ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নিয়েছেন ইউএনও, টাকা ফেরত চাওয়ায় বিপাকে নারী!


চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নিয়েছেন ইউএনও, টাকা ফেরত চাওয়ায় বিপাকে নারী!

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি উপজেলার এক তরুণকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার মা রেহেনা বেগম উর্মির কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ইউএনও অভিযোগটি অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

রেহেনা বেগম, ঘুষ হিসেবে দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও রেহেনা বেগমের বক্তব্যে জানা যায়, ২০২৫ সালে পরিবারের কোন উপার্জনকারী না থাকায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহায়তা চান। সেখানে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যার বিনিময়ে তিনি ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে রেহেনা বেগম ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর পরিশোধ করার কথা বলেন।

এদিকে, সোমবার সকালে রেহেনা বেগম জানতে পারেন যে, ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুর বদলির আদেশ হয়েছে। পরে তিনি দুপুরে ইউএনওর কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে ইউএনও অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাকে চেনেন না দাবি করেন।

উপজেলা চত্বরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রেহেনা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ হন। লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এতে প্রতিক্রিয়া জানান।

রেহেনা বেগমের দাবি, ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানিত হয়েছেন। অভিযুক্ত ইউএনও তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকানোর ভয় দেখিয়েছেন। তার ছোট ছেলেকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। ধারদেনা করে দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পেতে বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন রেহেনা বেগম।

আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, "আমি ওই নারীকে চিনতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করে ঘুষ দেওয়ার নাটক সাজিয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করছি। ওই নারীর সঙ্গে আমার কখনও দেখা বা কথা হয়নি। আর যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগেই বাতিল করা হয়েছে। ওই নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবির ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


জবির ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ২৩০ কোটি ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মূল বাজেট ৩ শত ৩০ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১১২তম (বিশেষ) সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে এই বাজেট অনুমোদিত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়া বাজেটের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট ২৩০ কোটি ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিমক বরাদ্দ ২০২ কোটি ৮২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ২৭ কোটি টাকা ৫০ লক্ষ টাকার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের মূল বাজেট ৩৩০ কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বরাদ্দ ১৫৯ কোটি ১০ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ২৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ও ঘাটতি ১৪৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার অন্তর্ভুক্ত।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরের মূল বাজেটে ইউজিসি কর্তৃক গবেষণা অনুদান ও যানবাহন খাতে বরাদ্দ স্থগিত রয়েছে এবং অন্যান্য আরো কিছু খাতে চাহিদার ৫০% কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই বাজেটে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য গবেষণাখাতে ৮ কোটি টাকা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৩০ লক্ষ টাকা, অন্যান্য অনুদান খাতে ৬২ কোটি ৬ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি খাতে ৫ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা, যানবাহন খাতে ৫ কোটি টাকা, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন খাতে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই বাজেটের মধ্যে বেতন ভাতা বাবদ ১২৯ কোটি ৮০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা এবং পণ্য ও সেবা বাবদ ১০৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি বাবদ ৬০ কোটি টাকা এবং অস্থায়ী হল নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাজেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭৪৬ কোটি ৬ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট ৩৬৯ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় অবশিষ্ট কাজের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের মূল বাজেট ২০১ কোটি ২১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার পূর্নাঙ্গ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণ খাতের ৩০ কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে প্রণীত বিশেষ বৃত্তি নীতিমালার অনুযায়ী বৃত্তির জন্য ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। সর্বমোট ঘাটতি ১৪৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট সভা থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়।

সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই বাজেট অনুমোদনের জন্য অর্থ কমিটির সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়াই সরকারের লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়াই সরকারের লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশের তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ প্রদান করে একটি বৈষম্যহীন, দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝ থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের বিশ্বজয়ী বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।’

আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ এর প্রদর্শনী ও চূড়ান্ত বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সেরা খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং ইনোভেশন স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শুধুমাত্র মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের সুসমন্বয় থাকবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পায় এবং তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিগত বছরগুলোর সৃজনশীল কাজের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগের অভাব ছিল, তখন এই ফাউন্ডেশন বছরের পর বছর ধরে তরুণদের মেধা বিকাশে ভার্চুয়াল সায়েন্স প্রজেক্টসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি যুগের পর যুগ এমন সৃজনশীল কাজ করতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে আমাদের আরও বড় পরিসরে কাজ করা উচিত। আর সেই চেতনা থেকেই আজ সরকারিভাবে এই জাতীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

নির্বাচনী ইশতেহার ও বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রতিফলন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইশতেহারের ১০টি বিষয়কে শিক্ষায় কাভার করার চেষ্টা করছি। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ভৌগোলিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না রেখে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একত্র করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।’

চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আজকের ফাইনালে আসা প্রজেক্টের প্রতিটি উদ্ভাবনী নিয়মিত নার্সিং করব, প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেব এবং প্রতি মাসে এ বিষয়ে আপডেট নেওয়া হবে, যাতে এগুলো সফল স্টার্টআপ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের উল্লেখ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিটি টিমে ৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে ২ জন শিক্ষককে রাখা হয়েছে। আজ শিক্ষকদেরও ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিয়েছে।’

তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে সবসময় পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে গত ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম।’

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা এবং জাতীয়- এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা নিয়ে সেমিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


ঢাবিতে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা নিয়ে সেমিনার

বাংলাদেশে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার অতীত ইতিহাস, সাম্প্রতিক প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বক্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ ও সামাজিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণাকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তঃবিষয়ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গবেষণালব্ধ ফল নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তারা।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের চতুর্থ তলায় উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে ‘স্টেট অফ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইন বাংলাদেশ : পাস্ট হিস্টোরিজ, কনটেম্পোরারি ট্রেন্ডস অ্যান্ড ফিউচার ডিরেকশন’ শীর্ষক এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, ‘সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরির পাশাপাশি মৌলিকত্ব ও গবেষণা নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় গবেষণার নতুন পদ্ধতি ও মানদণ্ড তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন। তিনি আরও বলেন, গত এক যুগে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের মানসিকতায় যে রূপান্তর ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো এখন সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো এবং গবেষণার ফল নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি প্রতিযোগিতাভিত্তিক অর্থায়ন, জাতীয় ডেটা আর্কাইভ, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং তরুণ গবেষকদের জন্য ফেলোশিপ ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণাকে শুধু ফলাফল উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি, ঐতিহাসিক শিকড় ও পদ্ধতিগত কাঠামো নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনা দরকার। ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব ও পশ্চিমা তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব সমাজ বাস্তবতা থেকে স্থানীয় তত্ত্ব ও ধারণাগত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে বলেও তিনি মত দেন।

তিনি সামাজিক বিজ্ঞানকে সমাজের নিষ্ক্রিয় আয়না নয়, বরং যৌথ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সক্রিয় চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশকে শুধু জ্ঞানের ভোক্তা নয়, জ্ঞানের উৎপাদক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।’ বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর ড. এম আসলাম আলম বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস গবেষণাকে বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণ ও নীতিনির্ধারণে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম গবেষণায় মেন্টরশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সেমিনারের শেষ পর্বে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে বিপুল ভারতীয় মাদক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে বিপুল ভারতীয় মাদক উদ্ধার

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবি তিনটি পৃথক অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক এবং চোরাচালানের পণ্য উদ্ধার করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আজ সোমবার দুপুরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০ বোতল ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৯০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ১৫০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গতকাল রোববার রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে চরচিলমারী বিওপির আকন্দপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৭৮০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ২২০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ২৪০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া একই দিনে সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে বিলগাথুয়া বিওপির জয়পুর চক বিলগাথুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপ উদ্ধার হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এসব মাদক এবং চোরাচালান পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। ইহার পাশাপাশি বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য সহ সকল প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%