকে লক্ষ্য করে প্রায় ৪০০ টি ড্রোন ছুড়ে দিয়েছে ইউক্রেন। ড্রোনের আঘাতে মস্কোর আবাসিক ভবন ও কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসার কাছে কৃষ্ণসাগরে নোঙর করা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। একই সময়ে মিকোলাইভ বন্দরে আরও দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকরা জানান, যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক নৌপরিবহনও ক্রমেই বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ফলে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২০ এম


আর্জেন্টিনায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ৭ জনের মৃত্যু

আর্জেন্টিনার পশ্চিমাঞ্চলীয় সান হুয়ান প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) এ দুর্ঘটনার খবর স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বেল ৪১২ মডেলের হেলিকপ্টারটি সান হুয়ান এর ইসচিগুয়ালাস্তো প্রাকৃতিক উদ্যানে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

সান হুয়ানের গভর্নর মার্সেলো অরেগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'গভীর শোকের সঙ্গে আমরা আমাদের প্রদেশে ঘটে যাওয়া হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি, যেখানে দুর্ভাগ্যবশত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন।' নিহতদের মধ্যে দমকলকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেসামরিক সুরক্ষা কর্মীও ছিলেন।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেজান্দ্রা মন্টেওলিভা বলেন, 'গভীর শোকের এই মুহূর্তে আমি প্রতিটি পরিবার এবং তাদের সহকর্মীদের পাশে আছি।'

একটি বিবৃতিতে জরুরি সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বুধবার সকালে হেলিকপ্টারটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

হেলিকপ্টারটি পার্শ্ববর্তী লা রিওহা প্রদেশে দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে এবং একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে বলে জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে।

এই ঘটনার জেরে সান হুয়ানের স্থানীয় সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে, এই সময় জাতীয় ও প্রাদেশিক পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

আয়তনে প্রায় অস্ট্রিয়ার সমান một আধা-শুষ্ক অঞ্চল লা রিওহা সপ্তাহের শুরু থেকে এর পার্বত্য এলাকায় বেশ কয়েকটি দাবানল মোকাবেলা করছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে শত শত হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে বলে স্থানীয় দমকলকর্মীরা এএফপিকে জানিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, বিশেষজ্ঞ দল অনুসন্ধানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ এম


চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, বিশেষজ্ঞ দল অনুসন্ধানে

দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাট। জুলাই মাস থেকেই শুরু হয়েছে ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু এবারের ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে না। এ সময়ে যেখানে ব্যবসায়ীদের ইলিশ বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে পাইকারি বাজারে ইলিশের হাহাকার অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইলিশের দামও আগে মতো কমছে না। ইলিশের উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরে ইলিশের অভাব থাকায় দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ এবং এ বিষয়ে সরকারের করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে পাঁচ সদস্যের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) একটি বিশেষজ্ঞ দল অনুসন্ধানে নেমেছে।

এদিকে, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় জেলে পরিবারগুলোকে খাদ্যসহায়তা, প্রণোদনা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে আসছে। তবুও ইলিশের উৎপাদন দিন দিন ঝরছে। কোনোভাবে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। জুলাই মাস থেকেই শুরু হয়েছে ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ সেহেতু চাঁদপুরে তেমন ইলিশ মিলছে না। ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। মাছের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারাও হতাশ হয়ে মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই অনলাইনে ইলিশ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এতে দুর্নামের ভাগিদার হচ্ছেন চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরাও।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছর এই সময় বাজারে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ কেনাবেচা হতো। এখন সেখানে প্রতিদিন মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মণ ইলিশও আসছে না। এর পাশাপাশি, এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ আগে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সেই ইলিশের দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা হয়ে গেছে। এছাড়া, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনাও কমেছে। ফলে অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। বাজারে যে অল্প পরিমাণ ইলিশ আসছে, তার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মাছঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী ও মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত জানান, চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কম। তাই দামও বেড়ে যাচ্ছে। সরকার ইলিশ রক্ষায় অনেক প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, সাগর অঞ্চল থেকে বিভিন্ন কারণে ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। এদিকে, কারেন্ট জালের ব্যবহার, নদীদূষণ এবং মেঘনা নদীর বিভিন্ন ডুবোচরের কারণে ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইলিশের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় ফলে দাম কমছে না।

এখন ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে সিইজিআইএসের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।

ড. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম এবং বড় আকারের ইলিশের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। নদীর পানির গুণগত মান, স্রোত, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, মাছের চলাচলের পথসহ বিভিন্ন বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।

চাঁদপুর নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানে জেলের সংখ্যা বেশি। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা বিশেষজ্ঞ দলের কাছে অভিমত দিয়েছেন যে, কারেন্ট জালের ব্যবহার, নদীদূষণ এবং মেঘনা নদীর বিভিন্ন ডুবোচরের কারণেই ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%