০৩:৫৬ এম
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ মূল্যায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
যদিও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
ভারতের অর্থবছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে পরের বছরের ৩১ মার্চ শেষ হয়। সেই অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছর ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৩ শতাংশ, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে গতি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সূচকের মধ্যে রয়েছে জ্বালানির ব্যবহার, বন্দরের পণ্য পরিবহন, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় এবং গাড়ি বিক্রি।
আরও পড়ুন: চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ
এসব সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধি পেলেও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত ঝুঁকি ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির দাম রুপির বিনিময়মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: সাত দিনের সফরে ফ্রান্স যাচ্ছেন আইজিপি
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (সিপিআই) আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। পাইকারি মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (ডব্লিউপিআই) বেড়েছে আরও বেশি, ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গ্রামাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবারগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাপানি গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সফর : ব্যাপক আগ্রহ ও কৌশলগত গুরুত্ব
এল নিনোর ঝুঁকিও দেখছে সরকার
মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে। এই আবহাওয়াপ্রবণতা শীতকালীন ফসলের বপন মৌসুমের আগে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাদ্যপণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রুপির দরপতন সামলানোর সক্ষমতা রয়েছে ভারতের।
আরও পড়ুন: ট্যুর অপারেটর ও গাইডদের নিবন্ধন ফি কমানোর পরিকল্পনা: বিমানমন্ত্রী
গত পাঁচ বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে দর হারিয়েছে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক প্রায় ১৫ মাসে এই পতনের গতি আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ভালো অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৭২১ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারতের অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রুপির দরপতন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়াই দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১% মুসলিম, ৫১% নারী: মহুয়া মৈত্রের উদ্বেগ
সূত্র : ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ), রয়টার্সের তথ্য ও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অক্টোবরের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন