০৮:০০ পি.এম
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটিতে ইরানি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইটান্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাহরাইনের ওই কৌশলগত ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী দিয়াগো গারসিয়া দ্বীপে রসদ সরবরাহের কেন্দ্র স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এই ভৌগোলিক দূরত্বের পরিবর্তন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীগুলোর ওপর।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবেদ আবু শেহাদেহ: ‘ভয় পাওয়া চলবে না, আমরা সঠিক পথেই আছি’
যার ফলে সম্প্রতি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীতে কর্মরত নাবিকদের মধ্যে তীব্র সরবরাহ সংকট এবং মানসিক চাপের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইরানের পাল্টা জবাবে বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই আক্রমণ পরিচালনা করেছিল।
এই হামলায় বাহরাইনের ওই সামরিক স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোয় রসদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, গ্রেপ্তার ৩ জন
আঞ্চলিক বন্দরগুলোতে আরও হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি মূল হাবটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী এক অভূতপূর্ব লজিস্টিক সংকটের মুখোমুখি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন শেষ পর্যন্ত দিয়েগো গারসিয়া দ্বীপটিকে বিকল্প লজিস্টিক হাব হিসেবে বেছে নেয়।
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই কৌশলগত দ্বীপটি ওমান উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোতে প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছানোর পুরো দায়িত্ব এখন এই দূরবর্তী দ্বীপটির ওপর এসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক, যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ করে, যুদ্ধবিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকর্মী থেকে শুরু করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখতে নিয়োজিত সৈন্যদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাতে এখন অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে।
ফলে পুরো সাপ্লাই চেইনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
বাহরাইনের লজিস্টিক হাব অকার্যকর হয়ে পড়ার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাগরে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োজিত মার্কিন রণতরীগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে।
প্রায় ৫০০০ নাবিক নিয়ে গঠিত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীটি টানা প্রায় নয় মাস ধরে সাগরে মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তার
এত দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় রসদের ঘাটতির কারণে ক্রুদের মধ্যে দেখা দেওয়া পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও উদ্বেগ শুরু হয়েছে।
কানেকটিকাটের ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাঠানো এক চিঠিতে এই রণতরীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তার মতে, জাহাজটিতে মৌলিক রসদের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০ বস্তা ভেজাল পশুখাদ্য জব্দ, রিটন মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন