১০:৩৭ এম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আনারকলি চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আহমেদ রিপন। সুস্বাদু এই ফলের চাষ প্রথমবারের মতো শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর গ্রামের রায়হান আহমেদ রিপন ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি এই ফল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমেদ রিপন কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় রাস্তার পাশে আনারকলি ফল বিক্রি করতে দেখে ৫০ টাকায় একটি ফল ক্রয় করেন। ফলটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় তিনি সেই ফলের বীজ নিয়ে এসে বপন করেন।
তবে প্রথমে তিনি তেমন ফল পাননি। কোনো রকমে বীজ থেকে চারা গজালেও গাছ দুর্বল হয়ে মারা যায়। কিন্তু রিপন হাল ছাড়েননি। গত বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারাগাছ কিনে নিজের জমিতে রোপণ করেন। ইউটিউব দেখে তিনি পরিচর্যা শুরু করেন। দিন দিন আনারকলি গাছ শাখা-প্রশাখায় ভরে ওঠে। মাত্র সাত মাসের মধ্যে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে।
আরও পড়ুন: এক মাসে পানিশূন্য সুনামগঞ্জের হাওর, কৃষকেরা বিপাকে
সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চার শতাংশ জমিতে মাত্র দুটি আনারকলি গাছ লাগানো হয়েছে। লতানো গাছের মাচায় ঝুলছে শত শত আনারকলি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক ফলপ্রেমী ও উদ্যোক্তারা রিপনের বাড়িতে ভিড় করছেন। দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের আনাগোনায় তিনি বিরক্ত নন। হাসিমুখে সবাইকে আনারকলি চাষ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। আগতদের আনারকলি খাইয়ে এর স্বাদ ও উপকারিতা সম্পর্কেও জানাচ্ছেন।
রিপনের প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী জানান, এই এলাকায় আনারকলি চাষ এবারই প্রথম। এটি মূলত পাহাড়ি এলাকার ফল। এখানকার উর্বর মাটিতে গাছটি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিকভাবে এটি লাভজনক হবে।
উদ্যোক্তা রায়হান আহমেদ রিপন বলেন, কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় তিনি এই ফল খেয়েছিলেন। গত বছর এর বীজ এনে বপন করেছিলেন, কিন্তু সফলতা পাননি। পরে ডিসেম্বর মাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ৯০০ টাকা দিয়ে দুটি চারা সংগ্রহ করেন। মাত্র সাত মাসে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। প্রায় প্রতিদিনই ফল কিনতে পাইকাররা বাড়িতে আসছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তারা। তবে তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।
গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ফলে তেমন কোনো রোগবালাই নেই। গাছ রোপণের সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। পরে পাতার পচন রোধে দু-একবার এমিস্টার টপজাতীয় ওষুধ স্প্রে করতে হয়। ফুল এলে মাছি দমনের জন্য ফেরোমোন ফাঁদ দিতে হয়।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ: উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল বাজার
ফুল ফুটলে পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে সংস্পর্শ করাতে হয়। এতে ফলন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যথায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফুল ফলে পরিণত হতে পারে। শুধু শীতের তিন মাস ছাড়া সারা বছর আনারকলি উৎপাদন করা সম্ভব। একটি গাছ একটানা ১০ বছর ফল দেয়।
বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ফল ৫০ এবং প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার দুটি গাছে এবারই প্রথম ফল এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ফল পেয়েছি। গাছে এখনো শত শত আনারকলি রয়েছে।’
নতুন উদ্যোক্তাদের কথা চিন্তা করে নিজেই গাছের চারা উৎপাদন করেছেন বলে জানান রিপন। এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি চারা প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি চারা ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নিজের এক বিঘা জমিতেও চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার মতে, এলাকার মাটি উর্বর হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০টি চারাই যথেষ্ট। এক বিঘা জমি থেকে বছরে ১৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আবদুল্লাহ মুস্তাফিন বলেন, ফুলবাড়ীর মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে এর আগে আনারস, এমনকি সৌদি আরবের খেজুরও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকার ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন ৩ সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন