ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল


চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ মূল্যায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

যদিও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

ভারতের অর্থবছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে পরের বছরের ৩১ মার্চ শেষ হয়। সেই অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছর ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৩ শতাংশ, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে গতি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সূচকের মধ্যে রয়েছে জ্বালানির ব্যবহার, বন্দরের পণ্য পরিবহন, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় এবং গাড়ি বিক্রি।

আরও পড়ুন: চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ

এসব সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধি পেলেও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত ঝুঁকি ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির দাম রুপির বিনিময়মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: সাত দিনের সফরে ফ্রান্স যাচ্ছেন আইজিপি

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (সিপিআই) আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। পাইকারি মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (ডব্লিউপিআই) বেড়েছে আরও বেশি, ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবারগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাপানি গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সফর : ব্যাপক আগ্রহ ও কৌশলগত গুরুত্ব

এল নিনোর ঝুঁকিও দেখছে সরকার

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে। এই আবহাওয়াপ্রবণতা শীতকালীন ফসলের বপন মৌসুমের আগে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্যপণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রুপির দরপতন সামলানোর সক্ষমতা রয়েছে ভারতের।

আরও পড়ুন: ট্যুর অপারেটর ও গাইডদের নিবন্ধন ফি কমানোর পরিকল্পনা: বিমানমন্ত্রী

গত পাঁচ বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে দর হারিয়েছে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক প্রায় ১৫ মাসে এই পতনের গতি আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ভালো অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৭২১ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রুপির দরপতন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়াই দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১% মুসলিম, ৫১% নারী: মহুয়া মৈত্রের উদ্বেগ

সূত্র : ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ), রয়টার্সের তথ্য ও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অক্টোবরের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওতাধীন আওয়ামী লীগের এক নেতার মরদেহ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশের লৌহজং নদীর বক্সি বাড়ির ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত আওয়ামী লীগ নেতার নাম ইউনুস আল মোর্শেদ (৪৮)। তিনি মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কাঁঠালিয়া গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের পুত্র।

তথ্য অনুযায়ী, মোর্শেদ নিয়মিতভাবে বাড়ির পাশের লৌহজং নদীর বক্সি বাড়ির ঘাটে ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতেন। শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি মাছ ধরছিলেন, যা ছিল তার প্রতিদিনের রুটিন। বিকেল ৩টার দিকে কিছু মাছ পাশের গ্রাম পোষ্টকামুরী শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসেন এবং পুনরায় মাছ ধরার কাজে লিপ্ত হন। সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ঘরে না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তার ফোনে কল করেন। ফোন রিসিভ না হওয়ায় তারা ওই ঘাটে খোঁজ করতে যান।

সেখানে বাঁশের মধ্যে শার্ট এবং পকেটে মোবাইল ফোন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে মোর্শেদের ভাই আজাদ নিজেই নদীতে ভাইকে খুঁজতে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

স্থানীয় শামীনুর জানান, মোর্শেদের দুটি চোখ ও একটি কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান ছানু বলেন, মোর্শেদের বাবা দুই যুগের বেশি সময় আগে একই ঘাটে গোসলে গিয়ে ডুব দিয়ে আর উঠতে পারেননি। পরে জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থানে দুই সপ্তাহ আগে একটি শিশু ডুবে মারা গেছে। বুকসমান পানিতে ডুবে মোর্শেদের মৃত্যু এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবিহ উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সাবিহ উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবিহ উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন, কূটনীতি ও রাজনীতির একজন প্রজ্ঞাবান, সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক দেশে কূটনীতিক হিসেবে দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শন ও আদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী সাবিহ উদ্দিন আহমেদ সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি আমৃত্যু বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সমৃদ্ধ করেছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সাবিহ উদ্দিন আহমেদের দেশসেবা, সততা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মনিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আমি মরহুম সাবিহ উদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ৬৬ হাজার মামলা, বিচারক মাত্র আটজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


চট্টগ্রামে ৬৬ হাজার মামলা, বিচারক মাত্র আটজন

চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ হাজার ৪১৮ এ পৌঁছেছে। অথচ, এই বিপুল সংখ্যক মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন মাত্র আটজন বিচারক। ১৬টি থানার বিপরীতে আদালতের সংখ্যা রয়েছে মাত্র আটটি। দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের সংখ্যা না বাড়ানোর ফলে মামলার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বিচারকদের ওপরও অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলার শুনানি, আদেশ ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আদালত কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ১০৬ এ পৌঁছালে ২০০৮ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি করা হয়। এরপর টানা ১৮ বছর ধরে মহানগরের জনসংখ্যা ও অপরাধের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেলেও নতুন কোনো চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গঠন করা হয়নি।

ফলে ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ সামলাতে বিদ্যমান আদালতগুলোকে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে। আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতিজন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের কাঁধে গড়ে ৮ হাজার ৩০০টিরও বেশি মামলার দায়িত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রমের গতি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৯৪৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ২৪৯টিতে। ওই বছর ৩৯ হাজার ৮১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ৭ হাজার ৮৬০টি, আগস্টে ১৪ হাজার ২০৬টি এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ হাজার ৪৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪১৮টিতে।

আদালত সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। ফলে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন মামলার চাপও সামলাতে হচ্ছে বিচারকদের। আদালতের সংখ্যা ও বিচারক না বাড়ায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবেদনের পরও বাড়েনি আদালত

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে অতিরিক্ত তিনটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ২০টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। তবে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে জানান আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও তিনজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে ম্যাজিস্ট্রেসির কার্যক্রম শুরু হয়। জনসংখ্যা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহানগরে থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। কিন্তু থানার সংখ্যা বেড়ালেও সেই অনুপাতে বিচারিক আদালত বাড়েনি।

১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৮,৫৬৭। মামলা বাড়তে থাকায় ওই বছর ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা পাঁচজনে উন্নীত করা হয়। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের একটি পদ বাড়ানো হয়। এরপর ২০০৭ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজার ১০৬টিতে পৌঁছালে পরের বছর একটি আদালত বাড়িয়ে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা আটটিতে উন্নীত করা হয়।

এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতের সংখ্যা বাড়েনি। অথচ ২০০৭ সালের তুলনায় বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, থানার সংখ্যা সম্প্রসারণ এবং মামলার ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে বিচারিক অবকাঠামো একই অবস্থায় থাকায় বিদ্যমান আদালত ও বিচারক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, বিচারক ও আদালত বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে এখনো অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। বিচারক ও জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আদালতের অবকাঠামো সম্প্রসারণও প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকায় সীমিত সংখ্যক বিচারকের ওপর বিপুলসংখ্যক মামলা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন আদালত প্রতিষ্ঠা ও বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে মামলার জট এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিফের বন্ধু দীপ নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ এম


তাহসিফের বন্ধু দীপ নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘ব্যবসায়িক পার্টনার’ ও বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহী না হওয়ায় নৌ পুলিশ এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিবিআই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। শুক্রবার, তদন্ত দলের সদস্যরা দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না। এটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই চলছে।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের দুজনের পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন দীপ। আর দীপ নিজে বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%