ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে নতুন ‘পরিবেশ ফি’


জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে নতুন ‘পরিবেশ ফি’

দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি ও জনপ্রতি ১০০ টাকা ‘পরিবেশ ফি’ আরোপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর জাহাজভাড়া ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৪,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের নামে আদায় করা ১০০ টাকার ফি কতটা যৌক্তিক এবং এর অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অন্যদিকে, জাহাজ পরিচালনার ব্যয় বিবেচনা না করে শুধু ভাড়ার অঙ্ক দেখে সমালোচনা করা ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীদের নেতা আকতার নুর। তিনি বলেন, ডকিং, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, লাইসেন্স, অনুমতি ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের খাল খনন উদ্যোগ: ত্রাণমন্ত্রী

ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক পর্যটক দাবি করছেন, বাড়তি ভাড়া তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে জাহাজ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ।

গণমাধ্যমকর্মী শামসুল আলম শ্রাবণ ‘পরিবেশ ফি’ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ‘চাঁদাবাজির নতুন নাম পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। সেন্টমার্টিনে যেতে হলে পর্যটককে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হবে। কী তামাশা শুরু করল এরা?’

ছাত্রদল নেতা সাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছর জাহাজভাড়া ছিল ৩,৫০০ টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৪,২০০ টাকা। তার অভিযোগ, জাহাজ সিন্ডিকেটই কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। তবে জাহাজ পরিচালনাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভাড়া বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পরিচালন ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমালোচনার জবাবে আকতার নুর বলেন, জাহাজের ডকিং বাবদ ১০ লাখ নয়, কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এছাড়া ১২ মাসের ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদই প্রায় চার কোটি টাকা খরচ করতে হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, শর্তাবলী প্রকাশ

তিনি জানান, ডকিং ও বেতনের বাইরে রক্ষণাবেক্ষণ, অফিস পরিচালনা, এজেন্ট কমিশন, ভয়েজ লাইসেন্স, বিআইডব্লিউটিএর নৌপথ সংরক্ষণ ফি, এমএমডির সার্ভে সনদ, জেলা প্রশাসনের অনুমতি এবং একাধিক অফিস পরিচালনায়ও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।

আকতার নুরের দাবি, সব খাতের ব্যয় যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, সেই অর্থ দিয়ে একটি ছোট আকারের লঞ্চ কেনা সম্ভব। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু নতুন সাংবাদিক প্রবাদটি ভুলে গেছেন—আদার ব্যাপারী জাহাজের খোঁজ নিচ্ছে তাই।’

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাহাজ পরিচালনাকারীদের ব্যয়ের এ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আর্থিক নথি প্রকাশ করা হলে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে জাহাজের ধারণক্ষমতা, আসনপ্রতি ভাড়া, মৌসুমভিত্তিক যাত্রীসংখ্যা এবং পরিচালন ব্যয়ের তুলনামূলক হিসাব পর্যালোচনা করে ভাড়ার যৌক্তিকতা যাচাই করা সম্ভব। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও খতিয়ে দেখতে পারে।

পরিবেশ ফি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি

আরও পড়ুন: মানিচেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও জনপ্রতি ১০০ টাকা ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ফি’ আদায়ে সরকারি ভিত্তি, অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতি এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন সমালোচকরা।

তাদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষার নামে অর্থ আদায় করা হলে সেই অর্থের ব্যবহার, বাস্তবায়িত সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং এর ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে স্পষ্ট তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমালোচকদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ যেন পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে ফি আদায়ের যৌক্তিকতা ও বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই মনে করেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একদিকে জাহাজ পরিচালনাকারীদের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব যাচাই, অন্যদিকে ভাড়া ও ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

সেন্টমার্টিনের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে

এদিকে ১ নভেম্বরের থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও নির্ধারিত দিন থেকেই পর্যটকরা সেখানে যেতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে দ্বীপে ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পর্যটকদের জাহাজ চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: মিডল্যান্ড ব্যাংকের ১৭তম শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি সভা অনুষ্ঠিত

গতকাল সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ্য জানা যায়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালের সাক্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওপুরা গ্রামের সেই দৃষ্টিনন্দন মাটির দোতলা বাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


কালের সাক্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওপুরা গ্রামের সেই দৃষ্টিনন্দন মাটির দোতলা বাড়ি

 

আধুনিকতার ছোঁয়া ও ইটের কংক্রিতের দালানকোঠার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। তবে এর মাঝেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরা গ্রামে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়ি। কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা এই বাড়িটি দেখতে এবং এর গ্রামীণ স্থাপত্যশৈলী উপভোগ করতে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমান।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়ি বলতেই একতলা বা সাধারণ কুঁড়েঘরের কথা মাথায় আসে। কিন্তু দেওপুরা গ্রামের এই বাড়িটি দুই তলা বিশিষ্ট হওয়ায় এটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ঐতিহ্যবাহী এই দোতলা মাটির বাড়ির ছাদ টিনের তৈরি এবং এর দেওয়ালগুলো বেশ চওড়া ও মজবুত মাটি দিয়ে সুনিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির সামনে মাথা বাড়িয়ে থাকা সবুজ গাছপালা এবং গ্রামীণ মেঠো পথের পাশেই এর অবস্থান বাড়িটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মাটির তৈরি এসব ঘরের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো গরমে ঠান্ডা এবং শীতে বেশ উষ্ণ থাকে। আধুনিক আধুনিকতার যুগে যেখানে ইট-সিমেন্টের দালানে এসসি বা ফ্যানের বাতাস ছাড়া টেকা দায়, সেখানে এই মাটির ঘরগুলোতে প্রকৃতির সঙ্গেই এক ধরনের আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকে।

আধুনিকতার স্পর্শে ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্রামীণ এই অমূল্য সম্পদগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। দেওপুরা গ্রামের এই পুরনো ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়িটি আমাদের গ্রামীণ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবহমান বাংলার সোনালী অতীতের স্মৃতি বহন করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বায়ুমান স্কোর ১৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ এম


ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বায়ুমান স্কোর ১৬১

জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে, আজ ছুটির দিনেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৬১। এই স্কোর নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রাপ্ত হয়েছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, এদিন বিশ্বের বায়ুদূষণ শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ, যার বায়ুমান স্কোর ২১৬। এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর রয়েছে, যার স্কোর ১৭০। তৃতীয় স্থানে ভারতের মুম্বাই ১৬৫ স্কোর নিয়ে এবং চতুর্থ স্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৬২ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। পঞ্চম স্থানে থাকা ঢাকার স্কোর ১৬১।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে সেটি ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে সেটি ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম: প্র্যাবের নতুন কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম: প্র্যাবের নতুন কমিটি

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক প্রীতি সম্মেলনে প্র্যাবের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান টিপু নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।

দেশের ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সংগঠন পাবলিক রিলেশনস অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (প্র্যাব) নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াহিয়া মির্জা। তিনি বর্তমানে সিটি ব্যাংক পিএলসির হেড অব পিআর অ্যান্ড মিডিয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম।

নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আতাউর রহমান, সদ্যবিদায়ী সভাপতি শামসুদ্দোহা শিমু এবং সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ স্বপনসহ সংগঠনটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।

২০১১ সালে দেশের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্র্যাব যাত্রা শুরু করে। সাধারণত ৩৩ সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটি পরিচালিত হয়, যা প্রতি দুই বছর পর পর গঠন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জনসংযোগ ও ব্র্যান্ডিং প্রধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ জনসংযোগ কর্মকর্তারা এ কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে মনিরুজ্জামান টিপু বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে ৩৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে।’

প্রীতি সম্মেলনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগে কর্মরত দুই শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরের বিজ্ঞানী পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি, বাড়ছে কৌতূহল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


জয়পুরের বিজ্ঞানী পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি, বাড়ছে কৌতূহল

ভারতের রাজস্থানের এক বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় ‘রসশাস্ত্র’ বা আলকেমির সূত্র অনুসরণ করে পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে পারদের উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এই দাবি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞানী মহলের একটি অংশের মতামত হলো, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া এই ফলাফলকে আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়।

জানা গেছে, জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার পর নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ সোনা, ০.৪৮ শতাংশ রুপা এবং ০.৪৮ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই পরিমাণ বিশুদ্ধতা প্রায় ২৩.৭৭ ক্যারেট সোনার সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষক লাল বাহাদুর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারদের বিশুদ্ধকরণ ও ধাতু রূপান্তর নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্র এবং আচার্য নাগার্জুনের গবেষণা ও রচনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরীক্ষা করেছেন। বিআইটিএস পিলানি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই গবেষক পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, পরীক্ষায় কোনো তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।

তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। পারদের নমুনায় পাওয়া সোনা কি আগে থেকেই অশুদ্ধি হিসেবে উপস্থিত ছিল, নাকি পরীক্ষার সময় বাইরের কোনো উৎস থেকে সোনা জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই করতে নমুনার বিস্তারিত উপাদান বিশ্লেষণ, পুনরায় পরীক্ষা, এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে, এই গবেষণার ফলাফল এখনও কোনো পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। ফলে দাবিটির পক্ষে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও সামনে আসেনি। জয়পুরের মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমএনআইটি)-তে এ বিষয়ে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পারদ ও সোনা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা মৌল। পারদের পরমাণুতে ৮০টি প্রোটন রয়েছে, যেখানে সোনার পরমাণুতে ৭৯টি প্রোটন বিদ্যমান। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই পারদকে সোনায় রূপান্তর করতে হলে পারমাণবিক স্তরের বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্রের সূত্র ধরে পারদ থেকে সোনা তৈরির এই দাবি নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%