ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জিতেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা


ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জিতেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা

ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের অর্ধশতকের সুবাদে পাকিস্তান ঘরের মাঠে একটি দারুণ জয় অর্জন করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পরপর মাআজ সাদাকাত (৫) ও বাবর আজমকে (০) ফিরিয়ে দেন দিলশান মাদুশঙ্কা। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়।

তবে শুরুতে ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ফখর জামান এবং তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ার পথে এই দুই বাঁহাতি তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, আলাভেসকে ৬-১ গোলে পরাজিত

২৭তম ওভারে মাহিশ থিকশানা সাদ বেগকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। ৭৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৩।

এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আগার সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন ফখর। এই জুটিতেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে থামে ফখরের দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৭ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের জয়ের পথে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

ফখরের বিদায়ের দুই ওভার পর সাজঘরে ফেরেন সালমান আলী আগাও। ২৫ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি।

আরও পড়ুন: এবার ইতিহাদে ব্রাইটনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারল সিটি

৩৬.৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩০। এরপর দলের হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন তারা।

এই জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ৪৮তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে আউট হন মিনহাস।

একই ওভারে নতুন ব্যাটার ফাহিম আশরাফকেও গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে দেন ফার্নান্দো। ফলে ৪৭.৫ ওভারে ৩২৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।

তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মাদুশঙ্কাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

আরও পড়ুন: দ. আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারিয়ে সিংহাসন হারাল অস্ট্রেলিয়া

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৯.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো দুটি এবং দুনিথ ওয়েলালাগে ও মাহিশ থিকশানা একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করে সফরকারীরা।

ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস প্রথম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ বলে ৩৮ রান করা আভিষ্কাকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন সালমান আলী আগা।

এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ক্রিজে এসে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১২ বলে ৮ রান করে সালমানের বলে আউট ফেরেন তিনি। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২১.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০৯।

আরও পড়ুন: ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়

কুশলের বিদায়ের পর পাভান রথনায়েকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কামিন্দু মেন্ডিস। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর দ্রুত ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এই জুটিতেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দু।

তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কামিন্দু। ১২৮ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩১ রান করেন তিনি।

এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন পাভান রথনায়েকে ও দাসুন শানাকা। তবে ৯ বলে ১৭ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে দেন শাহিন। এরপর হারিস রউফের শিকার হন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে আটটি চারে ৭৭ রান করেন তিনি।

শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহ ফেরান জনিথ লিয়ানাগেকে (৯ বলে ৬)। অন্যদিকে হারিস রউফের বলে দুনিথ ওয়েলালাগে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাতীয় সাঁতার, সেরা সাঁতারু রাফি ও মাইশা

এরপর নাসিম শাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সাহান আরাচ্চিগে। ১২ বলে ১৫ রান করেন তিনি।

তবে শেষ দুই ওভারে আসিথা ফার্নান্দো ও মাহিশ থিকশানা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করেন। ফার্নান্দো ৬ এবং থিকশানা ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আলী আগা ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন।

আরও পড়ুন: এবার ব্রাইটনের চমক, টানা দুই হারে শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কায় সিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ

একটি ইন্টারনেট মিম এবং কয়েক সেকেন্ডের রসিকতা—এটি ইউরোপের ফুটবল ও বাণিজ্যজগতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি মন্তব্যের কারণে চীন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, দেশটির তিনটি প্রতিষ্ঠান ফরাসি তারকার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এমবাপ্পে, লা লিগা এবং রিয়াল মাদ্রিদ ক্ষমা চেয়েছেন। তবে চীন এখনও সন্তুষ্ট নয়।

প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবল লিগ এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবগুলোর একটি রিয়াল মাদ্রিদ কেন চীনের কাছে এতটা নমনীয়? এর উত্তর ফুটবলের বাইরের বিশাল বাণিজ্যিক জগতে নিহিত।

বিতর্কের শুরু হয় ফরাসি অনুষ্ঠান ‘দ্য ব্রিজ’-এ এমবাপ্পের একটি সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুংয়ের অবয়ব ব্যবহার করে তৈরি একটি ভিডিও সম্পর্কে মন্তব্য করেন। মাওকে নিয়ে এমন রসিকতা চীনে অত্যন্ত সংবেদনশীল। মন্তব্যটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২৭ অক্টোবর ডংপেং, মেংনিউ ও মিল্কগ্রাউন্ড নামের তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠান এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করে। একই সময়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) লা লিগার সম্প্রচার স্থগিত করে।

এমবাপ্পে দুঃখ প্রকাশ করার পর লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদও ক্ষমা চেয়েছে। তবে সিএমজির দাবি, রিয়াল মাদ্রিদকে যথাযথভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। সংকট সমাধানের জন্য লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁর চীন সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

লা লিগার জন্য চীনের গুরুত্বের একটি বড় অংশ হলো সম্প্রচারস্বত্ব। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ মৌসুমে লিগটির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ইউরো। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই আয়ের বেশিরভাগ অংশ জোগায়। যদিও দুই দেশের মধ্যে চীনের অবদান আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটির দর্শকবাজার সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা স্পষ্ট।

এশিয়ার দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ২০১৬ সাল থেকে লা লিগা ম্যাচের সূচি এই অঞ্চলের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। চীনে দুটি কার্যালয়সহ আটটি দেশে নয়টি অফিস খুলেছে তারা। ২০১৫ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি।

সম্প্রতি চায়না মোবাইলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিগুর সঙ্গে ২০২৬–২৭ থেকে ২০২৯–৩০ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি করেছে লা লিগা। ফলে চীনের দর্শকেরা প্রতি মৌসুমে লিগের ৩৮০টি ম্যাচ দেখতে পারবেন। চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালে সিএমজির সঙ্গে ফ্রি-টু-এয়ার সম্প্রচারের চুক্তি করেছিল লিগটি।

রিয়াল মাদ্রিদের কাছে চীনের গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। সম্প্রচার ছাড়াও, জার্সি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি, স্পনসরশিপ এবং ব্র্যান্ডের বাজারে দেশটির প্রভাব রয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার তথ্য অনুযায়ী, রিয়ালের জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চীন থেকে আসে।

ডেলয়েটের ফুটবল মানি লিগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ মৌসুমে রিয়ালের রাজস্ব ছিল ১ হাজার ১৬১ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাবটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান হাইসেন্স ও লিংলং টায়ারও রয়েছে। ফলে চীনের বাজারে সুনাম নষ্ট হলে ক্লাবটির ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।

চীনের ক্রীড়াবাজার ক্রমবর্ধমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রীড়াশিল্পের আকার ৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৪ সালে এই শিল্পের উৎপাদনমূল্য ছিল ৩.৮৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

অর্থাৎ, চীন শুধু বর্তমানের বড় বাজার নয়, ভবিষ্যতেরও বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সেই বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখা এখন লা লিগা ও রিয়ালের প্রধান চিন্তা।

মাঠের ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ যতই শক্তিশালী হোক, বৈশ্বিক বাণিজ্যের খেলায় চীনের বাজারকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এমবাপ্পের একটি মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট সংকট ফুটবলের চেয়ে অনেক বড় এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ. আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারিয়ে সিংহাসন হারাল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


দ. আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারিয়ে সিংহাসন হারাল অস্ট্রেলিয়া

কেপটাউন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের লিড অর্জন করা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিলে অস্ট্রেলিয়া তিন নম্বরে নেমে গেছে। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমনও তাদের জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়াকে সিংহাসনচ্যুত করে শীর্ষে উঠে গেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) কেপটাউন টেস্টের পঞ্চম দিনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাইমন হার্মারের ৬ উইকেট শিকারে ৫৭.১ ওভারে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় অজিদের ইনিংস। সিরিজের প্রথম টেস্টটি জিতলেও পরবর্তী দুই টেস্টে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে সফরকারীরা।

২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই কাগিসো রাবাদা ওপেনার ম্যাট রেনশ (০) ও মার্নাস লাবুশেনকে (৪) ফিরিয়ে দেন। ফলে সফরকারীরা মাত্র ৫ রানে দুই উইকেট হারায়।

এরপর ট্রাভিস হেড (১৪) ও অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১৭ রানের একটি ছোট জুটি গড়েন। তবে রাবাদার বলে হেড আউট হলে অস্ট্রেলিয়া আবারও বিপদে পড়ে। হেডের বিদায়ের পর গ্রিন একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। মাঝের সারিতে ধস নামান সাইমন হারমার।

শেষ পর্যন্ত ৩৯তম ওভারের প্রথম বলেই গ্রিনকে বোল্ড করে তার প্রতিরোধের অবসান ঘটান হারমার। তখন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৬২ রান। ১১০ বল মোকাবিলা করে তিনটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন গ্রিন।

এরপর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন নবম উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় কিছুটা বিলম্বিত করেন। ১৭ ওভারেরও বেশি সময় ধরে ব্যাটিং করে স্বাগতিক বোলারদের অপেক্ষায় রাখেন এই দুই ব্যাটার।

তবে শেষ পর্যন্ত কামিন্সকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন হারমার। ৯০ বলে একটি চারের সাহায্যে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটার জশ হ্যাজলউডকে শূন্য রানে বোল্ড করে নিজের ছয় উইকেট পূর্ণ করেন হারমার। ২১.১ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি স্পিনার। ম্যাচে দুই ইনিংসে মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন।

হারমারকে দারুণভাবে সহায়তা করেন পেসার কাগিসো রাবাদা। ১৪ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন নাথান লায়ন। ৫৭ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

ঘরের মাঠের এই সিরিজ জয়ে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে টেম্বা বাভুমার দল। অন্যদিকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভালো ফল করলে নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে তাদের।

অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টেস্ট অ্যাসাইনমেন্টও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। আগামী ৯ ডিসেম্বর পার্থে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে এই সিরিজ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আয়োজনের আগে দুই সপ্তাহের বিরতি পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা। তারা বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। গত বছর লর্ডসে ফাইনালে জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিল দলটি।

ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬৯.২৩ শতাংশ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ছিল ৮০ শতাংশ।

এদিকে, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়াকে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।

তিনি জানান, “এক নম্বর হওয়াটা অসাধারণ। নিঃসন্দেহে দল হিসেবে এটি আমাদের অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল। আমরা নিজেদের মান যতটা সম্ভব উঁচুতে নিয়ে যেতে চাই। এই সুযোগের মাধ্যমে আমরা প্রোটিয়াদের ব্যাজকে আরও সম্মানজনক অবস্থানে রেখে যেতে চাই। তাই দল হিসেবে অবশ্যই এই অর্জন উদ্‌যাপন করব।”

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অনুভূতি জানিয়ে বাভুমা আরও বলেন, “যখনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ আসে, সেটিকে বিশেষভাবে উপভোগ করতে হয়। আমার মনে হয় না, এর চেয়ে ভালো কোনো সিরিজে আমি খেলেছি। তাই নিঃসন্দেহে এটি আমার সেরা টেস্ট জয়ের তালিকায় এক নম্বরে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার ইতিহাদে ব্রাইটনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারল সিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


এবার ইতিহাদে ব্রাইটনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারল সিটি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের সম্মুখীন হলো ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ইয়াসিন আয়ারির প্রথমার্ধের গোলে ১-০ ব্যবধানে ব্রাইটন ম্যানচেস্টার সিটিকে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাইটন বুধবারের লিগ কাপের পরাজয়ও প্রতিশোধ নিয়েছে।

ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় ব্রাইটন এগিয়ে যায়। লুইস ডাঙ্কের দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে দিয়েগো গোমেজের বাড়ানো বল সঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি মাতেউস নুনেস। পেছনে থাকা ম্যাক্সিম দে কুইপার বলটি আয়ারির দিকে বাড়িয়ে দেন। আয়ারি কাছ থেকে নিচের ডান কোণে বল পাঠিয়ে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন। এটি চলতি লিগে তাঁর তৃতীয় গোল।

গোল হজমের পর সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও সিটির প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ তৈরি হয়নি। ইলিমান এনদিয়ায়ে দূরের পোস্টের বাইরে হেড করেন। পরে, তাঁর নেওয়া শটই প্রথমার্ধে সিটির একমাত্র লক্ষ্যে থাকা শট, সেটিও সরাসরি ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনের হাতে যায়। অন্যদিকে, গোমেজকে ঠেকাতে ভালো সেভ করেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। বিরতির আগে এরলিং হলান্ডের ভালো সুযোগও আটকে দেন ডাঙ্ক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রাইটন ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায়। আয়ারির বাড়ানো বলে দে কুইপার প্রথম স্পর্শেই শট নেন, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর এনদিয়ায়ে সিটির হয়ে সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ফেরব্রুগেন, বল গোলপোস্টে লাগে।

এরপর নুনেস আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পান। রায়ান শেরকির বাড়ানো বল ধরে বাঁকানো শট নেন তিনি, কিন্তু ফেরব্রুগেন শক্ত হাতে তা ঠেকিয়ে দেন। এনদিয়ায়ে আরও একবার কাছ থেকে শট নিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ম্যাচের শেষ দিকে জ্যাক হিনশেলউডও ব্রাইটনের হয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর চিপ করা বল সাইড নেটিংয়ে লাগে।

শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন জেরেমি ডোকু। কাছ থেকে তাঁর নেওয়া শটও ফেরব্রুগেন ঠেকিয়ে দেন। ফলে, পুরো ম্যাচে ২১টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি সিটি। এর মধ্যে ছয়টি লক্ষ্যে ছিল, মোট প্রত্যাশিত গোলের মান ছিল ১.৯২। অন্যদিকে, ব্রাইটন সাতটি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে এবং তাদের প্রত্যাশিত গোলের মান ছিল ১.০০।

এই পরাজয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির টানা ২৪ ম্যাচের গোল করার ধারাও থেমে গেল। চলতি মৌসুমে এটি ব্রাইটনের ষষ্ঠ গোলশূন্য জয়, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। আয়ারি শেষ তিন লিগ ম্যাচে দ্বিতীয় গোল পেলেন; আগের ১৪ ম্যাচে তাঁর গোল ছিল মাত্র একটি।

ব্রাইটনের এই জয়ে তারা এখন শীর্ষে থাকা সিটির মাত্র দুই পয়েন্ট পিছনে রয়েছে। সিটি গোল ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে আর্সেনাল হার এড়াতে পারলে সিটি দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাবে। ফলে, টানা দুই পরাজয়ের পর লিগের শীর্ষস্থান নিয়েও এখন ম্যানচেস্টার সিটির চাপ বেড়ে গেল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক উৎপাদন শিল্প, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশল খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

সফরের সময়, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই আলোচনাগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

ইআরডি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন স্যামসাং, হানওয়া ওশান, নাভার, ইয়ংওয়ান, ফিউরিওসাএআই এবং এলজি এআই রিসার্চ। এছাড়া এসকে গ্যাস ও নাভারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পরিবহন, জ্বালানি, নগর সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে সমন্বিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, শহর ও বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে নতুন প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০৪৫-৪৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় এই অর্থের সংস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, দ্বিপক্ষীয় পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বেশ কয়েকটি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ১৭টি বরাদ্দবিহীন ও অননুমোদিত সরকারি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে এডিবির সহ-অর্থায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিবহন, পয়ঃনিষ্কাশন, গবেষণা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন এবং অর্থায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%