ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হুতিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব


হুতিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব

সৌদি আরব ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সৌদি আরব উপকূলীয় অভিযান এবং একাধিক দিক থেকে হামলার পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ছয়জনের সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শুরু হতে পারে। ইয়েমেনি স্থলবাহিনী, যা সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, এই অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমানবাহিনী হামলা চালাতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করছে। পাশাপাশি, কিছু আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না।

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে একটি আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়। ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে ওই সরকারকে সরিয়ে দিয়েছিল। ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। এরপর বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুতিরা সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জানান, হুতিরা উপকূলীয় এলাকায় এগিয়ে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

সৌদি আরব দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, একটি হলো বাব আল-মানদেব এলাকায় সীমিত হামলা এবং অন্যটি হলো ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় একযোগে বড় অভিযান। যদি অভিযান বড় হয়, তাহলে এতে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা অংশ নিতে পারে, এমন তথ্য জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে সৌদি আরব, ইয়েমেন, হুতি ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

বাব আল-মানদেব হলো লোহিত সাগরের দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ। হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই পথের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় কর্মকর্তারা বলছেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মানদেব থাকলে সৌদি আরব নতুন শান্তি আলোচনায় যেতে চায় না।

আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

রিয়াদ মনে করছে, এতে হুতিরা বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে। তবে সৌদি অভিযান কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট ছয়জনের ধারণা, এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরু হতে পারে।

সৌদি আরবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, অভিযানটি নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে হতে পারে। ২০১৫ সালের সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের তুলনায় এর পরিধি ছোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তিনি আরও বলেন, হুতিদের পুরোপুরি দুর্বল করা এবং বাব আল-মানদেবের উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল করাও সৌদি আরবের লক্ষ্য হতে পারে। এতে নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তার মতে, এ ধরনের অভিযান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে হতে পারে। গত তিন বছরে লেবাননের হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী মিত্রে পরিণত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো বেড়ে গেছে। এর মধ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন অভিযান শুরু হলে অঞ্চলটিতে আরেকটি বড় সংঘাতের কেন্দ্র তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব

ট্রাম্প, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সহায়তা

সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সৌদি অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। তবে সরাসরি বিমান হামলায় সহায়তা করার সৌদি অনুরোধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকচ করেছেন বলে জানা গেছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানও সৌদি আরবকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে। পাকিস্তান ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের ঘাঁটি এডেনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধের সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে। তবে পাকিস্তান ইয়েমেনে যুদ্ধ করার জন্য কোনো সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা। এ কারণে রিয়াদ কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে ককরোচ পার্টির সমর্থন

বিভক্ত ইয়েমেনি বাহিনী, সৌদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ইয়েমেনে সৌদি আরবের স্থল অভিযান অনেকটাই নির্ভর করবে হুতিবিরোধী বিভিন্ন ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর। এসব বাহিনীকে আগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তবে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলো এখনো পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ নয়।

ইয়েমেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশা বলেন, হুতিদের মোকাবিলায় বড় ধরনের অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি অনেক বাহিনীর এখনো নেই। এর মধ্যে হুতিরা একাধিক এলাকায় চাপ তৈরি করছে। গত শীতেও ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে বিভক্তি আরও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় যোদ্ধারা নতুন এলাকা দখলের চেষ্টা করলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে তারা পরাজিত হয়।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান সফল হবে কি না, তা মূলত ইয়েমেনি স্থলবাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। এতদিন তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজেদের অবস্থান রক্ষা করা; এখন তাদের আক্রমণাত্মক অভিযানে যেতে হবে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা পরিষ্কার রাখতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


ঢাকা পরিষ্কার রাখতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঢাকার বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নগরের সকল শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় জাতিকে পথ দেখিয়েছে। বর্তমান বায়ুদূষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ মিনার, টিএসসি ও শাহবাগের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, ফগার মেশিন বিতরণ ও মশক নিধন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টিএসসি থেকে একটি জনসচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ডিএসসিসির স্থাপন করা ২০০টি ডাস্টবিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ছবি : কালের কণ্ঠ

মুগদায় জনসচেতনতামূলক সমাবেশ

‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে রাজধানীর মুগদায়ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

সমাবেশ শেষে অতিথিরা ওয়াসা রোড প্রান্তের মান্ডা খাল পরিদর্শন করেন এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন। পরে হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে কর্মসূচি

সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’র অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ সময় মশার ওষুধ ছিটানোসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ডিএনসিসি নগরবাসীর সহযোগিতায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য হকারমুক্ত ফুটপাত, ডেঙ্গুমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজিত ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস ও সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, বিগত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা এবং ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি জানান, ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি ভবন, বাসা-বাড়ি এবং পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করছেন। তিনি নগরবাসীকে তাদের বাসা-বাড়ি ও নিজ নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আহ্বান জানান।

প্রশাসক আরও জানান, বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম- মাত্র ৮০ জনের মতো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নগরবাসী ও ডিএনসিসির সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, সরকার ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিএনসিসি স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি, মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে।

ফুটপাত পুনর্দখল রোধে স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিতর্ক পেছনে ফেলে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ নোবেল গানে মন দেওয়ার প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


বিতর্ক পেছনে ফেলে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ নোবেল গানে মন দেওয়ার প্রত্যাশা

একসময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে সময়ের প্রবাহে গানের চেয়ে নানা বিতর্ক, মাদককাণ্ড, নারীঘটিত অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে তার সম্পর্কে। সেই অধ্যায়কে পেছনে ফেলে, এখন স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নতুন করে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন এই গায়ক।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন নোবেল। তার এই পোস্টগুলোতে উঠে এসেছে জীবনের একেবারেই ভিন্ন অধ্যায়—পরিবারের সঙ্গে কাটানো হাসি-আনন্দের মুহূর্ত।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে বসে ছেলেকে কোলে নিয়ে গিটার বাজাচ্ছেন নোবেল। ভিডিওটি ধারণ করেছেন তার স্ত্রী, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। অন্য একটি ভিডিওতে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নবাব বাড়িতে ছেলেকে জেমসের জনপ্রিয় ‘বাবা’ গানটি গেয়ে শোনাতে দেখা যায় তাকে।

এ ছাড়া ‘বাপজানের সঙ্গে সকালের আড্ডা’ ও ‘মাই ফ্যামিলি’ ক্যাপশনে স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন নোবেল। এসব ছবিতে তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও আনন্দঘন সময় কাটানোর চিত্র ফুটে উঠেছে।

নোবেলের এই পারিবারিক মুহূর্ত দেখে খুশি তার ভক্তরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে শুভকামনা জানিয়েছেন।

একজন লিখেছেন, ‘সুখী পরিবার। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলো ভালো কাটুক, এই দোয়া।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘জীবনটা এবার সুন্দর করে তিনজন মিলে গুছিয়ে নেন।’ ভালোবাসা প্রকাশ করে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘মাশাআল্লাহ ভাইয়া, আমরা আপনাকে এভাবেই দেখতে চাই।’

গত বছর নোবেলকে ঘিরে বড় ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ জুন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে নিজের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীকে বিয়ে করার খবর প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে সেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

নোবেলের সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে পরিবারের সঙ্গে তার সময় কাটানোর ছবি দেখে ভক্তদের প্রত্যাশা, অতীতের বিতর্ক পেছনে ফেলে এবার গানে মন দেবেন এই গায়ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমন মৌসুম সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ধানের চারার হাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


আমন মৌসুম সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ধানের চারার হাট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষকদের চাহিদার প্রতি নজর রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধানের চারা নিয়ে জমজমাট হাট বসেছে। হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের ধানের চারা নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহ করছেন। জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায়ও বিক্রি হচ্ছে এসব চারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মানসম্পন্ন হওয়ায় জেলার বাইরেও এখানকার চারার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্পন্ন চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরে মাসব্যাপী ধানের চারার সর্ববৃহৎ হাট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সদর উপজেলার প্রায় ৫শ’ কৃষক চারা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত চারা হাটে বিক্রি করছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছাড়াও নি¤œাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা হাট থেকে তাদের কাঙ্খিত চারা সংগ্রহ করছেন। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে খাসা, নাজিরশাইল, বীনা-৭, বিআর-২২, বিআর-২৩, গাইন্ধা, কালোখাসার চারা রয়েছে। প্রতি ধানের চারার আটি প্রকারভেদে ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে চারা উৎপাদনে ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ হাজার টাকায়। ফলে ধানের চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও পাইকারী ক্রেতারা চারা সংগ্রহ করতে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে এই হাটে।

বিক্রেতা মজিদ মিয়া জানান, তারা চারার আটির প্রকারভেদে বিক্রি করছেন। আরেক বিক্রেতা আবুল হাসেম জানান, কৃষকরা এই বাজার থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় চারার আটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ক্রেতা কৃষক আলাল উদ্দিন জানান, এই বাজারে সকল প্রকারের চারার আটি পাওয়া যায়। অন্যদিকে কৃষক আবু তাহের জানান, বাজার মূল্য ঠিক করা হলে কৃষকরা সহজেই চারার আটি কিনতে পারবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগেম বাসস’কে জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আদর্শ বীজতলা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি মওসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সদরে ৫শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%