শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ পি.এম
পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সংখ্যা সীমিত করেছে সরকার। চলতি মৌসুমের জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বাধিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। তবে, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতামত অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর নজরদারি, নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি, পর্যটনশিল্পের বিকাশও নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন এবং পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট অন সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড : দ্য রিয়েলিটি’।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পর্যটন খাতের গবেষক ফারুক হাসান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার ফলে দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটনশিল্প সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এই খাতটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
ফারুক হাসান আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের উপকূলের মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ এলাকায় প্রবাল কলোনি বিদ্যমান। মালদ্বীপ ও ইতালির অনেক দ্বীপের তুলনায় সেন্ট মার্টিনের আয়তন বড় এবং এখানকার স্থানীয় জনসংখ্যা ও পর্যটকের চাপও তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে পর্যটন পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। তবে, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
নিয়ম ভাঙলে জরিমানার সুপারিশ
সেন্ট মার্টিনে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফারুক হাসান। তিনি বলেন, দ্বীপের অনেক হোটেল-মোটেল নিয়ম মেনে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটকদের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা রয়েছে। এর ফলে পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
মালদ্বীপে পর্যটনের নামে পরিবেশের ক্ষতি করলে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার আগে পর্যটকদের জানানো উচিত কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
আলোচকরা বলেন, বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রে গেলে অনেক বাংলাদেশি পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু দেশের পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে তাদের কেউ কেউ নিয়ম মানতে চান না। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
তারা আরও বলেন, দ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পয়োনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, জাহাজ থেকে পোড়া মবিল সাগরে ফেলা বন্ধ করে তা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ
সেন্ট মার্টিনে স্মার্ট পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ওপর চাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, কোথায় কী করা যাবে এবং কোন কাজ নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। এতে নিয়মের প্রয়োগ সহজ হবে এবং পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দ্বীপটির পর্যটন টিকবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ সেখানে অর্থ ও সময় ব্যয় করে কেন যাবে?
তিনি বলেন, টেকসই পর্যটনের কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবেও তা অনুসরণ করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার পালন করবে।
মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সেন্টমার্টিনে এক হাজারের বেশি মানুষ নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি পরিবেশের ক্ষতি না করে এই সংখ্যার পর্যটক ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
টোয়াবের সহসভাপতি (১) মো. মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. মাহফুজা পারভীন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী।
ছুটির দিনে বিটিটিএফে দর্শনার্থীদের ভিড়
এদিকে বিটিটিএফের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মেলার বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
মেলার ১৪তম আসরে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ ২০টি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ভবন নির্মাণে যদি আইনি জটিলতা থাকে, তবে তা নিরসনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি ডিআরইউর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শিশুদের প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন।
শুক্রবার ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুস সালাম উল্লেখ করেন, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে বর্তমান স্থানটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকলে তা দূর করতে তিনি সহযোগিতা করবেন।
তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার ভবিষ্যৎ এখন নতুন প্রজন্মের হাতে। আগামী দিনে তারাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং মিথ্যা বলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাত ও নখ পরিষ্কার রাখা, ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শারীরিক ব্যায়াম করা অপরিহার্য। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য বাড়ির ছাদ, ফুলের টবসহ আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং দুধ, ডিম ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শও দেন তিনি।
সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের বাবা-মায়েরা সমাজের সত্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। বাবা-মায়ের পেশাকে সম্মান জানিয়ে তাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে হবে।
শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, তাদের মধ্য থেকেই একদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসক ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরি হবে। এজন্য ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।
দিনব্যাপী এই উৎসবে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি মো. আব্দুস সালাম।
সাংস্কৃতিক উৎসবের সংগীত বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইয়াসমিন মুশতারী, খায়রুল ওয়াসি ও দেবলীনা সুর। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন মলয় বালা, অমিত নন্দী ও ঝোটন চন্দ্র রায়। আবৃত্তি বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিমুল মুস্তাফা, নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও মুনা চৌধুরী।
শিশু-কিশোরদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহ প্রদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করে ডিআরইউ।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, আব্দুল আলীম।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলো
চিত্রাঙ্কন: ক বিভাগে প্রথম কাজী আনালিয়া মুস্তাফিজ, দ্বিতীয় মিকদাদ বিন সাইফ ও তৃতীয় আরীন আমিরা। খ বিভাগে প্রথম আনিকা আনজুম, দ্বিতীয় হোসেন রাজভীন রাউনাফ ও তৃতীয় আরিয়ান রহমান। গ বিভাগে প্রথম রাদিতা জাহান নুভা, দ্বিতীয় অদ্বিতীয়া পুন্যি ও তৃতীয় আয়নুন নাহার আকসা।
আবৃত্তি: ক বিভাগে প্রথম আমিরা জাহান অর্থি, দ্বিতীয় ফারিন তারান্নুম ও তৃতীয় সেহরিশ জামান। খ বিভাগে প্রথম তাহসিন হক আনিকা, দ্বিতীয় সানদিহা জাহান দিবা ও তৃতীয় আম্মার সামি। গ বিভাগে প্রথম রাদিতা জাহান নুভা, দ্বিতীয় জেরিন ফেরদৌস পঙক্তি ও তৃতীয় মারজুকাহ জয়নব।
সঙ্গীত: ক বিভাগে প্রথম মুয়ান্তিরা রহমান সানাইয়া, দ্বিতীয় শুদ্ধতা আজম ভোর ও তৃতীয় আমিরা জাহান অর্থী। খ বিভাগে প্রথম সানদিহা জাহান দিবা, দ্বিতীয় অরুন্ধতী কর গল্প ও তৃতীয় হোসেন রাজভীন রাউনাফ। গ বিভাগে প্রথম তাহসিনা কবির এলিশা, দ্বিতীয় রাদিতা জাহান নুভা ও তৃতীয় শেখ তাজকিয়া হিমাদ্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের আমদানি বাড়ানোর জন্য শুল্ক হ্রাস করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা থাইল্যান্ডের বাজারে বৃদ্ধি পাবে।
আজ থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফওসি) বৈঠকে ঢাকা এই দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিন্তারুচি।
থাইল্যান্ড বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে, থাই প্রতিনিধিদল দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানায়।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শ্রমিক অভিবাসন, জ্বালানি, কৃষি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে প্রথম সরাসরি নৌপরিবহন সেবা চালু হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
এ সেবার ফলে পণ্য পরিবহনে সময় প্রায় ১৫ দিন থেকে কমে চার দিনে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কমার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।
বাংলাদেশের ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক হালাল খাদ্যের বাজার কাজে লাগাতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়।
থাইল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (টিকা) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ আতিথেয়তা, নার্সিং, জার্মপ্লাজম ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পেশাগত প্রশিক্ষণের অনুরোধ জানায়। থাইল্যান্ড তাদের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
চাল আমদানি ও শ্রমিক অভিবাসনসহ আলোচনাধীন বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার বিষয়ে বিবেচনা নিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষিজাত অবশিষ্টাংশ ও কৃষিশিল্পের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে।
আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ উপলক্ষে দুই দেশের সরকারপ্রধানদের সফর আয়োজনের আশাও প্রকাশ করা হয়।
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগদানের প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করে।
ঢাকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ব্যাংককের সহযোগিতাও চায়।
উভয় পক্ষ মানব পাচার, অস্ত্র পাচার, অনলাইন প্রতারণা ও মাদক পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করা এবং দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে বিবেচনায় নিতে তারা সম্মত হয়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে ৯ দিন ধরে চলমান অবরোধ ১২ ঘণ্টার জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এলাকার সাধারণ জনগণের জরুরি ও মৌলিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী ১ নভেম্বর (রবিবার) ১২ ঘণ্টার জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ওই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘কঠিন চীবর দান’ যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে উদযাপিত হয়, সেই উদ্দেশ্যে আলোচনা সাপেক্ষে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নভেম্বর (রবিবার) নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর থেকে পূর্বের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পুনরায় শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন যে, ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি। নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্তরে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ট্যালেন্ট শার্পনার আয়োজিত ‘পিংক ওয়েলবিয়িং: আ জার্নি অব ব্রেস্ট ক্যান্সার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রংগার টুগেদার ফর আ হেলদিয়ার টুমরো’。
চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো দেশের জনগণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দক্ষ, সুস্থ এবং স্বাবলম্বী মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের অর্ধেকের বেশি জনগণ নারী, তাই নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার ও সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। নারী শিক্ষার্থী ও তরুণীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, রোগের লক্ষণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সামাজিক ট্যাবু ও সংকোচ দূর করতে হবে।’
চিফ হুইপ সরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে এসব রোগ সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনা পেলে তা প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নারীদের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করে সহজবোধ্য এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, একজন মা সুস্থ থাকলে পরিবার ও সমাজ সুস্থ থাকে। তাই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারী এবং সুস্থ হয়ে ওঠা নারীদের পাশে দাঁড়ানো সবার সামাজিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য বিথিকা বিনতে হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা এবং রোগীদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ