ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ময়মনসিংহে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রাণনাশের হুমকি


ময়মনসিংহে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রাণনাশের হুমকি

ময়মনসিংহে বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের সাইট ম্যানেজারের তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাইট ম্যানেজার শেখ মুজাহিদুল ইসলাম।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন– শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী প্রকৌশলী-৩ (সিভিল) জামী আন-নাবেদ ইসলাম এবং উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল শোসান।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বাদী শেখ মুজাহিদুল ইসলাম বর্তমানে বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের অধীনে দুটি সাইটের সাইট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। মুক্তাগাছায় বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের চলমান দুটি প্রকল্পের সাইট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এক মাস আগে ২ নম্বর বিবাদী নাজমুল শোসান বাদীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং দুটি কাজের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন: ২৭৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ ৬ জনের পাঁচ মাসের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলাম সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ১০ তলা ভবন এবং ময়মনসিংহ গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের ৬ তলা ভবনের কাজে মাটির নিচে সিসি ঢালাই করার সময় নির্ধারিত বালু ব্যবহার করেননি। লাল বালুর পরিবর্তে ২ ভাগ চিকন পলেস্তারার বালু এবং ওপরে আধা ইঞ্চি মোটা বালুর প্রলেপ দিয়ে ঢালাই করান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বালুর টাকা ৬০ ও ৪০ শতাংশ অনুপাতে ভাগ করে নেন এই দুই প্রকৌশলী। এছাড়াও, ময়মনসিংহে সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলামের তত্ত্বাবধানে নির্মিত অন্যান্য ভবনেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইট ম্যানেজার শেখ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল শোসান বিল তুলে দেওয়ার কথা বলে যে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা ফেরত দিচ্ছেন না। টাকা চাইতে গেলে তিনি টালবাহানা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।

গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় সড়কে অভিযোগকারী মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রকৌশলী নাজমুল শোসানের দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা ফেরত চান। এতে বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।

বক্তব্য জানতে সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলামের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকৌশলী নাজমুল শোসান বলেন, ‘আমার সাইটে তাদের কোনো বিল পাওনা আছে কিনা সেটি খুঁজে দেখা লাগবে। আর আমি যদি কারও কাছে টাকা দাবি করে থাকি তাহলে সেটি আমার অফিসের ঊর্ধ্বতন ও প্রকৌশলীরা খতিয়ে দেখবেন।’

গতকাল রোববার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া সমকালকে জানান, ঢাকায় একটি মিটিংয়ে আছেন তিনি। বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ইউএনওর অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর জনগণের প্রতিরোধের ঐতিহাসিক মাইলফলক: প্রিন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


৭ নভেম্বর জনগণের প্রতিরোধের ঐতিহাসিক মাইলফলক: প্রিন্স

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে আধিপত্যবাদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনপ্রতিরোধের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের বিরুদ্ধে। ৪৯ বছরের ব্যবধানে, এই দুই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীদের পতন ঘটেছে। নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতায় ফিরে আসতে সক্ষম হবে না। তিনি জানান, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেম জাগ্রত হওয়ার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পাওয়ার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি হালুয়াঘাট ডিএস মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এই দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের একটি ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সেই সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে আবির্ভূত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, উৎপাদনমুখী উন্নয়ন এবং সবার আগে বাংলাদেশ। আজকের পরিবর্তিত বিশ্বেও সেই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। তিনি জানান, ৭ নভেম্বর দিনটি জাতীয় ইতিহাসে নিজস্ব মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। কেউ এই দিনের গৌরব ম্লান করতে কিংবা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। যারা অন্য দেশের তাঁবেদারি করে, তারাই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ভয় পায়।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের শিক্ষা দেয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। এই দিনের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় সংকট মোকাবেলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। আমাদের স্বার্থ একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থ। আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ’।

আজকের এই বর্ণাঢ্য মিছিল শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি আমাদের ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কিছু নবীন রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হবে না কেন? এ ধরনের প্রশ্ন তুলে তাঁরা প্রকারান্তরে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। তাদের এই বক্তব্য ৭ নভেম্বর বিরোধী শক্তির বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত, বিএনপির জন্মের আগেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি সেই স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করেছে। বিএনপি নতুন করে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লবের স্বীকৃতি দেয়নি। সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান নিজ নিজ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। একটি অন্যটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও অবদানের আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

সমাবেশে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পর একটি মিছিলের কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি হালুয়াঘাট ডিএস মাদরাসা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হালুয়াঘাট উত্তর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হয়।

এখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নাশকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে হাসিনা বলেছিলেন, ‘শেখের বেটি পালায় না’ কিন্তু তিনি পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি বলছেন, ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন। আসলে তিনি ফিরবেন না। ফিরবেন ফিরবেন বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নস্যাৎ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরেনসিক অডিটে আওয়ামী সরকারের জিডিপির তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


ফরেনসিক অডিটে আওয়ামী সরকারের জিডিপির তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে: অর্থমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময়কালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে কিছু গরমিল চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কমিটি ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে এসব অসংগতি শনাক্ত করেছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ একটি কমিটি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনার পর শিগগিরই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।

রোববার জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির বক্তব্যেও একই তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।

দেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনায় নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালন করা হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হলো নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। এটি নিজের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো।" তিনি আরও বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য। তাই বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

ফরেনসিক অডিটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, "অতীতের কোনো উদ্যোগকে আক্রমণ করা এর লক্ষ্য নয়। বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য।" সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া বৈষম্য দূর করা কিংবা সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। যাতে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। সরকার রাজনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতিরও গণতান্ত্রিকীকরণ করতে চায়। অর্থনীতি গণমুখী ও গণতান্ত্রিক না হলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের বিকল্প নেই।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিসংখ্যানকে মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মনগড়া পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। নৌ-শুমারিতে এর বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১৩ হাজার। অথচ প্রকৃত সংখ্যা দুই লাখ ৬৭ হাজার।

উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতের ভুল ও সাজানো তথ্যের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তারা বাদ পড়েছেন। আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। বিগত সরকারের অপশাসনের কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। তাদের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা পৌঁছাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতে জিডিপি যেভাবে নিরূপণ করা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তব ভিত্তি ছিল কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও বিআইডিএসের যৌথ গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে যথেষ্ট গলদ পাওয়া গেছে। এসব অসংগতি প্রমাণসহ জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে ইতোমধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এখন কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউ (ক্যাপি) পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। আগে তথ্য প্রকাশের জন্য মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া তুলে দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসির উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে ২ লাখ ৯১ হাজার আবেদন, ইংরেজিতে সর্বাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


এইচএসসির উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে ২ লাখ ৯১ হাজার আবেদন, ইংরেজিতে সর্বাধিক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন পরীক্ষার্থী। এসব পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে বিষয়ভিত্তিক মোট আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি। ইংরেজি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)।

আজ রোববার সন্ধ্যায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য মোট ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। বিষয়ভিত্তিক আবেদন সংখ্যা ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি। ইংরেজি বিষয়ে আবেদন সংখ্যা কত তা তিনি জানাতে পারেননি, তবে আইসিটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন হয়েছে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সময় ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে আবেদনের সময় বাড়িয়ে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত করা হয়।

গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস করেছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। বিষয় দুটিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনেও ইংরেজি ও আইসিটি এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আগামী ১ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। তবে এ পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন, তা আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি রিহ্যাবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১১ এম


জমির শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি রিহ্যাবের

আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাব দাবি করেছে, জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত। সংগঠনটির বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেল ক্রেতার অর্থ, জমির মালিকানা, ফ্ল্যাটের আইনগত অধিকার এবং ভবনের নিরাপত্তাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ইতোমধ্যে, এই ধরনের ব্যবসায়িক মডেলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রোববার, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল এসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আবাসন খাতে উদ্বেগজনকভাবে একটি ব্যবসায়িক মডেল শুরু হয়েছে, যেখানে জমির নির্দিষ্ট অংশ বিক্রি করে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে ক্রেতা অর্থ বিনিয়োগ করেও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট না পাওয়ার, বৈধ মালিকানা বুঝে না পাওয়ার কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না পাওয়ার সমস্যায় পড়ছেন।

রিহ্যাবের সভাপতি আরও বলেন, তারা বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন না। তবে যৌথ উদ্যোগের নামে এ ধরনের ব্যবসা চলতে দেওয়া যায় না, যেখানে অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের অধিকার, বৈধ মালিকানা, নির্মাণের দায় এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের নিশ্চয়তা নেই, রাজস্ব পরিশোধ ও আইন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলোকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও কারিগরি যাচাই করা জরুরি। প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, নকশা, নির্মাণবিধি, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, কর ও ভ্যাটসহ সব ধরনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। কিন্তু শেয়ারভিত্তিক প্রকল্পে তদারকি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

রিহ্যাব জানিয়েছে, জমির মালিকানা, শেয়ার বিক্রি, ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নির্মাণ ব্যয় ও দখল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। অবিভক্ত অংশের মালিকানা থাকলে ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন এবং পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে শেয়ারভিত্তিক প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা আটকে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্প-সংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাবের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্তের নামে তিন মাস ধরে সংগঠন হিসেবে রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের প্রতি রিহ্যাবের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে তদন্তের অজুহাতে সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু সে কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%