ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

৯ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে


৯ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে

সময়ের স্রোত তার নিজস্ব নিয়মে বয়ে চলে। এই স্রোতের ধারায় ঘটে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা, মনীষী ও সাধারণ মানুষের জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয় মানবসভ্যতা, গড়ে ওঠে ইতিহাস। প্রতি বছরের পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় প্রতিটি দিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এমন অনেক ঘটনা ও ব্যক্তিত্ব, যা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। চলুন ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে জেনে নিই—এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম ও মৃত্যু।

ঘটনাবলি

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার ১২ রাশির ভাগ্য জানালো জ্যোতিষশাস্ত্র, বিশ্লেষণ প্রকাশিত

১৫১৪ - ফ্রান্সের রাজা দ্বাদশ লুই মেরি টিউডরকে বিয়ে করেন।

১৭০৮ - রাশিয়া ও সুইডেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ডেনিপার যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

১৭৭৯ - তাঁত বয়নে যন্ত্রপাতি প্রবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ম্যান্চেস্টারে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দাঙ্গা শুরু করে।

১৮৭৪ - বিশ্ব ডাক ব্যবস্থা চালু হয়।

আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনা ও বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিন

১৮৯৯ - লন্ডনে প্রথম পেট্রোলচালিত মোরটরযান চলাচল শুরু হয়।

১৯১১ - চীনে রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

১৯৪০ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানি লন্ডন শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে।

১৯৬২ - ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের এই দিনে: মর্নিং পোস্টের প্রথম প্রকাশ, গার্ফিল্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ও ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা

১৯৭৬ - মুম্বাই ও লন্ডন শহরের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

১৯৯৬ - সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

২০০৪ - আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০০৬ - উত্তর কোরিয়া প্রথম পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

জন্ম

১২৫৩ - দশম চার্লস; ফ্রান্সের রাজা।

১২৬১ - ডেনিস; পর্তুগালের রাজা।

১৭৫৭ - দশম চার্লস; ফ্রান্সের রাজা।

আরও পড়ুন: ৩১ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনার তালিকা প্রকাশ

১৮৩৫ - ক্যামিল সেন্ট-সায়েন্স; ফরাসি সুরকার ও পথপ্রদর্শক।

১৮৫২ - হারম্যান এমিল ফিসার; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৮৫৩ - এমিল রো; বিশিষ্ট ফরাসী চিকিৎসক ও গবেষক।

১৮৭৪ - নিকোলাস রোয়েরিচ; রাশিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও চিত্রশিল্পী।

আরও পড়ুন: ৩০ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনা ও বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিন

১৮৭৯ - মাক্স ফন লাউয়ে; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিদ ও অধ্যাপক।

১৮৯২ - ইভো আন্দ্রিচ; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সার্বীয় লেখক ও কবি।

১৯০৬ - লেয়পোলড সেডার সেনঘোর; সেনেগালের কবি, রাজনীতিবিদ ও ১ম রাষ্ট্রপতি।

১৯০৭ - জ্যাককুয়েস টাটি; ফরাসি অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯২১ - টাডেউসজ রোযেওিসজ; পোলিশ কবি ও নাট্যকার।

১৯২৭ - ফ্রান্সিস ও’ফেরেল আইরিশ; ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।

১৯৩৩ - পিটার ম্যান্সফিল্ড; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী ও একাডেমিক।

১৯৩৮ - হেইঞ্জ ফিশার; অস্ট্রিয়া শিক্ষাবিদ, রাজনীতি ও ১১তম প্রেসিডেন্ট।

১৯৩৯ - জন পিলজার; খ্যাতনামা অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা।

১৯৪০ - জন লেনন; ইংরেজ গায়ক, দ্য বিটলস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৪৫ - আমজাদ আলি খান; বিশিষ্ট ভারতীয় সরোদবাদক তথা শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ।

১৯৪৭ - ফ্রান্স গাল; ফরাসি গায়িকা।

১৯৫০ - জডয় উইলিয়ামস; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান অধ্যাপক ও সমাজকর্মী।

১৯৫৩ - টনি শালহোউব; আমেরিকান অভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৫৭ - প্রথম চার্লস; নোবেল ফ্রান্সের রাজা।

১৯৬২ - হোর্হে বুরুচাগা; প্রখ্যাত আর্জেন্টিনীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৬৪ - গুইলারমো ডেল টোরো; মেক্সিক্যান আমেরিকান পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৬৬ - ডেভিড ক্যামেরন; যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

মৃত্যু

১৫৬২ - গ্যাব্রিয়েলে ফ্যালোপিও; ইতালিয়ান শারীরস্থানবিৎ ও চিকিৎসক।

১৮৩১ - ইওয়ানিস কাপোডিস্ট্রিয়াস; রাশিয়ান বংশোদ্ভূত গ্রিক আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।

১৯২৪ - ভালেরয় ব্রয়ুসভ; রাশিয়ান লেখক, কবি ও সমালোচক।

১৯৩৪ - লুই বারটউ; ফরাসি রাজনীতিবিদ ও ৭৮ তম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৩৪ - আলেকজান্ডার; যুগোশ্লাভিয়ার রাজা।

১৯৪৩ - পিটার জেমান; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৬৭ - সিরিল চ্যরিল নরমান হিঙ্ঘলিউড; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৯৬৭ - চে গুয়েভারা; বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খ্যাতিমান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম।

১৯৬৭ - আন্দ্রেঁ মউরোইস; বিখ্যাত ফরাসী ইতিহাসবিদ ও জীবন কাহিনী লেখক।

১৯৭৮ - জাকুয়েস বরেল; বেলজিয়ান শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা।

১৯৮১ - কাজী মোতাহার হোসেন; বাংলাদেশী পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।

১৯৮১ - মাজেদ আবশারার; ইহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনী নেতা।

১৯৮৭ - উইলিয়াম পি মারফি; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান চিকিৎসক ও অধ্যাপক।

১৯৯৫ - অ্যালেক ডগলাস-হোম; ব্রিটিশ ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী।

১৯৯৯ - আখতার হামিদ খান; পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও পণ্ডিত।

২০০৪ - জাক দেরিদা; আলজেরিয়ার বংশোদ্ভূত ফরাসি দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইসরাইল

গাজার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও ইসরাইলি হামলার ফলে গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিনে মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে।

গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার মাধ্যমে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের বাকি ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।

গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে

ইসলামিক রিলিফের অভিযোগ, ইসরাইল এখনো গাজায় আশ্রয় তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ।

সংস্থাটির মতে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেই চলবে না; মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইসলামিক রিলিফ বলেছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও হতাহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও আশ্রয়সংকট অব্যাহত থাকায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতিতে ভরপুর বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ! ড্রেজার চলছে, ব্যয় হচ্ছে-তবু ডুবোচরে আটকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিবেদন

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


দুর্নীতিতে ভরপুর বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ! ড্রেজার চলছে, ব্যয় হচ্ছে-তবু ডুবোচরে আটকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ

ভাটায় খনন, জোয়ারে পরিমাপের অভিযোগ; জ্বালানি তেলের হিসাব, খনন করা বালু-পলি অপসারণ, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া ও মেরামত ব্যয় ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন—জবাবদিহির আওতায় আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা?

দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথ সচল রাখতে প্রতিবছর ড্রেজিংয়ে ব্যয় হচ্ছে সরকারি অর্থ। নদীতে চলছে ড্রেজার, হচ্ছে খননকাজ; কিন্তু ভোলা–লাহারহাট–বরগুনা–আমতলী–পটুয়াখালী–বরিশালসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের অভিযোগ কাটছে না। কোথাও নৌযানকে ভাটার সময় চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, কোথাও জোয়ারের অপেক্ষায় আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাহলে ড্রেজিংয়ের নামে ব্যয় করা অর্থের সুফল কোথায়? খননকাজের পরিমাপ, জ্বালানি তেলের হিসাব, উত্তোলিত মাটি অপসারণ, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া এবং যন্ত্রপাতি মেরামতের ব্যয়—এসব খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে কি?

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং কার্যক্রম ঘিরে এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যেগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ড্রেজারের বাস্তব কার্যক্রম ও নথিতে দেখানো কাজের পরিমাণ, জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব এবং খনন করা বালু-পলি অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নিজস্ব ড্রেজার থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া এবং মেরামত খাতে ব্যয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন প্রকল্পভিত্তিক নথি পরীক্ষা, ড্রেজিংয়ের আগে ও পরে নদীর গভীরতা পরিমাপ, জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা। কারণ, সরকারি অর্থ ব্যয় করে নদী খননের উদ্দেশ্য কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখানো নয়; নৌপথে কার্যকর নাব্যতা নিশ্চিত করা।

ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর একটি হলো, বাস্তবে খনন করা মাটির পরিমাণ এবং নথিতে দেখানো পরিমাণের মধ্যে অসংগতি থাকতে পারে। নৌযান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘ভাটায় কাটেন, জোয়ারে মাপেন’—এমন পদ্ধতির কারণে খননকাজের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ওয়াহিদুজ্জামান ড্রেজিংয়ের পরিমাপ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগে ড্রেজিং কার্যক্রমে বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি লঞ্চমালিকদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হতো; বর্তমানে সেই অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে নেই। ফলে কাজের পরিমাণ ও পরিমাপের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এখানে মূল প্রশ্ন—খননের আগে নদীর তলদেশের গভীরতা কত ছিল, খনন শেষে কত গভীরতা পাওয়া গেছে এবং সেই অনুযায়ী কত ঘনমিটার মাটি উত্তোলনের হিসাব দেখানো হয়েছে? কাজের পরিমাণ নির্ধারণে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, পরিমাপ কে করেছেন এবং বিল অনুমোদনের আগে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—এসব তথ্য জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

পরিমাপ বই, প্রাক্কলন, কাজ সম্পন্নের সনদ এবং ড্রেজিংয়ের আগে-পরে জরিপের তথ্যের মধ্যে অমিল পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। সরকারি অর্থের বিনিময়ে যতটুকু কাজ করার কথা, বাস্তবে ততটুকু কাজ হয়েছে কি না—সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।


ড্রেজিং প্রকল্পের ব্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত জ্বালানি তেল। একটি ড্রেজার দিনে কত ঘণ্টা চালানো হয়েছে, কত পরিমাণ পলি উত্তোলন করেছে এবং সেই অনুযায়ী কত জ্বালানি ব্যবহার হওয়ার কথা—এসব তথ্য লগবই, জ্বালানি ইস্যু রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার ও বিল-ভাউচারে থাকার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রেজারের বাস্তব কার্যক্রম এবং জ্বালানি ব্যবহারের হিসাবের মধ্যে অসংগতি থাকতে পারে। এমনকি ড্রেজার কার্যত বন্ধ থাকার পরও সেটি চলেছে বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট তারিখের লগবই, জ্বালানি সরবরাহের রসিদ, মজুত ও বিতরণের হিসাব এবং ড্রেজারের কার্যক্রমের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ড্রেজার কত ঘণ্টা চলেছে, সে সময় কত জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাস্তবে কত মাটি উত্তোলন হয়েছে—এই তিনটি তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বদলি বা বিভাগীয় মামলার ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের হিসাব যদি স্বচ্ছ ও নির্ভুল হয়, তাহলে লগবই ও সরবরাহের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা সম্ভব। আর কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার দায় কার, কীভাবে তা ঘটেছে এবং অনুমোদনের স্তরে কারা দায়িত্ব পালন করেছেন—সেসব প্রশ্নের উত্তরও বের করতে হবে।

নদী খননের পর উত্তোলিত বালু ও পলি কোথায় ফেলা হচ্ছে, সেটিও ড্রেজিং কার্যক্রমের কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে খনন করা বালু বা পলি নির্ধারিত স্থানে অপসারণ না করে নদীর মধ্যেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্রোত ও জোয়ারের প্রভাবে পলি আবার খনন করা এলাকায় ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

যদি উত্তোলিত মাটি যথাযথভাবে অপসারণ করা না হয়, তাহলে একই এলাকায় পুনরায় পলি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আবার ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং সরকারি অর্থের ব্যয়ও বাড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণে প্রকল্পের নির্ধারিত ডাম্পিং এলাকা, মাটি পরিবহনের রেকর্ড, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং নদীর তলদেশের জরিপ পরীক্ষা করা জরুরি।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, খনন করা মাটি কোথায় ফেলা হয়েছে, সেই স্থান প্রকল্পের নকশা ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং খননের পর নৌপথে যে গভীরতা অর্জনের কথা ছিল, তা বাস্তবে বজায় রয়েছে কি না।

ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও যদি কিছুদিন পর একই স্থানে ডুবোচর ফিরে আসে, তাহলে তার কারণ নির্ধারণে কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক পলি জমা ও স্রোতের প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই খননকাজের মান এবং মাটি অপসারণের পদ্ধতি মূল্যায়ন করতে হবে।


বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজার বহর রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন প্রকল্পে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা, ভাড়ার হার এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ড্রেজার অচল থাকা বা মেরামতের প্রয়োজন দেখানোর কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি ড্রেজারের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সময়ে নিজস্ব ড্রেজারগুলোর কোনগুলো সচল ছিল, কোনগুলো অচল ছিল, অচল থাকার কারণ কী এবং মেরামতের জন্য কত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে।

একই সঙ্গে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার চুক্তি, দরপত্র বা প্রযোজ্য ক্রয়প্রক্রিয়া, কাজের সময়কাল, বাস্তব খননকাজের পরিমাণ, ভাড়ার হার এবং বিল পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো ক্ষেত্রে কাজের বাস্তব পরিমাণের তুলনায় বেশি ঘনমিটার দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা উচিত।

নিজস্ব ড্রেজার থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া নেওয়া নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। কিন্তু কেন ভাড়া নেওয়া হয়েছে, বিকল্প হিসেবে সরকারি ড্রেজার ব্যবহার করা সম্ভব ছিল কি না এবং ব্যয়টি যৌক্তিক ছিল কি না—এসব প্রশ্নের জবাব নথি দিয়ে দিতে হবে।


ড্রেজার মেরামত, যন্ত্রাংশ কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ড্রেজার দীর্ঘ সময় অচল পড়ে থাকার পর মেরামতের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। মেরামতের নামে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কেনা, পুরোনো যন্ত্রাংশ সংস্কার করে নতুন হিসেবে দেখানো অথবা যন্ত্রাংশ কেনার যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই বিল পরিশোধের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে মেরামতের প্রাক্কলন, অনুমোদন, কার্যাদেশ, যন্ত্রাংশ কেনার চালান, গুদামের স্টক রেজিস্টার, কাজ সম্পন্নের সনদ এবং অর্থ পরিশোধের নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোন ড্রেজারে কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, কী যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে, প্রকৃত ব্যয় কত এবং মেরামতের পর ড্রেজারটি কত দিন সচল ছিল—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মেরামতের নামে অযৌক্তিক ব্যয় দেখানো হয়ে থাকলে তা সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবার বাস্তব কারিগরি প্রয়োজনের কারণে বড় ব্যয় হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নথি ও প্রকৌশলগত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা।

সরকারি ড্রেজার সচল রাখা, সময়মতো মেরামত করা এবং ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে শুধু বিল অনুমোদনের নথি নয়, মেরামতের বাস্তব ফলাফলও যাচাই করা জরুরি।


দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথের নাব্যতা সংকট শুধু কারিগরি বিষয় নয়; এটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভোলা–লাহারহাট–বরগুনা–আমতলী–পটুয়াখালী–বরিশাল সদরসহ বিভিন্ন রুটে ডুবোচর ও অগভীরতার অভিযোগ থাকায় ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি আক্কাস সিকদার অভিযোগ করেছেন, প্রতিবছর ড্রেজিং চললেও দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

নৌযান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভাটার সময় পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় কোনো কোনো রুটে চলাচলে সমস্যা হয়। কোথাও নৌযানকে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কোথাও ডুবোচরের কারণে চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব সমস্যা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নৌযান পরিচালনার সময় ও ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে নদীতে ডুবোচর দেখা দিলেই তা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। নদীর স্বাভাবিক পলি জমা, স্রোত, মৌসুমি পরিবর্তন ও ভৌগোলিক অবস্থাও নাব্যতার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ড্রেজিংয়ের ফলাফল মূল্যায়নে খননের আগে ও পরে নদীর গভীরতা, নির্ধারিত নকশা, প্রকল্পের লক্ষ্য এবং পরবর্তী সময়ে পলি জমার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

মূল প্রশ্নটি হলো—যে অর্থ ব্যয় করে নৌপথ সচল রাখার কথা, সেই অর্থের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে কি না। যদি না পাওয়া যায়, তাহলে প্রকল্পের পরিকল্পনা, কাজের মান, তদারকি ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে।


ড্রেজিং প্রকল্পের পরিকল্পনা, কাজের তদারকি, পরিমাপ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, মেরামত, বিল যাচাই ও অর্থ ছাড়ের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা যুক্ত থাকতে পারেন। তাই অভিযোগের দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং অনুমোদনের নথি যাচাই করা জরুরি।

কে ড্রেজিংয়ের কাজ তদারকি করেছেন, কে খননকৃত মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন, কে পরিমাপের প্রতিবেদন অনুমোদন করেছেন, কে জ্বালানি ও মেরামত ব্যয়ের বিল যাচাই করেছেন এবং কার অনুমোদনে অর্থ ছাড় হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া দায় নির্ধারণ করা যায় না।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন সামনে আসবে। একইভাবে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত।

এ কারণে ড্রেজিং কার্যক্রমের প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক নিরীক্ষা, ড্রেজারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব যাচাই, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার চুক্তি পর্যালোচনা এবং ড্রেজিংয়ের আগে-পরে নদীর গভীরতা স্বাধীনভাবে পরিমাপের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বর্তমান কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে কী হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন; ভবিষ্যতে ড্রেজিং কার্যক্রমে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চমালিকদের একজন করে প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বরিশাল নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের বিষয়ে লঞ্চমালিকরা তাঁদের অবহিত করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগির এসব স্থানে ড্রেজিংয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে ড্রেজিংয়ের পরিমাপ, জ্বালানি তেলের হিসাব, মাটি অপসারণ, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া ও মেরামত ব্যয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রতিটির বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রকল্পের নথি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পাশাপাশি যাচাই করা গেলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে নদীপথ কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। তাই নৌপথ সচল রাখতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলে তার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা জরুরি।

ড্রেজিংয়ের পরও যদি একই এলাকায় বারবার ডুবোচর দেখা দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক ও কারিগরি নিরীক্ষা, জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব পরীক্ষা, ড্রেজার ভাড়ার চুক্তি পর্যালোচনা এবং খননের আগে-পরে নদীর গভীরতা প্রকাশ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—ড্রেজিং কার্যক্রমের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে নথি ও তথ্যের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা হোক।

শেষ প্রশ্ন একটাই—ড্রেজিংয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে নাব্যতা সংকট কেন থেকে যাচ্ছে? কাজের পরিমাণ, জ্বালানি ব্যয়, মাটি অপসারণ, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া ও মেরামতের হিসাব কতটা স্বচ্ছ? এসব প্রশ্নের জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি—সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় পুলিশ বিশেষ অভিযানে ২৫২ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


কুমিল্লায় পুলিশ বিশেষ অভিযানে ২৫২ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে—এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

অভিযানে আটক ২৫২ জনের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ জানায়, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে জেলা পুলিশ বলেছে, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে তারা বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আজ জুমা পড়াবেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আজ জুমা পড়াবেন যারা

আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬। সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীতে আজ জুমার নামাজে ইমামতি করবেন দুই বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার। মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস। অন্যদিকে, মসজিদে নববীতে জুমার নামাজে ইমামতি করবেন শায়খ ড. খালেদ বিন সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-মুহান্না।

প্রতি সপ্তাহের মতো আজও পবিত্র দুই মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমরা সরাসরি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে হারামাইনের জুমার খুতবা ও নামাজ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

মসজিদুল হারামে শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস

আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস। তিনি সৌদি আরবের একজন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার এবং পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব। তাঁর আবেগঘন কণ্ঠস্বর এবং সুমধুর কোরআন তিলাওয়াতের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।

শায়খ সুদাইস ১৯৬০-এর দশকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকাইরিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশব থেকেই পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার প্রতি গভীর মনোযোগী হন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৫ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন পুরস্কার কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘ইসলামিক পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে। পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমামতির পাশাপাশি তিনি পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

মসজিদে নববীতে শায়খ খালেদ আল-মুহান্না

অন্যদিকে, মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. খালেদ বিন সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-মুহান্না। তিনি সৌদি আরবের একজন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার। ইসলামী জ্ঞানচর্চা, হাদিস-অধ্যয়ন এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন।

শায়খ খালেদ আল-মুহান্না ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবের আল-আহসা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০১০ সালে হাদিস বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদে শিক্ষকতা করেন এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে রিয়াদের বিভিন্ন মসজিদেও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৫ সালের জুনে মসজিদে নববীতে অতিথি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান শায়খ আল-মুহান্না। পরে ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁকে মসজিদে নববীর নিয়মিত ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর কোরআন তিলাওয়াতের অডিও রেকর্ড সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহদ কোরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্সের মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।

পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববী মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দুই ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রতি শুক্রবার এ দুই মসজিদে জুমার নামাজকে ঘিরে বিশেষ ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসল্লিরাও নামাজে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%