ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনা রেস্তোরাঁ মালিক কর্মীদের বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিলেন


চীনা রেস্তোরাঁ মালিক কর্মীদের বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিলেন

প্রতিদিন স্কুটারে করে কর্মস্থলে আসতেন কর্মীরা। ঠাণ্ডা, বৃষ্টি কিংবা ঝড়, কোনো কিছুই তাদের যাতায়াত থামাতে পারত না। এবার চীনের এক রেস্তোরাঁ মালিক কর্মীদের কয়েকজনের হাতে একেবারে নতুন বিএমডব্লিউর চাবি তুলে দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উপহারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের জিয়াওজুও শহরে বিফ হটপটের একটি চেইন রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন মা ইয়ানলি। তিনি লক্ষ্য করেন, তার অনেক কর্মী প্রতিদিন ইলেকট্রিক স্কুটারে করে কর্মস্থলে আসেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের এভাবেই যাতায়াত করতে হয়, যা তাকে ভাবিয়ে তোলে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মা কয়েকজন কর্মীকে একটি বিএমডব্লিউ ডিলারশিপে নিয়ে যান। কর্মীদের জানানো হয়েছিল, সেখানে একটি মিটিং রয়েছে। কিন্তু ডিলারশিপে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বড় চমক।

আরও পড়ুন: ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’

মা তাদের মধ্যে কয়েকজনকে একেবারে নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেন। প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, গাড়ির চাবি কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই তিনি গাড়িগুলোর পুরো দাম পরিশোধ করে রেখেছিলেন।

ফলে নির্বাচিত কর্মীদের গাড়ির জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হয়নি। স্কুটারে করে বৃষ্টি-ঝড় পেরিয়ে কাজে আসা কর্মীদের জন্য এবার যাতায়াতের সঙ্গী হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ।

মা ইয়ানলি বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ায় কর্মীদের কষ্টের কথা তিনি বুঝতে পারেন। তাদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই তিনি এই উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ ভাগ্যবান কর্মীদের একজন লি জিয়ে বলেন, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত! আগে এটা নিয়ে ভাবার সাহসও করিনি।’

মা ব্যাখ্যা করেন, একজন কর্মীকে তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে যাতায়াত করে স্পষ্টতই লাল মুখ নিয়ে ফিরতে দেখে তিনি বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন তিনি নিজে আরামে যাতায়াত করতে পারেন, তখন তার কর্মীদের কেন এমন পরিস্থিতি সহ্য করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মা ইয়ানলি মনে করেন, তার কর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমেই ব্যবসা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের সুফলে কর্মীদেরও সরাসরি অংশীদার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কর্মীদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী উপহারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই কর্মীদের প্রতি মায়ের উদারতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে, পরিশ্রমী কর্মীদের কিভাবে স্বীকৃতি ও পুরস্কৃত করা যায়, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবির আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবির আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

বান্দ রোড থেকে বগুড়া রোড—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ আভিযানিক টিমের তৎপরতা

মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক টিম নগরীর *বান্দ রোড, রূপাতলী, সাগরদী, সিএন্ডবি রোড, বটতলা ও বগুড়া রোড* এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি জোরদার করা।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আকস্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযান এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিএমপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


মাদারীপুরে মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

মানব পাচার প্রতিরোধ, ভিকটিম শনাক্তকরণ এবং মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত দক্ষতা বাড়াতে মাদারীপুরে এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর সকালে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, মাদারীপুরে জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং ব্র্যাকের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা, মামলা তদন্তের কৌশল, সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো এবং ভিকটিমকেন্দ্রিক সেবা প্রদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পরিবর্তনশীল কৌশল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল ও ভিকটিমকেন্দ্রিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশিক্ষণে মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক ও উপপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সাব্বির হোসেন (ডিএসবি), সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন কাদের (শিবচর সার্কেল)সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্লোগান দেওয়া হয়—“স্বপ্নের নামে প্রতারণা—সমুদ্রপথে বিদেশ যাবো না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরে রেমিট্যান্সে ৭৭ কোটি ডলার, বেড়েছে ১১.৮০%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ এম


অক্টোবরে রেমিট্যান্সে ৭৭ কোটি ডলার, বেড়েছে ১১.৮০%

চলতি মাসের প্রথম সাত দিনের মধ্যে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের মুদ্রায় ৯ হাজার ৫২০ কোটি ২০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরিফ হোসেন জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৫৮৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর ফলে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ এম


জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি এবং প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ এবং সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে স্নাতক (সম্মান), বিবিএস ও সমমান ডিগ্রিধারীদের রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য দিতে হবে আরও ৫০০ টাকা। ফলে সনদসহ একজন নিয়মিত গ্র্যাজুয়েটের মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে তাঁদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

এবারের সমাবর্তন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির অন্যতম কারণ আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বৃদ্ধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়েছিল। ছয় বছর পর দ্বিতীয় সমাবর্তনে সেই ফি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফি নির্ধারণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেন, সদ্য পড়াশোনা শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একসঙ্গে ৫ হাজার বা সনদসহ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা কঠিন। তাদের মতে, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে সরকারের তেমন বরাদ্দ থাকে না, তারপরও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কম। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এখানে বরাদ্দ দেয়। তারপরও এতে এত ফি রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। এই অর্থের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবে না। প্রশাসনের উচিত ফি কমিয়ে সবাইকে সুযোগ করে দেওয়া।

আরেক শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, আমি মাত্রই অনার্স শেষ করেছি। ৫ হাজার টাকা একসঙ্গে জোগাড় করা আমার জন্য কঠিন। এত বেশি ফি নির্ধারণ করা হলে সমাবর্তনের আনন্দটাই অনেকের জন্য ম্লান হয়ে যাবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ফি কমানো উচিত।

এদিকে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও সমাবর্তনের স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে একজন শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাবর্তন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও সম্মানের একটি স্বীকৃতি। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।

প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আরও এক সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন কেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যদি তাদেরকে সমাবর্তন দিতে হয়, তাহলে সেটা আলাদাভাবে দিক, কোনো আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫/৬ ব্যাচ সিনিয়রদের সাথেও যে বন্ডিং থাকে, সেই সুবাদে সমাবর্তনের আনন্দ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য দুটোই ইফেক্টিভ হবে বলে বিশ্বাস করি। সান্ধ্যকালীন কোর্স দিয়ে আপনারা ব্যবসা করবেন, সেটা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। আপনাদের কেউ নিষেধ করেনি। কিন্তু সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেগুলার শিক্ষার্থী, যারা দীর্ঘ ৫ বছর ক্যাম্পাসের প্রতিটি কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাদের সঙ্গে প্যারালাল করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।

সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ইউসুব উসমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রফেশনাল বা ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন আরটিভিকে বলেন, ছয় বছর আগে সমাবর্তনের ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ছয় বছর আগের ফি এখন রাখলে কী হবে—তোমরাই বিবেচনা করো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব এক নয়। তাদের ফান্ডে অনেক টাকা থাকে, আর সরকারের ভর্তুকিও নেই। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কত টাকা আছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ফি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত তো আমি একা নেই না। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন বিবেচনা করা হবে কি না, সেটাও আমি একা বলতে পারি না।

সান্ধ্যকালীন বা প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, প্রথম সমাবর্তনেও তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যেহেতু তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সার্টিফিকেট পায়, তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়েই সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%