০৩:৩৯ পি.এম
যুক্তরাজ্যে মে এবং জুন মাসে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহের ফলে দেশটিতে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, ২১ থেকে ২৯ মে-র মধ্যে তাপদাহের কারণে ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার ২০০ জন।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং চরম আবহাওয়াকালীন অতিরিক্ত মৃত্যুর ওপর করা বিভিন্ন গবেষণার পর এমস তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহের সময়ের মৃত্যুর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তারা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করবে।
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শেখ পদবিধারীদের নামের সংখ্যা সর্বাধিক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ
চলতি বছরে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বড় অংশে ইতোমধ্যে দুটি রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা মে মাসে ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুন মাসে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।
মেট অফিসের জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন (জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণকারী) দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সব অঞ্চলের জন্য এগুলো ছিল একটি চরম মাত্রার তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বছরের কোন সময়ে এবং কতটা আগেভাগে এগুলো আঘাত হেনেছে, তার বিচারে এগুলো ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
বিজ্ঞানীরা তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র ও ঘন ঘন করে তোলার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন না থাকলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যতটা হতো, তার চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি’ গত বছরই সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিণতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ‘প্রস্তুত নয়’। ইউকেএইচএসএ -এর ‘সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ সিকিউরিটি’-র লিয়া বেরাং ফোর্ড বলেছেন, সোমবার প্রকাশিত এই গবেষণাটি ‘চরম তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকির মাত্রা এবং আমাদের সুস্থতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৯২ শতাংশ বাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে পারে। এতে আরও বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারের উচিত কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্ধারণ করা এবং হাসপাতাল ও স্কুলের মতো সরকারি ভবনগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া।
যুক্তরাজ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের সময় মহাদেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
‘ইউরোমোমো’ যা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থিত একটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এই মৃত্যুগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে; এই বয়সসীমার মধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯,০০০।
আরও পড়ুন: জার্মানির আইনমন্ত্রী: সহিংসতা সত্ত্বেও জেন-জিদের বিক্ষোভের পক্ষে
বিজ্ঞানীরা জুনে ইউরোপের ২৭টি দেশের জাতীয় মৃত্যুহার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাদের মতে, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মতো অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়াই ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ১০ হাজার ৬৫০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে সম্ভবত তাপপ্রবাহই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন