০৯:৫২ পি.এম
কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফ্রেস পাকা পিচের সড়ক খুঁড়ে ইটের সলিং বসানোর কাজ চলমান। এ সড়কটি দিয়ে সাধারন মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন দিন রাত ব্যস্ত থাকে। চলাচলের জন্য এই রাস্তায় স্থানগুলো মেরামত না করেই বিশাল অর্থ ব্যয়ে সচল পিচ রাস্তা খুঁড়ে ইট বসানোর বিষয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। পিচ পাথরের রাস্তার উপরে এখন ইটের সলিং বসানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে সাড়ে ৮’শ মিটার সড়কে ইটের সলিং স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। আসল বিষয় হলো, পিচ পাথরের রাস্তা খুঁড়ে কেন এভাবে ইটের সলিং করা হচ্ছে, তা সচেতন ব্যক্তিরা বুঝতে পারছেন না। সবার ধারণা, বরাদ্ধ ছিল বড় অঙ্কের টাকা, কাজ না করলে সেটি সরকারের খাতে ফিরে যাবে তাই ভালো রাস্তা খুঁড়ে এভাবে ইটের সলিং করা হচ্ছে।
সড়কটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কালীগঞ্জের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলাইপুর গ্রাম পর্যন্ত পাকা সড়কের পিচের অংশ খুঁড়ে দুই স্তরের ইট দিয়ে সলিং রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। সড়কের কিছু অংশে সামান্য পিচ পাথর উঠে গেছে। যা একটু মেরামত করে দিলেই চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী হয়ে যায়। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা জানিয়েছেন, সড়কটির কিছু স্থান সামান্য নষ্ট হলেও বেশিরভাগই ভালো ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা মেরামত না করেই ঠিকাদারের মাধ্যমে পিচ পাথরের ভালো রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং বসাচ্ছে। মোটা অঙ্কের এ টাকার ব্যয় করা সত্ত্বেও ইটের সলিং দীর্ঘকাল সচল থাকবে না বলে জনসাধারণের মন্তব্য। তারা অনুভব করছেন, কাজটিতে অহেতুক সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে, মোটা অংকের টাকা হরিলুট করার জন্য পিচ পাথর খুড়ে ইটের সলিং রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। সড়কের কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার গামা কনস্ট্রাকশন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, সড়কে কাজ করতে তাদেরকে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী তুহিন হোসেন বলেছেন, সড়কটির কিছু স্থান সামান্য নষ্ট ছিল কিন্তু চলাচলের অনুপযোগী ছিল না। একটু পুটিং করে দিলেই চলাচলে কোন সমস্যা হতো না। বিশেষ কোন রহস্যের কারণে প্রায় এক মাস ধরে ভালো পিচ পাথরের পাকা সড়কটি খুঁড়ে নতুন ইটের সলিং বসানো হচ্ছে। বিশেষ করে এই সড়ক দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা যশোর, ঝিনাইদহ, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, কোটচাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। আবার সিংদহ, আলাইপুর, রামনগর, গান্না, কালুখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বর্তমানে চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ইজিবাইক চালক আলিম হোসেন বলেছেন, ভালো রাস্তার পিচ পাথর খুড়ে ইট বসানোতে টাকার অপচয় হচ্ছে। এভাবে ইট বসিয়ে রাস্তা না করে পুটিং ভরাট করে দিলেই ভালো হতো।
আরও পড়ুন: ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে
ঠিকাদার গামা কনস্ট্রাকশনের মালিক গোলাম হোসেন মেম্বার সড়কটির ফ্রেস পিচ পাথর খুঁড়ে ইটের সলিং করার বিষয়ে বলেছেন, নিয়ম মেনেই কাজ করছেন, টেন্ডারের সাড়ে ৮’শ মিটার রাস্তায় ইটের সলিং বসাতে হবে। পাকা পিচ খুড়ে ইটের সলিং বসানোর চলমান কাজটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।
কালীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অফিসের এসও অপূর্ব বিশ্বাস জানিয়েছেন, সড়কটিতে বর্ষার পানিতে অনেক স্থানে নষ্ট ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সে হিসাবে এটি তাদের একটি চলমান প্রক্রিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। অনেক স্থানে ভালো রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং স্থাপন করছে এমন কথার উত্তর এড়িয়ে তিনি তাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন