০২:৪৫ পি.এম
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে যে ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরের প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এসেছে।
তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিল ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও, যিনি কারাবন্দী, রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তবে তিনি এই পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘বাবাকে হত্যা করতে চাইছে’ : ইমরান খানের ছেলের সতর্কবার্তা
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এই তথ্য জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দিতে ভিসা প্রদান করা হবে।
সিএনএন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার পৃথকভাবে জানায়, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।
ডানপন্থী এ সিনেটর সোমবার জানান, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন।
ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’
আরও পড়ুন: দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে নামাজ বন্ধ করল সরকার
তবে এএফপির দেখা ইতালির একটি সংসদীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে তার ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে।
নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর ব্রাজিল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মারিনহো।
মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।’ মারিনহো বলেন, ‘আজ সকালে তার কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা পেয়েছি।’
তিনি জানিয়েছিলেন, আজ কিছু সময় অপেক্ষা করবেন, তারপর আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর আর কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের এটাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, দাবি বিরোধীদের
পরাজিত প্রার্থীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন লুলা। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের সময় তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে লুকিয়ে চলে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে। ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়ার এ কাজ লজ্জাজনক।’
ফ্লাভিও বলসোনারো সোমবার বলেছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তাকে ভয় দেখানোর কৌশল। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই আমার কখনো ছিল না।’
ফ্লাভিওর ভাই এডুয়ার্ডো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পডকাস্টে এডুয়ার্ডো বলেন, ফ্লাভিওর কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান তদন্তের কারণে নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আন্তর্জাতিক নারী সংসদ ও আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন