০৬:২৯ পি.এম
বরগুনার সুন্দরবনের কোলঘেঁষা গোড়াপদ্মা এখন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে এক নতুন আকর্ষণের নাম। এটি বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে প্রমত্তা পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে। সুন্দরবনের সবুজ ছায়া এবং নদীর অবিরাম ঢেউয়ের মায়াবী আহ্বান- সব মিলিয়ে গোড়াপদ্মা অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অনন্য মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে গোড়াপদ্মা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
এলাকার ভৌগোলিক এবং প্রাকৃতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এখানে জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ উপস্থিতি, নির্মল পরিবেশ এবং নদীকেন্দ্রিক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। প্রতিদিন বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও ভ্রমণপিপাসী মানুষ গোড়াপদ্মার এলাকাটিতে পদচারণা শুরু করে।
স্থানীয়দের মতে, বরগুনা জেলায় পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর জন্য মানসম্মত বিনোদন কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই সীমিত। অথচ গোড়াপদ্মার প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে পরিকল্পিতভাবে ওয়াচ টাওয়ার, নদীভিত্তিক নৌবিহার, শিশুদের বিনোদন জোন, সবুজ পার্ক, হাঁটার পথ, বিশ্রামাগার, খাবার কর্নার এবং নিরাপদ পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে এটি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারবে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখানে এসে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ও জ্ঞানচর্চামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, গোড়া পদ্মা গ্রামের বেড়িবাঁধ থেকে সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত বিদ্যমান সরু সড়কটি প্রশস্ত করা জরুরি। পর্যটকদের জন্য বিশ্রামের সুব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেট নির্মাণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাস্তবায়ন হলে দর্শকদের আগমন ও এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে ইকো-ট্যুরিজমভিত্তিক উন্নয়ন করা গেলে স্থানীয়ভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন, আবাসন, খাদ্য ও হস্তশিল্প খাতের বিকাশ ঘটবে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং বরগুনার পর্যটন শিল্পও নতুন গতি পাবে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, গোড়াপদ্মার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও সুন্দরবনের সংযোগস্থল হিসেবে বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি বরগুনার পর্যটন শিল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।
আরও পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান সিরাজগঞ্জে
জেলা পর্যটন শিল্প উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, বরগুনার পর্যটন খাতে নতুন গন্তব্য উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। গোড়াপদ্মা সেই সম্ভাবনাময় স্থানগুলোর একটি। পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং প্রচারণার মাধ্যমে এটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, গোড়াপদ্মা এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থান পর্যটন বিকাশের জন্য সম্ভাবনাময়। সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে এলাকাটি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা ও সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গোড়াপদ্মা শুধু বরগুনার নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন গন্তব্য হবে। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা নৈসর্গিক জনপদ তখন প্রকৃতি, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হবে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ১৩ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালক গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন