০৯:২৮ পি.এম
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও শিক্ষার্থীও রয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) নকলা পৌরসভা, নকলা ইউনিয়ন, বানেশ্বরদী, উরফা ইউনিয়ন ও টালকী ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের আক্রমণের পাশাপাশি বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে আরো অন্তত ২৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর জলাতঙ্কের টিকা (অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন) গ্রহণ করেছেন। এদিকে, বিকেল বেলায় কুকুরটিকে এলাকাবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ভ্যাকসিন প্রদান রেজিষ্ট্রার খাতার তালিকা অনুযায়ী, পৌরসভার বাজারদী এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আরাব (৫), মানিক মিয়ার মেয়ে নেজাত (১২), আব্দুর রহমানের ছেলে রায়ান (৫), খলিলের মেয়ে মীম (৫) ও ফিরোজ মিয়ার ছেলে রিয়াজ কবির (২০) আহত হয়েছেন। এছাড়া কায়দা এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে ঝিনুক (৯), লূৎফরের ছেলে সজিব (১৩), আব্দুল হালিমের মেয়ে শাহানাজ (২৬), শামীমের মেয়ে তোহা (১৩) ও আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মর্জিনা (৪৫) হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার মিরাজ আলীর ছেলে জিহাদ (৯) এবং ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মিন্টু মিয়া (৫৬), নকলা ইউনিয়নের ধনাকুশা গ্রামের সেকান্দর আলীর স্ত্রী ছকিনা বেগম (৩৫) এবং ছত্রকোনা এলাকার নছর আলীর ছেলে আতর আলী (৫৫) ও অন্যান্যরা আক্রান্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে এবং বিড়ালের আচড়ে আক্রান্ত এরকম ২৮ জন জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন মারাত্মক জখম হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে জরুরি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. মো. নাজমুল হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে কুকুরের কামড়ে ও বিড়ালের আচড়ে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘এর আগে কুকুরের কামড়ে ও বিড়ালের আচড়ে একদিনে এত রোগী নকলা হাসপাতালে আসার নজির নেই।’ তিনি আরও জানান, কুকুরের কামড়ে ও বিড়ালের আচরের ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আসতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। নিয়ম মেনে অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে আসে। তারপর তিনি নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন নকলা হাসপাতালে সরবরাহের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘নকলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ আছে। আহতদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে।’ তাছাড়া, হাসপাতালের বাইরের যদি কারো ঔষধ কেনার প্রয়োজন হয় তাহলে পৌরসভা থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
জরুরি জনসেবা বিবেচনায় এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনেকে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। জনগণের মধ্যে তাদের প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন