ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা মিয়ানমারের


৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা মিয়ানমারের

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকার জানাচ্ছে, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। এই জানালার একটি মূল কারণ হলো, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নবম বছরে পদার্পণকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে একটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালানোর পরে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নৃশংস অভিযান শুরু করে। সেই হুমকির মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমান্ত পার করতে বাধ্য হন।

গত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একের পর এক সহিংসতার কারণে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন। সেনাবাহিনীর এই অভিযান থেকে নতুন করে আরও সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমাজ মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ১৩৫টি স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করে, যা বোঝায় যে তারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী।

মিয়ানমার সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জন রোহিঙ্গাকে যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত 'সন্ত্রাসবাদী' কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল হয়, তবে যাচাইকৃত সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে মিয়ানমার।

এছাড়া, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাখাইন থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার যে দাবি রয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর পাঁচ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দুই লাখেরও বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই থেকে যায়।

আরও পড়ুন: সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন প্রতিমন্ত্রী টুকু

২০১৮ সালে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ ২ বছর মেয়াদী একটি প্রত্যাবাসন চুক্তিতে সাইন করে। তবে ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর, দেশে সামরিক শাসনবিরোধী সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। ফলে প্রত্যাবাসনের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে, রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, যা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সেনাবাহিনী থেকে বিশাল এলাকা ছিনিয়ে নিয়ে כיום রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে আরাকান আর্মি।

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোর অবস্থা, আন্তর্জাতিক সাহায্যের হ্রাস এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরার অনিশ্চয়তার কারণে বহু রোহিঙ্গা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জুলাইয়ের শেষের দিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

আরও পড়ুন: নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

তবে তৎকালীন সময়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং এপি'কে জানান, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কেবল মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটক এবং যাচাইকৃত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি জানান, সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে—এমন প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগরীর পুকুর সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


নগরীর পুকুর সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেছেন, নগরীর পুকুরগুলো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুর পরিষ্কার করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউরিতে কাজী বাড়ি পুকুর পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে এবং সবার সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই পরিচ্ছন্নতার কাজ এগিয়ে নিতে চাই। শুধু সরকারি উদ্যোগে একটি পরিচ্ছন্ন শহর বা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এসময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরীর বিভিন্ন পুকুর পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। পরিষ্কার করা পুকুরগুলোতে পরবর্তীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৫ জুলাই থেকে সারা জেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কাজী বাড়ি পুকুর পরিষ্কার কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় ট্রাকচাপায় ডেলিভারি বয়ের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


সাতক্ষীরায় ট্রাকচাপায় ডেলিভারি বয়ের মৃত্যু

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছেন আবু রায়হান (৩৫) নামের এক যুবক। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু রায়হান শ্যামনগর উপজেলার কাটখালী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি হ্যামকো কোম্পানির ডেলিভারি বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে হ্যামকো কোম্পানির মালামাল নিয়ে একটি ডেলিভারি ভ্যানে চড়ে নলতার দিকে যাচ্ছিলেন আবু রায়হান। পথে কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক ডেলিভারি ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আবু রায়হান সড়কে ছিটকে পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেলসেবাকে ধূমপান-তামাকমুক্ত করতে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


রেলসেবাকে ধূমপান-তামাকমুক্ত করতে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

চট্টগ্রাম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : রেল পরিষেবা ধূমপান ও তামাকমুক্ত নিশ্চিত করতে 'তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫'-এর সংশোধনী আইন, ২০২৬, 'রেলওয়ে আইন, ১৮৯০' এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ চট্টগ্রামের সিআরবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ রেলওয়েকে তামাকমুক্ত করার উদ্যোগের (আইএমবিআরটিএফ) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের উদ্যোগে প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন হয়।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এই প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেল সেবার মান উন্নয়নের জন্য ধূমপানমুক্ত একটি পরিবেশ একেবারে গুরুত্বপূর্ণ। রেলওয়ে প্রাঙ্গণে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

তিনি বলেন, রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনে যদি ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এটি বাংলাদেশের রেলওয়ের মিশন ও ভিশনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

সচিব স্টেশনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং চলন্ত ট্রেনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণের সময় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী, রেলওয়ে আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পূর্ণরূপে ধূমপান ও তামাকমুক্ত রেল পরিষেবায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেলওয়ে হাসপাতাল, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), বিভিন্ন স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানি হামলায় বাহরাইনের ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, মধ্যপ্রাচ্যে রসদ সংকটে মার্কিন নৌবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


ইরানি হামলায় বাহরাইনের ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, মধ্যপ্রাচ্যে রসদ সংকটে মার্কিন নৌবাহিনী

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটিতে ইরানি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইটান্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাহরাইনের ওই কৌশলগত ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী দিয়াগো গারসিয়া দ্বীপে রসদ সরবরাহের কেন্দ্র স্থানান্তর করতে হয়েছে।

এই ভৌগোলিক দূরত্বের পরিবর্তন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীগুলোর ওপর।

যার ফলে সম্প্রতি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীতে কর্মরত নাবিকদের মধ্যে তীব্র সরবরাহ সংকট এবং মানসিক চাপের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইরানের পাল্টা জবাবে বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই আক্রমণ পরিচালনা করেছিল।

এই হামলায় বাহরাইনের ওই সামরিক স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোয় রসদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

আঞ্চলিক বন্দরগুলোতে আরও হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি মূল হাবটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী এক অভূতপূর্ব লজিস্টিক সংকটের মুখোমুখি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন শেষ পর্যন্ত দিয়েগো গারসিয়া দ্বীপটিকে বিকল্প লজিস্টিক হাব হিসেবে বেছে নেয়।

ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই কৌশলগত দ্বীপটি ওমান উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোতে প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছানোর পুরো দায়িত্ব এখন এই দূরবর্তী দ্বীপটির ওপর এসে পড়েছে।

বিশেষ করে, যুদ্ধবিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকর্মী থেকে শুরু করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখতে নিয়োজিত সৈন্যদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাতে এখন অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে।

ফলে পুরো সাপ্লাই চেইনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

বাহরাইনের লজিস্টিক হাব অকার্যকর হয়ে পড়ার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাগরে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োজিত মার্কিন রণতরীগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে।

প্রায় ৫০০০ নাবিক নিয়ে গঠিত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীটি টানা প্রায় নয় মাস ধরে সাগরে মোতায়েন রয়েছে।

এত দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় রসদের ঘাটতির কারণে ক্রুদের মধ্যে দেখা দেওয়া পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও উদ্বেগ শুরু হয়েছে।

কানেকটিকাটের ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাঠানো এক চিঠিতে এই রণতরীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তার মতে, জাহাজটিতে মৌলিক রসদের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%