০৪:১২ এম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। তবে ভোটারদের মধ্যে অনেকেই ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটাররা সশরীরে অথবা ডাকযোগে আগাম ভোট দিতে পারেন।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ আগাম ভোট পড়ছে, যা পূর্ববর্তী বেশিরভাগ নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। ডেটাবেসটির পরিচালক অধ্যাপক মাইক ম্যাকডোনাল্ড জানান, টেক্সাসে গড় পরিমাণ ভোট পড়ার তুলনায় এখন পর্যন্ত অনেক বেশি সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। হিস্পানিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সামগ্রিক ভোটদানের হার ২০২০ সালের তুলনায় ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। এমনকি ২০১৮ সালের ভোটদানের হারকেও সম্ভবত ছাড়িয়ে যাবে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৯১৪ সালের রেকর্ড ভেঙেছিল। ম্যাকডোনাল্ড আরও জানান, টেক্সাসে ২০২২ সালে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার আগাম ভোট পড়েছিল, কিন্তু এবার আগাম ভোটের হার সেই সংখ্যাকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সউদী আরবে হুথিদের নিখুঁত হামলার নেপথ্যে রুশ স্যাটেলাইটের ভূমিকা?
যেসব রাজ্যে ভোটারদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিবন্ধন করতে হয়, সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় মোটামুটি একই রকম রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, যেসব ভোটার কোনো নির্দিষ্ট দলে নিবন্ধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের মধ্যেও আগাম ভোটদানের হার বেড়েছে, তবে তারা কোন প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন তা এই তথ্যে দেখা যায় না।
বৃহস্পতিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগাম ভোটের ৪৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটরা এবং ৩১.২ শতাংশ রিপাবলিকানরা দিয়েছেন। আরও ২৪.৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন এমন ভোটাররা, যাদের কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না। তবে, এই পরিসংখ্যানটি কেবল সেই প্রায় অর্ধেক রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে ভোটারদের দলীয় পরিচয় থাকা বাধ্যতামূলক।
তিনটি রাজ্যে ভোটারদের নিবন্ধনের সময় তাদের জাতি উল্লেখ করতে হয় - নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া এবং ফ্লোরিডা। এই রাজ্যগুলোর তথ্য থেকে দেখা যায় যে হিস্পানিক এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের ভোটদানের হার ২০২২ সালের আগাম ভোটের পরিসংখ্যানের সমান রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘এটা যৌক্তিক, কারণ অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়গুলো প্রায়শই ডেমোক্র্যাটিক জোটের অংশ হয় এবং শ্বেতাঙ্গরা প্রায়শই রিপাবলিকান জোটের অংশ হয়।’
টেক্সাসে ভোটারদের দলীয় পরিচয় বা জাতি উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না। তবে তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, মেক্সিকো সীমান্তবর্তী কিছু কাউন্টিতে ভোটদানের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যেগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি অধিবাসী হিস্পানিক। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমি যখন ওই কাউন্টিগুলোর দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শুধু আগাম ভোটেই ২০২২ সালের ভোটার উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: সউদীর নাজরান ও জাজান প্রদেশে বিপদ সংকেত জারি, পরে প্রত্যাহার
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আগাম ভোটদানের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার মূল কারণ ছিল কোভিড মহামারি। এই সময়ে আরও বেশি রাজ্য সশরীরে এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ চালু করে। ২০২০ সালের নির্বাচনে, যখন ভোটাররা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং আইনপ্রণেতা উভয়কেই বেছে নিচ্ছিলেন, তখন মোট ভোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আগাম দেওয়া হয়েছিল। এই আগাম ভোটগুলোর অর্ধেক আবার ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ভোটাররা ক্রমশ সশরীরে ভোট দিতেই বেশি পছন্দ করছেন, এমনকি আগাম ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভুলের কারণে ডাকযোগে দেওয়া ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং কিছু ভোটার মার্কিন ডাক পরিষেবায় হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন।
কিছু কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিস শহর জানিয়েছে যে, তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগাম ভোটের রেকর্ড স্থাপন করেছে।
৩ নভেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য ভেদে ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বরের মধ্যে আগাম ভোট দেয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
সূত্র : বিবিসি
আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন